০২:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বদলগাছীতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় মামলা

রাজু ইসলাম
  • আপডেট সময়ঃ ১০:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০৬ বার পড়া হয়েছে।

রাজু ইসলাম ,বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ এবং ৮ বছরের আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। বর্তমানে শিশুটি গুরুতর অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের হুদ্রাকুড়ি গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুস সাত্তার (৬০)। তিনি একই গ্রামের মৃত কাদির উদ্দিন সরদারের ছেলে।

পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাড়ির পাশে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন এবং বাবা রাজমিস্ত্রির কাজে জয়পুরহাটে ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার বিস্কুট ও আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশু (১০) এবং তার খেলার সঙ্গী (৮) অপর এক শিশুকে নিজের পরিত্যক্ত মাটির ঘরে নিয়ে যান।

সেখানে তিনি বড় শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ছোট শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এসময় শিশুরা কান্নাকাটি করলে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাদের প্রাণে মারার ভয় দেখানো হয়।

ভয়ে শিশুরা বিষয়টি প্রথমে কাউকে জানায়নি। তবে ঘটনার পরদিন থেকেই শিশুটি তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকে। গতকাল ১৭ এপ্রিল সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালের চিকিৎসকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। পরে অপর শিশুটিও তার মায়ের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন:”বিবাদী আমার প্রতিবেশী মামা হন। ভালো সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছেন। আমার মেয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। আমি এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বদলগাছী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রুহুল আমিন জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বদলগাছীতে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় মামলা

আপডেট সময়ঃ ১০:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

রাজু ইসলাম ,বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি নওগাঁঃ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ এবং ৮ বছরের আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা। বর্তমানে শিশুটি গুরুতর অবস্থায় নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের হুদ্রাকুড়ি গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মোঃ আব্দুস সাত্তার (৬০)। তিনি একই গ্রামের মৃত কাদির উদ্দিন সরদারের ছেলে।

পরিবার ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাড়ির পাশে মাঠে ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন এবং বাবা রাজমিস্ত্রির কাজে জয়পুরহাটে ছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার বিস্কুট ও আইসক্রিম খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই শিশু (১০) এবং তার খেলার সঙ্গী (৮) অপর এক শিশুকে নিজের পরিত্যক্ত মাটির ঘরে নিয়ে যান।

সেখানে তিনি বড় শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ছোট শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এসময় শিশুরা কান্নাকাটি করলে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাদের প্রাণে মারার ভয় দেখানো হয়।

ভয়ে শিশুরা বিষয়টি প্রথমে কাউকে জানায়নি। তবে ঘটনার পরদিন থেকেই শিশুটি তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতে থাকে। গতকাল ১৭ এপ্রিল সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালের চিকিৎসকের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। পরে অপর শিশুটিও তার মায়ের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বলেন:”বিবাদী আমার প্রতিবেশী মামা হন। ভালো সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তিনি আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছেন। আমার মেয়ে ব্যথায় কাতরাচ্ছে। আমি এই নরপশুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

বদলগাছী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রুহুল আমিন জানান, অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিশুর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।