তানোরে সার ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়ে বিতর্ক !
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৬:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২৫ বার পড়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর তানোরের ৭টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা এলাকায় নতুন ডিলার শিপের জন্য প্রায় শতাধিক আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনকারীদের অধিকাংশই স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মী।তবে আওয়ামী মতাদর্শী অনেকেই আবেদন করেছেন পাঠানো আবেদন তালিকায় তাদের নামও রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি এলাকার জন্য তিনজনের নাম কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা। সার সংকট মোকাবেলায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। তানোরে এই নিয়োগ ঘিরে ঘুস ও তদবির বাণিজ্যর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছে,তানোরে ৯টি নতুন সার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে প্রায় কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে বলে জোর আলোচনা রয়েছে।যদি কোনো বিতর্কিত, অযোগ্য বা আওয়ামী মতাদর্শী ডিলার শিপ নিয়োগ পায় তবে এই গুঞ্জন সত্যি বলেই প্রতিয়মান হবে। সরকারি নিয়মে ডিলারশিপের আবেদনের জন্য ফেরতযোগ্য জামানত মাত্র ১০ হাজার টাকা; কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা দিতে হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে।
সুত্র জানায়,একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতার পাশাপাশি ঘুসের এই চক্রে জড়িয়ে পড়েছেন প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীও। টাকার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের আবেদনও বৈধ হিসাবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে গুঞ্জন বইছে।উপজেলা সার,বীজ মনিটরিং কমিটি যাচাই-বাছাই করে তালিকা পাঠাবেন। কিন্তু তানোরে তালিকা পাঠানো নিয়ে বিস্তর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পাঠানো তালিকায় বিতর্কিত, অযোগ্য ও আওয়ামী মতাদর্শীদের আধিক্য রয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে
এদিকে অধিকাংশ আবেদনকারী এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের কাছে ছোটাছুটি করছেন। মন্ত্রী-এমপিরাও নিজেদের কাছের লোকদের ডিলার শিপ পাইয়ে দিতে মন্ত্রণালয়ে তদবির করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আবেদনকারী বলেন, শুনেছি বড় অঙ্কের টাকা লেনদেন হচ্ছে। এভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হলে সার নিয়ে কৃষকদের যে দুর্গতি তা কোনো ভাবেই কমবে না। প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মচারীরাও ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র বৈধ করার শর্তে ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন বলে তারা শুনেছেন।
জানা গেছে, তানোরে বর্তমানে বিসিআইসির ৯ জন ও বিএডিসির ২২ জন মোট ৩১জন ডিলার রয়েছে।
নতুন নীতিমালায় প্রতিটি এলাকায় একজন করে ডিলার দেওয়ার পর বিদ্যমান ডিলারদের ভাগ্যে কী ঘটবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজশাহী জেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অন্ধকারে আছেন। পুরোপুরি অনভিজ্ঞরা ডিলারশিপ পেলে সুষ্ঠু সার বিতরণ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ সবুর আলী বলেন, উপজেলা কমিটির সরেজমিন প্রতিবেদনের আলোকে যোগ্য আবেদনকারীদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে জেলা কমিটির বিশেষ কোনো ক্ষমতা নেই। পুরোনো ডিলারদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব ও রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, জেলা মনিটরিং কমিটি শুধু উপজেলা থেকে পাওয়া যোগ্য আবেদনকারীদের নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এতে আমাদের কিছু করার নাই।মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করে একজনকে ডিলার শিপ দেবে।



















