বদলগাছী সরকারি কলেজ: শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল দখল করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহ তিন শিক্ষকের বসবাস
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৪২:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
- / ৫৩ বার পড়া হয়েছে।

রাজু ইসলাম, বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর বদলগাছী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত একমাত্র আবাসিক হলের কক্ষ দখল করে চারজন শিক্ষকের বসবাসের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সিট না দিয়ে শিক্ষকরা সেখানে থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনের জন্য কলেজের এই আবাসিক হলটি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু হলটি চালু হওয়ার পর থেকেই কক্ষগুলো শিক্ষার্থীদের না দিয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহ তিনজন প্রভাবশালী শিক্ষক নিজেরাই আবাসিক হলে চারটি রুম দখল নেন। বর্তমানে তারা সেখানে আয়েশি জীবন যাপন করছেন, অন্যদিকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেসে থেকে বাড়তি খরচ বহন করতে বাধ্য হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান:
”আমরা দূর থেকে পড়তে এসেছি। আমার সহপাঠী কেউ দিনাজপুর, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ জেলাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা এখানে পড়াশোনা করার জন্য এসেছে। মেসে থাকা আমাদের জন্য অনেক ব্যয়বহুল। কলেজের হলে থাকার কথা থাকলেও সেখানে শিক্ষকরা থাকছেন। বিদ্যুৎ বিল, বুয়া বিল কোনটি কর্তৃপক্ষ বহন করে না। প্রতি রুমে চার জন করে থাকে। সাধারন শিক্ষার্থীরা সিট প্রতি ৩৫০ টাকা ভাড়া দিলেও শিক্ষকরা রুম প্রতি ৫০০ টাকা করে ভাড়া দেন। আমরা বারবার সিট চাইলেও আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, হলের বেশ কয়েকটি বড় কক্ষ আসবাবপত্র ও ব্যক্তিগত সরঞ্জাম দিয়ে সাজিয়ে নিয়েছেন অভিযুক্ত শিক্ষকরা। এই বিষয়ে জানতে চাইলে তারা সরাসরি কোনো সদুত্তর দেননি। তবে কেউ কেউ দাবি করেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক কাজের সুবিধার্থে এবং আবাসনের কোনো সুব্যবস্থা না থাকায় তারা সাময়িকভাবে সেখানে অবস্থান করছেন।
কলেজ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, আমিসহ আরও তিন জন শিক্ষক কলেজে আবাসিক থাকি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে খুব দ্রুতই শিক্ষকদের হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হবে এবং কক্ষগুলো সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষকদের এই আচরণকে নীতিবিরুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা বলছেন, মানুষ গড়ার কারিগর হয়ে শিক্ষার্থীদের হক নষ্ট করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অতিদ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



















