০৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গম এলাকায় রফিকুল ইসলামের গণসংযোগ: পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও মাদকমুক্ত ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি

কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৬১ বার পড়া হয়েছে।

 

কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি:

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুফলাকাটি ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জনাব রফিকুল ইসলাম দিন-রাত নিরলসভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, শুনছেন তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশার কথা।
নির্বাচনী প্রচারণায় শুধু বড় বড় জনসমাবেশ নয়, বরং সাধারণ মানুষের বাড়ির উঠান, বাজারের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন রফিকুল ইসলাম। কোথায় পানি জমে আছে, কোথায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, কোন রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী, কোথায় মানুষের বসার জায়গার প্রয়োজন—এসব বিষয় সরেজমিনে দেখছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
দুর্গম এলাকাতেও মানুষের দ্বারে দ্বারে
গণসংযোগকালে রফিকুল ইসলামকে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন তিনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার ঘাটতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে তার নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন রফিকুল ইসলাম।
তার সমর্থকদের দাবি, শুধু নির্বাচনের সময় নয়, তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চেয়ার দেওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগও তার জনসম্পৃক্ততার একটি অংশ বলে তারা উল্লেখ করেন।
“পুরাতন দেখেছি বারবার, নতুন দেখবো এবার”
গণসংযোগে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার মুখে রফিকুল ইসলামকে নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য শোনা গেছে। তাদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন তারা বিভিন্ন নেতৃত্ব দেখেছেন; এবার তারা নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চান।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, “পুরাতন দেখেছি বারবার, নতুন দেখবো এবার। রফিকুল ইসলাম ছেলে ভালো—জয়ের মালা এবার তারই হোক।”
তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত হলে রফিকুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রত্যাশা
সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন নিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের নানা প্রত্যাশা। অনেক রাস্তা সংস্কার, ইট সলিং, পিচঢালাই এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম তার গণসংযোগে এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং জনগণের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করার উদ্যোগ।
তিনি মনে করেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু একটি-দুটি বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামের প্রতিটি রাস্তা, পানি নিষ্কাশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলেই একটি ইউনিয়নকে সত্যিকার অর্থে উন্নত করা সম্ভব।
জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি
নির্বাচিত হলে পরিষদের বরাদ্দ ও জনগণের অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “জনগণের জন্য যে বরাদ্দ আসবে, সেটা জনগণের জন্যই ব্যয় হবে। এর থেকে আমি এক টাকা চা খাওয়ার জন্যও নেব না। চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যে বেতন দেওয়া হবে, সেটিও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার চেষ্টা করব।”
তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত প্রয়োজনের জায়গায় ব্যয় করা হবে এবং উন্নয়নের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার দাবি
রফিকুল ইসলামের গণসংযোগে স্থানীয়দের যে বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে, তা হলো মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার তার প্রচেষ্টা। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছে বলে তার সমর্থকরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের একজন বলেন, তারা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যাকে প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যাবে এবং যিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন। তাদের ভাষায়, “আমরা জনবান্ধব চেয়ারম্যান চাই। এমন একজন মানুষ চাই, যিনি মানুষের পাশে থাকবেন।”
মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার
রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যুবসমাজ ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার বিষয়টি। তার মতে, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, যুবসমাজকে কীভাবে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচিত হলে সুফলাকাটি ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার জন্য সামাজিকভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তার বক্তব্য, “আমার সর্বপ্রথম লক্ষ্য হবে আমার ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা। যুবসমাজকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিকভাবে কাজ করতে চাই।”
পানি নিষ্কাশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
নির্বাচিত হলে প্রথমেই ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তার মতে, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম দেখব কীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায়। এরপর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করব এবং একে একে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করব।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা হলে বর্ষাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের সুযোগ-সুবিধায় নজর
রফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় চেয়ার দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দোকানপাট ও জনসমাগমস্থলে মানুষের বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ছোট ছোট এসব উদ্যোগও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
“রফিকুল ইসলাম ছেলে ভালো”—এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের পারিবারিক পরিচয়ও তাদের আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন তার পিতা দলিল উদ্দিন সরদারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তাদের প্রত্যাশা, রফিকুল ইসলামও সেই মূল্যবোধ ধরে রেখে মানুষের পাশে থাকবেন এবং নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, “রফিকুল ভাই ছেলে ভালো। তার পিতাও ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা আশা করি, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।”
উন্নত ও সুন্দর সুফলাকাটির স্বপ্ন
রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণার মূল বক্তব্যে উঠে আসছে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন, জনবান্ধব ও মাদকমুক্ত সুফলাকাটি ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। তার ভাষায়, কোনো এলাকার উন্নয়ন একদিনে সম্ভব নয়; তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের একটি সুন্দর ইউনিয়ন উপহার দিতে চাই। জনগণের যে সমস্যা আছে, সেগুলো শুনে বুঝে সমাধানের চেষ্টা করব। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করব—এটাই আমার প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার।”
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারণা বাড়ছে। ভোটাররাও নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে বিজয়ের হাসি হাসবেন, তা নির্ধারণ করবেন ইউনিয়নের ভোটাররা।
রফিকুল ইসলামের দাবি, তিনি নির্বাচিত হলে শুধু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান না; বরং মানুষের পাশে থাকা একজন জনবান্ধব প্রতিনিধি হিসেবে সুফলাকাটি ইউনিয়নকে এগিয়ে নিতে চান। তার গণসংযোগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুর্গম এলাকায় রফিকুল ইসলামের গণসংযোগ: পানি নিষ্কাশন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও মাদকমুক্ত ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি

আপডেট সময়ঃ ০৭:০০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি:

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন–২০২৬কে সামনে রেখে সুফলাকাটি ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জনাব রফিকুল ইসলাম দিন-রাত নিরলসভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন, শুনছেন তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশার কথা।
নির্বাচনী প্রচারণায় শুধু বড় বড় জনসমাবেশ নয়, বরং সাধারণ মানুষের বাড়ির উঠান, বাজারের দোকান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন রফিকুল ইসলাম। কোথায় পানি জমে আছে, কোথায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই, কোন রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী, কোথায় মানুষের বসার জায়গার প্রয়োজন—এসব বিষয় সরেজমিনে দেখছেন এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করছেন।
দুর্গম এলাকাতেও মানুষের দ্বারে দ্বারে
গণসংযোগকালে রফিকুল ইসলামকে ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন তিনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা, রাস্তাঘাটের দুরবস্থা এবং বিভিন্ন নাগরিক সুবিধার ঘাটতিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে তার নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক এলাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন রফিকুল ইসলাম।
তার সমর্থকদের দাবি, শুধু নির্বাচনের সময় নয়, তিনি আগে থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে আসছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চেয়ার দেওয়াসহ বিভিন্ন স্থানে মানুষের বসার ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগও তার জনসম্পৃক্ততার একটি অংশ বলে তারা উল্লেখ করেন।
“পুরাতন দেখেছি বারবার, নতুন দেখবো এবার”
গণসংযোগে অংশ নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার মুখে রফিকুল ইসলামকে নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য শোনা গেছে। তাদের অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন তারা বিভিন্ন নেতৃত্ব দেখেছেন; এবার তারা নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চান।
স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, “পুরাতন দেখেছি বারবার, নতুন দেখবো এবার। রফিকুল ইসলাম ছেলে ভালো—জয়ের মালা এবার তারই হোক।”
তাদের প্রত্যাশা, নির্বাচিত হলে রফিকুল ইসলাম সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে ইউনিয়নের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রত্যাশা
সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাট উন্নয়ন নিয়েও রয়েছে স্থানীয়দের নানা প্রত্যাশা। অনেক রাস্তা সংস্কার, ইট সলিং, পিচঢালাই এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি রয়েছে।
রফিকুল ইসলাম তার গণসংযোগে এসব সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং জনগণের দৈনন্দিন চলাচল সহজ করার উদ্যোগ।
তিনি মনে করেন, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু একটি-দুটি বড় প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামের প্রতিটি রাস্তা, পানি নিষ্কাশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও সাধারণ মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করলেই একটি ইউনিয়নকে সত্যিকার অর্থে উন্নত করা সম্ভব।
জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি
নির্বাচিত হলে পরিষদের বরাদ্দ ও জনগণের অর্থ স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “জনগণের জন্য যে বরাদ্দ আসবে, সেটা জনগণের জন্যই ব্যয় হবে। এর থেকে আমি এক টাকা চা খাওয়ার জন্যও নেব না। চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে যে বেতন দেওয়া হবে, সেটিও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করার চেষ্টা করব।”
তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত প্রয়োজনের জায়গায় ব্যয় করা হবে এবং উন্নয়নের সুফল সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছাবে।
মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার দাবি
রফিকুল ইসলামের গণসংযোগে স্থানীয়দের যে বিষয়টি বেশি আলোচনায় এসেছে, তা হলো মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার তার প্রচেষ্টা। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে দ্রুত সেখানে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা এবং তাদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা পাচ্ছে বলে তার সমর্থকরা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের একজন বলেন, তারা এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যাকে প্রয়োজনে কাছে পাওয়া যাবে এবং যিনি সাধারণ মানুষের কথা শুনবেন। তাদের ভাষায়, “আমরা জনবান্ধব চেয়ারম্যান চাই। এমন একজন মানুষ চাই, যিনি মানুষের পাশে থাকবেন।”
মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার অঙ্গীকার
রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে যুবসমাজ ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ার বিষয়টি। তার মতে, একটি এলাকার উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, যুবসমাজকে কীভাবে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নির্বাচিত হলে সুফলাকাটি ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার জন্য সামাজিকভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তার বক্তব্য, “আমার সর্বপ্রথম লক্ষ্য হবে আমার ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করা। যুবসমাজকে ধ্বংসের পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সামাজিকভাবে কাজ করতে চাই।”
পানি নিষ্কাশনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
নির্বাচিত হলে প্রথমেই ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তার মতে, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা সমাধান না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হয়ে সর্বপ্রথম দেখব কীভাবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যায়। এরপর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করব এবং একে একে সেগুলোর সমাধানের চেষ্টা করব।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা হলে বর্ষাকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনসাধারণের সুযোগ-সুবিধায় নজর
রফিকুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় চেয়ার দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দোকানপাট ও জনসমাগমস্থলে মানুষের বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ছোট ছোট এসব উদ্যোগও মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি ইউনিয়নের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
“রফিকুল ইসলাম ছেলে ভালো”—এলাকাবাসীর প্রত্যাশা
বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের পারিবারিক পরিচয়ও তাদের আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন তার পিতা দলিল উদ্দিন সরদারের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
তাদের প্রত্যাশা, রফিকুল ইসলামও সেই মূল্যবোধ ধরে রেখে মানুষের পাশে থাকবেন এবং নির্বাচিত হলে দল-মত নির্বিশেষে সবার জন্য কাজ করবেন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য, “রফিকুল ভাই ছেলে ভালো। তার পিতাও ভালো মানুষ ছিলেন। আমরা আশা করি, নির্বাচিত হলে তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন।”
উন্নত ও সুন্দর সুফলাকাটির স্বপ্ন
রফিকুল ইসলামের নির্বাচনী প্রচারণার মূল বক্তব্যে উঠে আসছে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন, জনবান্ধব ও মাদকমুক্ত সুফলাকাটি ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জনগণের সঙ্গে পরামর্শ করে এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। তার ভাষায়, কোনো এলাকার উন্নয়ন একদিনে সম্ভব নয়; তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ধীরে ধীরে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের একটি সুন্দর ইউনিয়ন উপহার দিতে চাই। জনগণের যে সমস্যা আছে, সেগুলো শুনে বুঝে সমাধানের চেষ্টা করব। জনগণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করব—এটাই আমার প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার।”
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সুফলাকাটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রার্থীদের গণসংযোগ ও প্রচারণা বাড়ছে। ভোটাররাও নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়ে আলোচনা করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কে বিজয়ের হাসি হাসবেন, তা নির্ধারণ করবেন ইউনিয়নের ভোটাররা।
রফিকুল ইসলামের দাবি, তিনি নির্বাচিত হলে শুধু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চান না; বরং মানুষের পাশে থাকা একজন জনবান্ধব প্রতিনিধি হিসেবে সুফলাকাটি ইউনিয়নকে এগিয়ে নিতে চান। তার গণসংযোগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।