১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বাঘায় কয়েলের আগুনে পুড়লো তিন পরিবারের ঘর বাড়ি, নগদ ১০ লাখ টাকা সহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি 

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে।

 

বাঘা(রাজশাহী )প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘায় কয়েলের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিনটি পরিবারের স্বপ্ন। নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ ঘরবাড়ি, ফসল ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিধেয় বস্ত্র ও গোয়াল ঘরে থাকা গরু মহিষ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকে নি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ) রাতে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন একই বাড়ির বাসিন্দা নূরুল হক নূরু এবং তার তিন ছেলে -ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হক। শনিবার(১৫ আগষ্ট ) সকালে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নূরুল হকের গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গোয়াল ঘর থেকে পাশের রান্না ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইমদাদুলের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন জ্বলন্ত আগুন দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্সের দল প্রায় ঘন্টাব্যাপি চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ।
স্থানীয়দের ধারণা মতে ফ্রিজের কম্প্রেসার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এসময় সাতটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর সহ নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা পুড়ে গেছে।

ক্ষতির পরিমাণ ঃ
ইমদাদুল হকের ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম, নগদ ৫ লাখ টাকা, টেলিভিশন ও ফ্রিজ।
দষ শরিফুলের – ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও টেলিভিশন।
সাজেদুলের মহিষ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, টেলিভিশন, মোবাইলসহ সব আসবাব।

নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আগুনের মধ্যে গোয়ালের গরু-মহিষের দড়ি কেটে দেওয়ায় প্রাণে বেঁচেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই।”

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাতেই ,বাউসা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।
এমপি-ইউএনওর সহায়তা ঃ
রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ শনিবার সকাল ৯ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪০০ কেজি চাল, ৫টি শাড়ি, ৫টি লুঙ্গি, ২০ কেজি আলু, ৫ কেজি মসুর ডাল ও ৮ প্যাকেট শুকনা খাবার দেন।
পরে এমপির মুঠোফোনে নির্দেশ মতো বাঘা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, সরকারিভাবে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, কম্বল প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ২ বান্ডিল করে টিন দেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদ থেকে সেগুলো তারা গ্ৰহন করবেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাঘায় কয়েলের আগুনে পুড়লো তিন পরিবারের ঘর বাড়ি, নগদ ১০ লাখ টাকা সহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি 

আপডেট সময়ঃ ০৮:০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

 

বাঘা(রাজশাহী )প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাঘায় কয়েলের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিনটি পরিবারের স্বপ্ন। নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ ঘরবাড়ি, ফসল ও আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় পরিধেয় বস্ত্র ও গোয়াল ঘরে থাকা গরু মহিষ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট থাকে নি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ) রাতে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন একই বাড়ির বাসিন্দা নূরুল হক নূরু এবং তার তিন ছেলে -ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হক। শনিবার(১৫ আগষ্ট ) সকালে পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী দিয়ে সহায়তা করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নূরুল হকের গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। গোয়াল ঘর থেকে পাশের রান্না ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইমদাদুলের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন জ্বলন্ত আগুন দেখতে পেয়ে ডাক চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফিন্সের দল প্রায় ঘন্টাব্যাপি চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ।
স্থানীয়দের ধারণা মতে ফ্রিজের কম্প্রেসার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এসময় সাতটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর সহ নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা পুড়ে গেছে।

ক্ষতির পরিমাণ ঃ
ইমদাদুল হকের ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম, নগদ ৫ লাখ টাকা, টেলিভিশন ও ফ্রিজ।
দষ শরিফুলের – ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও টেলিভিশন।
সাজেদুলের মহিষ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, টেলিভিশন, মোবাইলসহ সব আসবাব।

নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আগুনের মধ্যে গোয়ালের গরু-মহিষের দড়ি কেটে দেওয়ায় প্রাণে বেঁচেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই।”

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাতেই ,বাউসা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও বাঘা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন।
এমপি-ইউএনওর সহায়তা ঃ
রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ শনিবার সকাল ৯ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪০০ কেজি চাল, ৫টি শাড়ি, ৫টি লুঙ্গি, ২০ কেজি আলু, ৫ কেজি মসুর ডাল ও ৮ প্যাকেট শুকনা খাবার দেন।
পরে এমপির মুঠোফোনে নির্দেশ মতো বাঘা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ইউএনও জানান, সরকারিভাবে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, কম্বল প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ২ বান্ডিল করে টিন দেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদ থেকে সেগুলো তারা গ্ৰহন করবেন।