০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

বাগমারার ভোটের মাঠে বদলের হাওয়া, মুখোমুখি লড়াইয়ে সম্ভাবনা

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময়ঃ ০১:১৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১১৪ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে জমে উঠেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত রাজনৈতিক সমীকরণে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, যা বদলে দিতে পারে এই আসনের চিরচেনা রাজনৈতিক চিত্র।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের মোট আয়তন ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার। এই আসনে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। বিপুলসংখ্যক ভোটার ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে এ আসনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীকে। দুই প্রার্থীর গণসংযোগ, পথসভা ও জনসম্পৃক্ততায় মুখর পুরো বাগমারা।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তাজুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় তাদের তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এক সময় এই আসন জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্বে ছিল। তবে চলতি নির্বাচনে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে এবারের মূল লড়াই কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতির প্রভাব নির্বাচনী মাঠে পড়তে পারে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এই আসনে ডা. আব্দুল বারীকে একক ও সুস্পষ্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে ঐক্য ও উদ্দীপনা।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল বারীর পেশাগত পরিচিতি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত সততা ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির ভাবমূর্তি তাকে ভোটারদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও শান্ত ভঙ্গির প্রচারণা ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অতীতে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেউ এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হননি। সে বিবেচনায় এবারের নির্বাচনকে দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে বাগমারা আসনে এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র প্রতীকের লড়াই নয়; বরং নেতৃত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তির একটি বাস্তব পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে কার ভাগ্য নির্ধারিত হবে, সে দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বাগমারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারার ভোটের মাঠে বদলের হাওয়া, মুখোমুখি লড়াইয়ে সম্ভাবনা

আপডেট সময়ঃ ০১:১৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে জমে উঠেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত রাজনৈতিক সমীকরণে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা, যা বদলে দিতে পারে এই আসনের চিরচেনা রাজনৈতিক চিত্র।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের মোট আয়তন ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার। এই আসনে রয়েছে ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। বিপুলসংখ্যক ভোটার ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে এ আসনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ধানের শীষের প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারীকে। দুই প্রার্থীর গণসংযোগ, পথসভা ও জনসম্পৃক্ততায় মুখর পুরো বাগমারা।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী তাজুল ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় তাদের তৎপরতা তুলনামূলকভাবে কম চোখে পড়ছে বলে মন্তব্য করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

এক সময় এই আসন জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্বে ছিল। তবে চলতি নির্বাচনে ভিন্ন বাস্তবতা সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকায় দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ফলে এবারের মূল লড়াই কার্যত সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশা ও দলীয় অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতির প্রভাব নির্বাচনী মাঠে পড়তে পারে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো এই আসনে ডা. আব্দুল বারীকে একক ও সুস্পষ্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে দেখা গেছে ঐক্য ও উদ্দীপনা।

দীর্ঘদিনের চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল বারীর পেশাগত পরিচিতি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত সততা ও ন্যায়ভিত্তিক রাজনীতির ভাবমূর্তি তাকে ভোটারদের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ও শান্ত ভঙ্গির প্রচারণা ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা অতীতে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেউ এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হননি। সে বিবেচনায় এবারের নির্বাচনকে দলটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে বাগমারা আসনে এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র প্রতীকের লড়াই নয়; বরং নেতৃত্ব, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক শক্তির একটি বাস্তব পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে কার ভাগ্য নির্ধারিত হবে, সে দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো বাগমারা।