০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

শাহীন ও বাবুল মালুমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

মাহবুবুর রহমান
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে।

মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

রূপগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, দানবীর, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব লায়ন শাহীন মালুম ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মালুমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ‘রায়হান ইসলাম’ (Rayhan Islam) নামের একটি ফেসবুক আইডি খুলে এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে শাহীন মালুমের ছবি সম্পাদনা করে এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মালুম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লায়ন শাহীন মালুম ও বাবুল মালুম যৌথভাবে মালুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, পূর্বাচল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ভুলতা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড, মালুম হাউজিং লিমিটেড, পূর্বাচল মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড, পূর্বাচল মালুম সিটি, মালুম গ্রিন কসমেটিকস অ্যান্ড কেমিক্যালস লিমিটেড (প্রস্তাবিত), পূর্বাচল মালুম ইলিশিয়া পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড (পৈতৃক বাগানবাড়ি নিয়ে প্রস্তাবিত), মালুম ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড (প্রস্তাবিত), মালুম প্রোপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেড, BAB ব্রিক ফিল্ড লিমিটেড ও MAB ব্রিক ফিল্ড লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অসংখ্য বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মালুম পরিবারের সন্তান।

শাহীন মালুম ও তাঁর বড় ভাই দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মালুমের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে ‘রায়হান ইসলাম’ (Rayhan Islam) নামের ফেসবুক আইডি থেকে এআই দিয়ে ছবি সম্পাদনা করে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, এসব প্রচারের মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, যাঁদের তাঁরা ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন এসব অপপ্রচারে যুক্ত রয়েছেন।

১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই, অর্থাৎ প্রায় ৩২ বছর আগে, শাহীন মালুম পূর্বাচল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও মালুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে জমির ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসায়িক সততা, স্বচ্ছতা ও পারিবারিক শিক্ষার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি নেই। তবে এ তথ্য সংশ্লিষ্ট থানার নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একই ফেসবুক আইডি থেকে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ও আপত্তিকর অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাবুল মালুমের দাবি, তিনি ১৯৮৬ সালে জমির ব্যবসা শুরু করেন, যখন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ২০০৯ সালে তিনি দুটি ইটভাটা চালু করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমির ব্যবসায় তাঁর প্রায় ৪০ বছরের এবং ইটভাটা ব্যবসায় প্রায় ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাবুল মালুম ও শাহীন মালুমের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং কারও সঙ্গে ব্যবসায়িক শত্রুতা সৃষ্টি করেননি। তাঁদের মতে, কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়; তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা যেতে পারে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান অপপ্রচারের মূল কারণ পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধ। তাঁদের দাবি, আজিজুল মালুমের মা মোক্তেন বিবি ও বাবা সামসুল হক মালুমের বিরুদ্ধে আজিজুল মালুমের দাদি গোলেছা বিবিকে জীবিত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে গোলেছা বিবি নিজের নামে রেকর্ডকৃত ১৭৬ শতাংশ জমি আজিজুল মালুমের পরিবারকে না দিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই বাবুল মালুম, বাদল মালুম, শাহীন মালুম ও সাকিরুল মালুমকে দান করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ৬ জুলাই ১৬২৭ নম্বর দানপত্র দলিলের মাধ্যমে চার ভাইয়ের নামে ওই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, জমির এ বিরোধ থেকেই বর্তমান অপপ্রচারের সূত্রপাত। তবে এসব অভিযোগ, জমির মালিকানা ও দানপত্রের বৈধতা সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইসাপেক্ষ।

শাহীন মালুমের বক্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিকভাবে জমিজমা ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি স্কুলজীবন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল আত্মনির্ভরশীলভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। তিনি ১৯৯৩ সালে এসএসসি, ১৯৯৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৯৮ সালে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর মালুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। একই বছর পূর্বাচল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত হন। তাঁর দাবি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করে ধীরে ধীরে মালুম গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ব্যবসায়িক সততা, স্বচ্ছতা, পারিবারিক শিক্ষা, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এ অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে তাঁর বক্তব্য।

শাহীন মালুমের দাবি, ২০১৫ সালে বংশীয় লোকজনের জমি নিয়ে পূর্বাচল মালুম সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, এলাকাবাসীর অনিচ্ছার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রকল্পটি বন্ধ করে দেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে ওই এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকল্প রয়েছে। স্থানীয় অনেকের মতে, মালুম সিটি চালু থাকলে জমির ন্যায্য মূল্য এককালীন পাওয়া যেত এবং হয়রানি কম হতো। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্টদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; প্রকল্প বন্ধের কারণ ও জমির মূল্যসংক্রান্ত বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শাহীন মালুমের দাবি, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় তিনি তিনবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করেছেন বলে তাঁর বক্তব্য।

শাহীন মালুমের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে রূপগঞ্জের হাবিব নগরে পূর্বাচল মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, মোট ৩৩ জন যৌথভাবে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে বিনিয়োগ করে থাকেন। তাই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকাকে অপরাধ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

কাঞ্চন পৌরসভার বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে শাহীন মালুমকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শাহীন মালুমের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও একসঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা অস্বাভাবিক নয়। এ বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সঙ্গে শাহীন মালুমকে জড়িয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শাহীন মালুমের পক্ষের দাবি, মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁকে অর্থের বিনিময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন, নির্বাচনে জয়লাভ কিংবা পাঞ্জাবি নেওয়ার মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে প্রচার করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তাঁরা মনে করেন। এ ধরনের প্রচারের পরিবর্তে সত্যতা যাচাই করে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

শাহীন মালুম ও বাবুল মালুমের বাড়ি রূপগঞ্জের শিমুলিয়া গ্রামে, যা রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের বাইরে বলে তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্বাচলে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণের পর শাহীন মালুম আদিবাসী কোটায় তিন কাঠার একটি প্লট পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ভেতরে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণের সূত্রে আরও অনেক পরিবার প্লট পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে বরাদ্দের নীতিমালা, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। শাহীন মালুমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তির নামে একটির বেশি প্লট বরাদ্দের বিধিনিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পিতার নাম ও ঠিকানা দিয়ে রাজউকের নথি যাচাই করলে একাধিক প্লট বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাঁদের দাবি, প্লট বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ তোলার আগে সরকারি নথি যাচাই করা উচিত।

শাহীন মালুমের স্ত্রী বিপাশা মালুমকে জড়িয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বিপাশা মালুম একজন গৃহিণী এবং তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। শুধু শাহীন মালুমের স্ত্রী হওয়ার কারণে তাঁকে জড়িয়ে পরিবারের ঐতিহ্য ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ী শাহীন মালুম ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মালুমের দাবি, তাঁদের জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক অবস্থানের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের পারিবারিক, ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির পরিচালনাকারী ও যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

শাহীন ও বাবুল মালুমের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মাহবুবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

রূপগঞ্জের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, দানবীর, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব লায়ন শাহীন মালুম ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মালুমের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। ‘রায়হান ইসলাম’ (Rayhan Islam) নামের একটি ফেসবুক আইডি খুলে এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে শাহীন মালুমের ছবি সম্পাদনা করে এসব তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, মালুম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব লায়ন শাহীন মালুম ও বাবুল মালুম যৌথভাবে মালুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, পূর্বাচল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, ভুলতা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেড, মালুম হাউজিং লিমিটেড, পূর্বাচল মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড, পূর্বাচল মালুম সিটি, মালুম গ্রিন কসমেটিকস অ্যান্ড কেমিক্যালস লিমিটেড (প্রস্তাবিত), পূর্বাচল মালুম ইলিশিয়া পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড (পৈতৃক বাগানবাড়ি নিয়ে প্রস্তাবিত), মালুম ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড (প্রস্তাবিত), মালুম প্রোপার্টিজ অ্যান্ড ডেভেলপার লিমিটেড, BAB ব্রিক ফিল্ড লিমিটেড ও MAB ব্রিক ফিল্ড লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অসংখ্য বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের সম্ভ্রান্ত মালুম পরিবারের সন্তান।

শাহীন মালুম ও তাঁর বড় ভাই দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মালুমের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে ‘রায়হান ইসলাম’ (Rayhan Islam) নামের ফেসবুক আইডি থেকে এআই দিয়ে ছবি সম্পাদনা করে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, এসব প্রচারের মাধ্যমে পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, যাঁদের তাঁরা ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন এসব অপপ্রচারে যুক্ত রয়েছেন।

১৯৯৩-১৯৯৪ অর্থবছরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পের শুরু থেকেই, অর্থাৎ প্রায় ৩২ বছর আগে, শাহীন মালুম পূর্বাচল ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও মালুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে জমির ব্যবসাসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেন। তাঁদের বক্তব্য, ব্যবসায়িক সততা, স্বচ্ছতা ও পারিবারিক শিক্ষার কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি নেই। তবে এ তথ্য সংশ্লিষ্ট থানার নথি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন। একই ফেসবুক আইডি থেকে দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ও আপত্তিকর অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বাবুল মালুমের দাবি, তিনি ১৯৮৬ সালে জমির ব্যবসা শুরু করেন, যখন পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ২০০৯ সালে তিনি দুটি ইটভাটা চালু করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জমির ব্যবসায় তাঁর প্রায় ৪০ বছরের এবং ইটভাটা ব্যবসায় প্রায় ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাবুল মালুম ও শাহীন মালুমের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং কারও সঙ্গে ব্যবসায়িক শত্রুতা সৃষ্টি করেননি। তাঁদের মতে, কোনো ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা না থাকাটা অস্বাভাবিক নয়; তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা যেতে পারে।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান অপপ্রচারের মূল কারণ পারিবারিক জমিসংক্রান্ত বিরোধ। তাঁদের দাবি, আজিজুল মালুমের মা মোক্তেন বিবি ও বাবা সামসুল হক মালুমের বিরুদ্ধে আজিজুল মালুমের দাদি গোলেছা বিবিকে জীবিত অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে গোলেছা বিবি নিজের নামে রেকর্ডকৃত ১৭৬ শতাংশ জমি আজিজুল মালুমের পরিবারকে না দিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই বাবুল মালুম, বাদল মালুম, শাহীন মালুম ও সাকিরুল মালুমকে দান করেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালের ৬ জুলাই ১৬২৭ নম্বর দানপত্র দলিলের মাধ্যমে চার ভাইয়ের নামে ওই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, জমির এ বিরোধ থেকেই বর্তমান অপপ্রচারের সূত্রপাত। তবে এসব অভিযোগ, জমির মালিকানা ও দানপত্রের বৈধতা সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইসাপেক্ষ।

শাহীন মালুমের বক্তব্য অনুযায়ী, পারিবারিকভাবে জমিজমা ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তিনি স্কুলজীবন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল আত্মনির্ভরশীলভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। তিনি ১৯৯৩ সালে এসএসসি, ১৯৯৫ সালে এইচএসসি এবং ১৯৯৮ সালে ডিগ্রি পাস করেন। এরপর মালুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। একই বছর পূর্বাচল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত হন। তাঁর দাবি, বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করে ধীরে ধীরে মালুম গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ব্যবসায়িক সততা, স্বচ্ছতা, পারিবারিক শিক্ষা, মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি এ অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে তাঁর বক্তব্য।

শাহীন মালুমের দাবি, ২০১৫ সালে বংশীয় লোকজনের জমি নিয়ে পূর্বাচল মালুম সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, এলাকাবাসীর অনিচ্ছার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি প্রকল্পটি বন্ধ করে দেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে ওই এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের প্রকল্প রয়েছে। স্থানীয় অনেকের মতে, মালুম সিটি চালু থাকলে জমির ন্যায্য মূল্য এককালীন পাওয়া যেত এবং হয়রানি কম হতো। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্টদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে; প্রকল্প বন্ধের কারণ ও জমির মূল্যসংক্রান্ত বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

শাহীন মালুমের দাবি, ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময় তিনি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় তিনি তিনবার করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বলেও জানিয়েছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করেছেন বলে তাঁর বক্তব্য।

শাহীন মালুমের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে রূপগঞ্জের হাবিব নগরে পূর্বাচল মেডিলাইফ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর দাবি, মোট ৩৩ জন যৌথভাবে এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে বিনিয়োগ করে থাকেন। তাই ভিন্ন রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকাকে অপরাধ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই বলে তিনি মনে করেন।

কাঞ্চন পৌরসভার বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে শাহীন মালুমকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শাহীন মালুমের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও একসঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করা অস্বাভাবিক নয়। এ বিষয়ে প্রচারিত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সঙ্গে শাহীন মালুমকে জড়িয়ে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি সম্পাদনা করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শাহীন মালুমের পক্ষের দাবি, মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তাঁকে অর্থের বিনিময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন, নির্বাচনে জয়লাভ কিংবা পাঞ্জাবি নেওয়ার মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িয়ে প্রচার করা বাস্তবসম্মত নয় বলে তাঁরা মনে করেন। এ ধরনের প্রচারের পরিবর্তে সত্যতা যাচাই করে তথ্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

শাহীন মালুম ও বাবুল মালুমের বাড়ি রূপগঞ্জের শিমুলিয়া গ্রামে, যা রাজউকের পূর্বাচল উপশহরের বাইরে বলে তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্বাচলে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণের পর শাহীন মালুম আদিবাসী কোটায় তিন কাঠার একটি প্লট পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ভেতরে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণের সূত্রে আরও অনেক পরিবার প্লট পেয়েছে। তবে এ বিষয়ে বরাদ্দের নীতিমালা, যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। শাহীন মালুমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী একজন ব্যক্তির নামে একটির বেশি প্লট বরাদ্দের বিধিনিষেধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পিতার নাম ও ঠিকানা দিয়ে রাজউকের নথি যাচাই করলে একাধিক প্লট বরাদ্দের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব। তাঁদের দাবি, প্লট বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ তোলার আগে সরকারি নথি যাচাই করা উচিত।

শাহীন মালুমের স্ত্রী বিপাশা মালুমকে জড়িয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বিপাশা মালুম একজন গৃহিণী এবং তাঁর কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। শুধু শাহীন মালুমের স্ত্রী হওয়ার কারণে তাঁকে জড়িয়ে পরিবারের ঐতিহ্য ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

ব্যবসায়ী শাহীন মালুম ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল মালুমের দাবি, তাঁদের জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক অবস্থানের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁদের পারিবারিক, ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে তাঁরা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডির পরিচালনাকারী ও যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা প্রয়োজন।