০৬:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

পাথালিয়ার ২০১ গম্বুজ মসজিদ: স্থাপত্য ও পর্যটনের অনন্য আকর্ষণ

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:২৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে।

টাঙ্গাইল থেকে ফিরে শামীম রেজাঃ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাথালিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা—২০১ গম্বুজ মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, ইসলামী কারুকাজ ও বিশাল নির্মাণপরিসরের কারণে নির্মাণাধীন অবস্থাতেই মসজিদটি দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত মসজিদ কমপ্লেক্সটি। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মা রিজিয়া খাতুন।

মসজিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর ২০১টি গম্বুজ। ছাদের মাঝখানে রয়েছে প্রায় ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ। এর চারপাশে রয়েছে আরও ২০০টি ছোট গম্বুজ, যার প্রতিটির উচ্চতা প্রায় ১৭ ফুট। বর্তমানে মসজিদটিতে রয়েছে মোট আটটি মিনার।

এ ছাড়া মসজিদের পাশে নির্মাণাধীন রয়েছে প্রায় ৪৫১ ফুট উচ্চতার একটি সুউচ্চ মিনার। নির্মাতাদের দাবি, এটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু মসজিদ মিনার হিসেবে স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে।

ঝিনাই নদী ঘেঁষে নির্মিত দ্বিতল মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১৪৪ ফুট করে। এতে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মসজিদের দেয়ালের টাইলসে পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা অঙ্কিত রয়েছে বলেও জানা যায়।

শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে নয়, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম এবং দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।

দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য ও বিশাল আকৃতির কারণে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসছেন। ফলে পাথালিয়ার ২০১ গম্বুজ মসজিদটি ধীরে ধীরে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রবেশ করলেই দূর থেকে চোখে পড়ে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার। আধুনিক স্থাপত্যের এই ব্যতিক্রমী নিদর্শনই পাথালিয়ার ঐতিহাসিক ২০১ গম্বুজ মসজিদ।

মসজিদটির বিশাল নির্মাণকাজে এখন পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নির্মাণ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে না বলেও জানা গেছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাথালিয়ার ২০১ গম্বুজ মসজিদ: স্থাপত্য ও পর্যটনের অনন্য আকর্ষণ

আপডেট সময়ঃ ০৫:২৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

টাঙ্গাইল থেকে ফিরে শামীম রেজাঃ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাথালিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা—২০১ গম্বুজ মসজিদ। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, ইসলামী কারুকাজ ও বিশাল নির্মাণপরিসরের কারণে নির্মাণাধীন অবস্থাতেই মসজিদটি দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত মসজিদ কমপ্লেক্সটি। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে ২০১৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের মা রিজিয়া খাতুন।

মসজিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এর ২০১টি গম্বুজ। ছাদের মাঝখানে রয়েছে প্রায় ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বড় গম্বুজ। এর চারপাশে রয়েছে আরও ২০০টি ছোট গম্বুজ, যার প্রতিটির উচ্চতা প্রায় ১৭ ফুট। বর্তমানে মসজিদটিতে রয়েছে মোট আটটি মিনার।

এ ছাড়া মসজিদের পাশে নির্মাণাধীন রয়েছে প্রায় ৪৫১ ফুট উচ্চতার একটি সুউচ্চ মিনার। নির্মাতাদের দাবি, এটি বিশ্বের অন্যতম উঁচু মসজিদ মিনার হিসেবে স্থান করে নেওয়ার লক্ষ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে।

ঝিনাই নদী ঘেঁষে নির্মিত দ্বিতল মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১৪৪ ফুট করে। এতে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। মসজিদের দেয়ালের টাইলসে পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা অঙ্কিত রয়েছে বলেও জানা যায়।

শুধু নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে নয়, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদ কমপ্লেক্স হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম এবং দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সেবামূলক স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানা গেছে।

দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য ও বিশাল আকৃতির কারণে নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে আসছেন। ফলে পাথালিয়ার ২০১ গম্বুজ মসজিদটি ধীরে ধীরে ধর্মীয় স্থাপনার পাশাপাশি পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে প্রবেশ করলেই দূর থেকে চোখে পড়ে আকাশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য গম্বুজ ও সুউচ্চ মিনার। আধুনিক স্থাপত্যের এই ব্যতিক্রমী নিদর্শনই পাথালিয়ার ঐতিহাসিক ২০১ গম্বুজ মসজিদ।

মসজিদটির বিশাল নির্মাণকাজে এখন পর্যন্ত কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে নির্মাণ ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে না বলেও জানা গেছে।