রাজশাহীর মোহনপুরে বর্ষায় আগাম ফুলকপি চাষে বিপ্লব: কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে।

ডিপিডি প্রতিবেদকঃ
সাধারণত শীতকালীন সবজি হিসেবে ফুলকপির পরিচিতি থাকলেও সময়ের পরিবর্তনে এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সেই ধারণায় এসেছে পরিবর্তন। আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে এখন বর্ষা মৌসুমেও আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কৃষকরা। বর্ষার মিষ্টি রোদে ও পরিচর্যায় উপজেলার মাঠগুলো এখন সবুজ কপির পাতার সমারোহে ভরে উঠেছে। ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি বাজারে এর চড়া দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে এখন তৃপ্তির হাসি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়েছে আগাম ফুলকপির। বিশেষ করে ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের পালশা, গোরাঙ্গাপুর এবং গোছাগ্ৰাম এলাকার কৃষকরা এবার বাণিজ্যিকভাবে ফুলকপি চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রতি বিঘা জমিতে কপির সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সাদা ও তরতাজা ফুলকপি।
বর্ষার সময়ে আগাম জাতের সবজি চাষ করা কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হলেও আধুনিক পদ্ধতি ও সঠিক ব্যবস্থাপনার কারণে সফলতার মুখ দেখছেন এই জনপদের চাষিরা। বিশেষ করে উন্নত জাতের বীজ নির্বাচন, উঁচু জমিতে চারা রোপণ এবং বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার ফলে ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। বাজারে আগামজাতের কপির ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং অন্য সময়ের তুলনায় জোগান কম থাকায় শুরুতেই বেশ ভালো দাম পাচ্ছেন তারা। এতে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে বিঘা প্রতি মোটা অঙ্কের মুনাফা ঘরে তুলছেন কৃষকরা।
এই অর্জনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মোহনপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, “মোহনপুরের মাটি ও আবহাওয়া শাকসবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমাদের এখানকার কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং তারা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সুফল লুফে নিচ্ছেন। বিশেষ করে ধুরইল ও ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের পালশা, গোরাঙ্গাপুর ও গোছাগ্ৰাম এলাকার কৃষকরা বর্ষা মৌসুমে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করে দারুণ সফলতা দেখিয়েছেন। বর্ষার শুরুতে বাজারে কপির সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা বেশ চড়া দাম পাচ্ছেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ নির্বাচন এবং রোগবালাই দমনে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, বর্ষার শুরুতে বীজতলা তৈরি ও চারা রক্ষা করা কষ্টসাধ্য হলেও কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার কারণে তারা সফল হয়েছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারেই চড়া দামে কপি বিক্রি হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করতে যে খরচ হয়, বর্তমান বাজারে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মোহনপুর উপজেলার এই অঞ্চলের কৃষকদের বর্ষায় আগাম ফুলকপি চাষের এই সাফল্য শুধু স্থানীয় চাহিদাই পূরণ করছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলছে। এলাকার অন্য কৃষকরাও আগামীতে এমন লাভজনক আগাম সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন, যা মোহনপুরকে একটি আদর্শ কৃষি অঞ্চলে রূপান্তর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
















