১১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মান্দায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, বসতবাড়ি লণ্ডভণ্ড

মান্দা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / ১২৯ বার পড়া হয়েছে।

মান্দা প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু কাঁচা ও আধাপাকা বসতবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কলাবাগান, পেঁপেবাগান, ভুট্টা ও হালি পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। রোববার (গতকাল) রাত প্রায় ১০টার দিকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই ঝড়ে অনেক বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এছাড়া আম, কাঁঠাল, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে। শিলাবৃষ্টির কারণে হালি পেঁয়াজের খেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার কলাচাষি গোলাম রাব্বানী জানান, তার ১০ কাঠা জমির কলাবাগানের প্রায় প্রতিটি গাছে কাঁদি ধরেছিল। ভালো দামে কলা বিক্রির আশা করলেও ঝড়ে বাগানের প্রায় সব গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নাড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জামিনুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন তিনি। গাছে সবে কাঁদি আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু ঝড়ে সব গাছ ভেঙে যাওয়ায় ওই জমি থেকে এখন আর কোনো ভুট্টা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জামিনুর রহমান জানান, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ পশ্চিম আকাশে মেঘের গর্জন শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল ঝড়। এতে তার বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং ঘরের ঢেউটিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন নতুন টিন না লাগালে ওই ঘরে বসবাস করা সম্ভব নয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাবাগান ও ভুট্টার খেত। পাশাপাশি হালি পেঁয়াজের খেতেও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিজেও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা কৃষি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মান্দায় কালবৈশাখীর তাণ্ডব, বসতবাড়ি লণ্ডভণ্ড

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫১:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

মান্দা প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় মৌসুমের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বহু কাঁচা ও আধাপাকা বসতবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কলাবাগান, পেঁপেবাগান, ভুট্টা ও হালি পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। রোববার (গতকাল) রাত প্রায় ১০টার দিকে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে ছিল শিলাবৃষ্টি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলা এই ঝড়ে অনেক বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায়। এছাড়া আম, কাঁঠাল, ইউক্যালিপটাস, মেহগনিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙে পড়ে। শিলাবৃষ্টির কারণে হালি পেঁয়াজের খেতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলার কলাচাষি গোলাম রাব্বানী জানান, তার ১০ কাঠা জমির কলাবাগানের প্রায় প্রতিটি গাছে কাঁদি ধরেছিল। ভালো দামে কলা বিক্রির আশা করলেও ঝড়ে বাগানের প্রায় সব গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। নাড়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক জামিনুর রহমান বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন তিনি। গাছে সবে কাঁদি আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু ঝড়ে সব গাছ ভেঙে যাওয়ায় ওই জমি থেকে এখন আর কোনো ভুট্টা পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিম নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জামিনুর রহমান জানান, রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ার পর হঠাৎ পশ্চিম আকাশে মেঘের গর্জন শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রবল ঝড়। এতে তার বসতবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং ঘরের ঢেউটিন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখন নতুন টিন না লাগালে ওই ঘরে বসবাস করা সম্ভব নয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন বলেন, ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাবাগান ও ভুট্টার খেত। পাশাপাশি হালি পেঁয়াজের খেতেও ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে বসতবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি নিজেও কয়েকটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে উপজেলা কৃষি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।