০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহী জেলার মোহনপুরে কৃষিতে স্বস্তি রক্ষায় তৎপর সংশ্লিষ্ট বিভাগ

নাসিরউদ্দিন
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে।

নাসিরউদ্দিন ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

মোহনপুর কৃষি অধ্যুষিত একটি উপজেলা। ধান, পান ও আলুসহ সবধরণের ফসল উৎপাদনের উর্বর ভূমি হিসেবে উপজেলাটি প্রসিদ্ধ। ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত সারের কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য এবং সুষম বন্টন ঠিক রাখার প্রচেষ্টায় তৎপর উপজেলা কৃষি অফিস। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সার্বক্ষনিক তৎপরতায় সার সরবরাহে দায়িত্বশীল ডিলারগণও। এজন্য ফসল উৎপাদনে কৃষকরা স্বস্তিতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবী।

সরোজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর অন্যতম কৃষি অধ্যুষিত একটি উপজেলা মোহনপুর। জেলার অন্য উপজেলায় সব ধরণের ফসলের চাষ হয় না। স্থান বিশেষে এক একটি ফসলের উৎপাদন বেশি হলেও মোহনপুর উপজেলায় ধান, পান, আলু, ভুট্টাসহ অন্যান্য সবজি জাত ফসল উৎপাদন হয় সমান ভাবে। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক মাছচাষ। এ কারণে এখানে বছরের প্রতিটি মৌসুমেই সারের চাহিদা বেশি থাকে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ ও বিক্রয় ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কৃষি বিভাগের তদারকি লক্ষনীয়।

উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, চলতি মৌসুমে আমন ধানের আবাদ হয়েছে ৪১০০ হেক্টর জমিতে। আমন মৌসুমে আগস্ট মাসে বরাদ্দকৃত সারের পরিমাণ ইউরিয়া-৫৫০ মে. টন, টিএসপি-৮০ মে.টন, ডিএপি-২২০ মে. টন, এমওপি-১১০ মে. টন। বরাদকৃত সার কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত উপজেলায় ইউরিয়া ১৬৭ মে. টন, টিএসপি-২৫.১৫ মে. টন, ডিএপি-৫২.৬৫ মে. টন, এমওপি-৫৩.১ মে. টন মজুদ আছে। যা পর্যাপ্ত মজুদ। তবে বানিজ্যিক ভাবে পুকুর ও বিলে মাছ চাষের জন্য কিছুটা ডিএপি ও টিএসপি সারের অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে।
মাছ চাষীদের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে সার নিয়ে কোনো সংকট সৃষ্টির আশংখ্যা নেই।
ইতোমধ্যেই আমন ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহনপুর উপজেলায় ৭ জন বিসিআইসি সার ডিলার নিযুক্ত রয়েছেন। উপজলার ধুরইল ইউনিয়নে মেসার্স আল হেরা ট্রেডার্স, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে মেসার্স মোশাররফ ট্রেডার্স, রায়ঘাটী ইউনিয়নে মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, জাহানাবাদ ইউনিয়নে মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্স, বাকশিমইল ইউনিয়নে মেসার্স সোহেল ট্রেডার্স, মৌগাছি ইউনিয়নে মেসার্স মহসিন ট্রেডার্স এবং কেশরহাট পৌরসভায় মেসার্স উসমান এন্ড সন্স ট্রেডার্স সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি সঠিক ভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করে আসছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান। এছাড়াও আজিজ ট্রেডার্স ও বজলু এন্টারপ্রাইজসহ ১৮ জন বিএডিসি সার ডিলার উপজেলায় সার বিক্রয় করেন।

শনিবার বিকেলে রায়ঘাটী ইউনিয়ন নিযুক্ত বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে এ সম্পর্কে কথা বললে তিনি দৈনিক সোনার দেশের এ প্রতিনিধিকে জানান, মোহনপুরে নিযুক্ত সকল সার ডিলারগণ সরকার এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সকল নির্দেশনা মেনে সার বিক্রি করে থাকেন। আমরা স্থানীয় ডিলার হিসেবে সকল কৃষকরাই আমাদের প্রাণ। তাঁদের জন্যই আমরা ডিলার নিযুক্ত। আমাদের কারণে কৃষকরা সার সংকটে পড়ুক এটা কখনই প্রত্যাশা করিনা। তাই সময় মতো ন্যায্য মুল্যে সার বিক্রয় করার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি সার বিক্রয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মহোদয় সার্বক্ষণিক ভাবে মনিটরিং করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

জানতে চাইলে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, আমার উপজেলায় সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। কৃষকদের নিয়েই আমাদের কাজ। কৃষকরাই আমাদের প্রাণ। এজন্য তাঁদের ফসল উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক বিক্রয় ব্যবস্থা পরিচালনায় নিয়মিত মটনটরিং অব্যাহত রয়েছে। ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনায় নিয়োমিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সার ডিলারগণ সঠিক ভাবে সার বিক্রি করে থাকেন। তবে কোনো ডিলার অনিয়ম করলে নীতিমালা অনুযায়ি আইনের আওতায় আসবেন।
নিয়োমিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জুলাই মাসে ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে মোহনপুরে মাছ চাষের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের সার সরবরাহ পেলে সার সংকটের আশংকা নাই। আউস -আমন মৌসুমের উপরি প্রয়োগের প্রর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী জেলার মোহনপুরে কৃষিতে স্বস্তি রক্ষায় তৎপর সংশ্লিষ্ট বিভাগ

আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাসিরউদ্দিন ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

মোহনপুর কৃষি অধ্যুষিত একটি উপজেলা। ধান, পান ও আলুসহ সবধরণের ফসল উৎপাদনের উর্বর ভূমি হিসেবে উপজেলাটি প্রসিদ্ধ। ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত সারের কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য এবং সুষম বন্টন ঠিক রাখার প্রচেষ্টায় তৎপর উপজেলা কৃষি অফিস। সংশ্লিষ্ট বিভাগের সার্বক্ষনিক তৎপরতায় সার সরবরাহে দায়িত্বশীল ডিলারগণও। এজন্য ফসল উৎপাদনে কৃষকরা স্বস্তিতে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টদের দাবী।

সরোজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর অন্যতম কৃষি অধ্যুষিত একটি উপজেলা মোহনপুর। জেলার অন্য উপজেলায় সব ধরণের ফসলের চাষ হয় না। স্থান বিশেষে এক একটি ফসলের উৎপাদন বেশি হলেও মোহনপুর উপজেলায় ধান, পান, আলু, ভুট্টাসহ অন্যান্য সবজি জাত ফসল উৎপাদন হয় সমান ভাবে। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাণিজ্যিক মাছচাষ। এ কারণে এখানে বছরের প্রতিটি মৌসুমেই সারের চাহিদা বেশি থাকে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ ও বিক্রয় ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কৃষি বিভাগের তদারকি লক্ষনীয়।

উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসেব মতে, চলতি মৌসুমে আমন ধানের আবাদ হয়েছে ৪১০০ হেক্টর জমিতে। আমন মৌসুমে আগস্ট মাসে বরাদ্দকৃত সারের পরিমাণ ইউরিয়া-৫৫০ মে. টন, টিএসপি-৮০ মে.টন, ডিএপি-২২০ মে. টন, এমওপি-১১০ মে. টন। বরাদকৃত সার কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত উপজেলায় ইউরিয়া ১৬৭ মে. টন, টিএসপি-২৫.১৫ মে. টন, ডিএপি-৫২.৬৫ মে. টন, এমওপি-৫৩.১ মে. টন মজুদ আছে। যা পর্যাপ্ত মজুদ। তবে বানিজ্যিক ভাবে পুকুর ও বিলে মাছ চাষের জন্য কিছুটা ডিএপি ও টিএসপি সারের অতিরিক্ত চাহিদা রয়েছে।
মাছ চাষীদের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ পাওয়া গেলে সার নিয়ে কোনো সংকট সৃষ্টির আশংখ্যা নেই।
ইতোমধ্যেই আমন ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে।

উল্লেখ্য, মোহনপুর উপজেলায় ৭ জন বিসিআইসি সার ডিলার নিযুক্ত রয়েছেন। উপজলার ধুরইল ইউনিয়নে মেসার্স আল হেরা ট্রেডার্স, ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নে মেসার্স মোশাররফ ট্রেডার্স, রায়ঘাটী ইউনিয়নে মেসার্স রহমান ট্রেডার্স, জাহানাবাদ ইউনিয়নে মেসার্স ইউসুফ ট্রেডার্স, বাকশিমইল ইউনিয়নে মেসার্স সোহেল ট্রেডার্স, মৌগাছি ইউনিয়নে মেসার্স মহসিন ট্রেডার্স এবং কেশরহাট পৌরসভায় মেসার্স উসমান এন্ড সন্স ট্রেডার্স সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি সঠিক ভাবে রাসায়নিক সার বিক্রি করে আসছেন বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান। এছাড়াও আজিজ ট্রেডার্স ও বজলু এন্টারপ্রাইজসহ ১৮ জন বিএডিসি সার ডিলার উপজেলায় সার বিক্রয় করেন।

শনিবার বিকেলে রায়ঘাটী ইউনিয়ন নিযুক্ত বিসিআইসি অনুমোদিত সার ডিলার মেসার্স রহমান ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে এ সম্পর্কে কথা বললে তিনি দৈনিক সোনার দেশের এ প্রতিনিধিকে জানান, মোহনপুরে নিযুক্ত সকল সার ডিলারগণ সরকার এবং উপজেলা কৃষি অফিসের সকল নির্দেশনা মেনে সার বিক্রি করে থাকেন। আমরা স্থানীয় ডিলার হিসেবে সকল কৃষকরাই আমাদের প্রাণ। তাঁদের জন্যই আমরা ডিলার নিযুক্ত। আমাদের কারণে কৃষকরা সার সংকটে পড়ুক এটা কখনই প্রত্যাশা করিনা। তাই সময় মতো ন্যায্য মুল্যে সার বিক্রয় করার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ি সার বিক্রয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মহোদয় সার্বক্ষণিক ভাবে মনিটরিং করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

জানতে চাইলে মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, আমার উপজেলায় সার নিয়ে কোনো অনিয়ম হওয়ার সুযোগ নেই। কৃষকদের নিয়েই আমাদের কাজ। কৃষকরাই আমাদের প্রাণ। এজন্য তাঁদের ফসল উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক বিক্রয় ব্যবস্থা পরিচালনায় নিয়মিত মটনটরিং অব্যাহত রয়েছে। ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশনায় নিয়োমিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। সার ডিলারগণ সঠিক ভাবে সার বিক্রি করে থাকেন। তবে কোনো ডিলার অনিয়ম করলে নীতিমালা অনুযায়ি আইনের আওতায় আসবেন।
নিয়োমিত মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে জুলাই মাসে ৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে পরিচালিত হয়েছে।
অন্যদিকে মোহনপুরে মাছ চাষের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দের সার সরবরাহ পেলে সার সংকটের আশংকা নাই। আউস -আমন মৌসুমের উপরি প্রয়োগের প্রর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে।