০৯:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বড়াল মাঠে ফসলী জমিতে অবৈধ ইটভাটা

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) বড়াল মাঠে চার ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইট ভাটা। উপজেলার সিংহভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত আছে। এখানে মাছ, পান, ও আলুর দেশ-বিদেশেও সুখ্যাতি রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করেই এসব মানুষকে তাদের সংসার চালাতে হয়। এক কথায় বলতে গেলে কৃষিনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল এটি। ভালো মাটি ও সুন্দর জলবায়ুর কারণে ফসলের সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়। কৃষকদের অভিযোগ, অবৈধ ইট ভাটার কারণে এখানে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।এছাড়াও ভাটার গর্ভে চলে যাচেছ কৃষি জমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি)। ইট তৈরীর মাটির যোগান তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) কেটে নেয়া হচ্ছে এই ইট ভাটায়।কয়লার বদলে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইট তৈরির মৌসুমকে ঘিরে ভাটাগুলোতে মজুদ করা হয়েছে ফসলী জমির মাটি ও খড়ি। এতে এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও গরম বাতাসে ফসরহানিসহ পরিবেশ দুষিত হয়ে জনজীবন দুর্বীসহ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন যাবত এই অবৈধ ইট ভাটা বন্ধের দাবি করে আসছেন।কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবছর অবৈধ এই ভাটাতে প্রায় শত বিঘা ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) পোড়ানো হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কৃষি-জমিতে ইটভাটা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ ও ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩, কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন সম্পুর্ন  নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বড়াল মাঠে চার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এই ইট ভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিশাল মজুদ করা হয়েছে। ভাটাতে জ্বালানী হিসেবে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হয় কাঠ। অথচ সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে। কিন্ত আইন রয়েছে আইনের জায়গায়, বাস্তবে নেই কোনো প্রয়োগ।
স্থানীয়রা জানান, ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভাটা মালিক। কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইট ভাটা। এলাকার কৃষিজমির টপ সয়েল দিয়েই তৈরি হচ্ছে ফাঁপা, ও ছিদ্রবিহীন ইট। কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন করে তৈরি করা হয় ইট। আর গ্রামীণ সড়ক ব্যাবহার করে পরিবহন করা হয় ইট ও ইট তৈরীর মাটি। বেলনা কারিগরি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন অবৈধ ইট ভাটার কারণে মাঠে ফসলহানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।তিনি বলেন, ইট পোড়ানোর মৌসুমে কালো ধোঁয়া,ছাঁই ও ধুলাবালিতে কলেজে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক বাবলু, রহিম ও জামাল বলেন, এই ইট ভাটার কারনে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভাটার কালো ধোঁয়া ও গরম বাতাসে জমির ফসলহানি হচ্ছে, তারা দ্রুত অবৈধ ভাটা অপসারণ করার দাবি করেছেন।
এদিকে ২০১৩ সালের আইনে কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দিতে পারবে না। আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে ইটে অবশ্যই হ্যালো ফ্লাক্স থাকতে হবে। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, বাঁশের মোথা, ও খেজুর গাছের গুড়ি ব্যবহার করা যাবে না। খাল, নদী, পতিত জমি ব্যতীত ফসলী জমির মাটি ব্যবহার করা যাবে না এমনকি অতিরিক্ত সালফার, অ্যাশ, মারকারি বা অনুরূপ উপাদান সম্বলিত কয়লা ব্যবহার করা যাবে না ইত্যাদি আরো অনেক নিয়ম রয়েছে যা পরিবেশ রক্ষার জন্যই করা হয়েছে।
কৃষকেরা বলেন, এ অবৈধ ইট ভাটার কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ। আশেপাশের জমিগুলো অনুর্বর করে তুলেছে, অল্পতে  শুকিয়ে যাচ্ছে জমির পানি। অবৈধ ট্রাক্টঁর, ট্রলি ও নছিমন-করিমনে মাটি ও ইট পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ কৃষকেরা। এবিষয়ে ভাটার ম্যানেজার বলেন,সারাদেশে যেভাবে ভাটা চলছে, তারাও সেভাবে ভাটা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন,মেলান্দী গ্রামের হাফেজ এর পুত্র সাগর ভাটা পরিচালনা করছেন।
এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করার কারণে কৃষিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এর আশেপাশে ও কয়েক কিলোমিটার ভিতরে থাকা ফসলগুলো কখানো কখানো দশ থেকে একশ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। অত্র এলাকায় আমের গাছে মুকুল আসবে না মুকুল আসলেও গুটি অবস্থায় আম ঝরে যাবে। #

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বড়াল মাঠে ফসলী জমিতে অবৈধ ইটভাটা

আপডেট সময়ঃ ০৮:২৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরের সীমান্তবর্তী মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) বড়াল মাঠে চার ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে অবৈধ ইট ভাটা। উপজেলার সিংহভাগ মানুষ কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত আছে। এখানে মাছ, পান, ও আলুর দেশ-বিদেশেও সুখ্যাতি রয়েছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের ওপর নির্ভর করেই এসব মানুষকে তাদের সংসার চালাতে হয়। এক কথায় বলতে গেলে কৃষিনির্ভর অর্থনৈতিক অঞ্চল এটি। ভালো মাটি ও সুন্দর জলবায়ুর কারণে ফসলের সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়। কৃষকদের অভিযোগ, অবৈধ ইট ভাটার কারণে এখানে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে।এছাড়াও ভাটার গর্ভে চলে যাচেছ কৃষি জমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি)। ইট তৈরীর মাটির যোগান তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের (ইউপি) বিভিন্ন এলাকার ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) কেটে নেয়া হচ্ছে এই ইট ভাটায়।কয়লার বদলে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ইট তৈরির মৌসুমকে ঘিরে ভাটাগুলোতে মজুদ করা হয়েছে ফসলী জমির মাটি ও খড়ি। এতে এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও গরম বাতাসে ফসরহানিসহ পরিবেশ দুষিত হয়ে জনজীবন দুর্বীসহ হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন যাবত এই অবৈধ ইট ভাটা বন্ধের দাবি করে আসছেন।কিন্ত্ত রহস্যজনক কারণে প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবছর অবৈধ এই ভাটাতে প্রায় শত বিঘা ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বরা মাটি (টপসয়েল) পোড়ানো হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ১৯৯২ সালের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে কৃষি-জমিতে ইটভাটা নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ ও ইট প্রস্তুত এবং ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩, কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন সম্পুর্ন  নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বড়াল মাঠে চার ফসলি জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এই ইট ভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিশাল মজুদ করা হয়েছে। ভাটাতে জ্বালানী হিসেবে কয়লার পরিবর্তে পোড়ানো হয় কাঠ। অথচ সরকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ প্রণয়ন করে। কিন্ত আইন রয়েছে আইনের জায়গায়, বাস্তবে নেই কোনো প্রয়োগ।
স্থানীয়রা জানান, ক্রমেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভাটা মালিক। কোনরকম অনুমোদন ছাড়াই ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই ইট ভাটা। এলাকার কৃষিজমির টপ সয়েল দিয়েই তৈরি হচ্ছে ফাঁপা, ও ছিদ্রবিহীন ইট। কালো ধোঁয়ায় এলাকা আচ্ছন্ন করে তৈরি করা হয় ইট। আর গ্রামীণ সড়ক ব্যাবহার করে পরিবহন করা হয় ইট ও ইট তৈরীর মাটি। বেলনা কারিগরি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন অবৈধ ইট ভাটার কারণে মাঠে ফসলহানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।তিনি বলেন, ইট পোড়ানোর মৌসুমে কালো ধোঁয়া,ছাঁই ও ধুলাবালিতে কলেজে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষক বাবলু, রহিম ও জামাল বলেন, এই ইট ভাটার কারনে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভাটার কালো ধোঁয়া ও গরম বাতাসে জমির ফসলহানি হচ্ছে, তারা দ্রুত অবৈধ ভাটা অপসারণ করার দাবি করেছেন।
এদিকে ২০১৩ সালের আইনে কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপনের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দিতে পারবে না। আইনে আরও উল্লেখ রয়েছে ইটে অবশ্যই হ্যালো ফ্লাক্স থাকতে হবে। জ্বালানি হিসেবে কাঠ, বাঁশের মোথা, ও খেজুর গাছের গুড়ি ব্যবহার করা যাবে না। খাল, নদী, পতিত জমি ব্যতীত ফসলী জমির মাটি ব্যবহার করা যাবে না এমনকি অতিরিক্ত সালফার, অ্যাশ, মারকারি বা অনুরূপ উপাদান সম্বলিত কয়লা ব্যবহার করা যাবে না ইত্যাদি আরো অনেক নিয়ম রয়েছে যা পরিবেশ রক্ষার জন্যই করা হয়েছে।
কৃষকেরা বলেন, এ অবৈধ ইট ভাটার কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পরিবেশ। আশেপাশের জমিগুলো অনুর্বর করে তুলেছে, অল্পতে  শুকিয়ে যাচ্ছে জমির পানি। অবৈধ ট্রাক্টঁর, ট্রলি ও নছিমন-করিমনে মাটি ও ইট পরিবহন করায় গ্রামীণ সড়কগুলো প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষসহ কৃষকেরা। এবিষয়ে ভাটার ম্যানেজার বলেন,সারাদেশে যেভাবে ভাটা চলছে, তারাও সেভাবে ভাটা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন,মেলান্দী গ্রামের হাফেজ এর পুত্র সাগর ভাটা পরিচালনা করছেন।
এবিষয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বলেন, কৃষি জমিতে ভাটা স্থাপন করার কারণে কৃষিতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। এর আশেপাশে ও কয়েক কিলোমিটার ভিতরে থাকা ফসলগুলো কখানো কখানো দশ থেকে একশ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হয়ে যায়। অত্র এলাকায় আমের গাছে মুকুল আসবে না মুকুল আসলেও গুটি অবস্থায় আম ঝরে যাবে। #