০৯:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়েকজনের অপরাধে পুরো ব্যাংকার সমাজকে বিচার নয়

মাসুদ রানা
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ৭০ বার পড়া হয়েছে।

 

মাসুদ রানাঃ

সোনালী ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের খবরটি সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটি আমাদেরও প্রত্যাশা।

কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—কয়েকজনের অনিয়ম দিয়ে হাজারো সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ব্যাংকারকে বিচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।

একজন ব্যাংকার শুধু একটি চাকরি করেন না। প্রতিদিন তিনি মানুষের কষ্টার্জিত টাকা, সঞ্চয়, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার দায়িত্ব বহন করেন। দিনের পর দিন চাপ, ঝুঁকি, জবাবদিহি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধিকাংশ ব্যাংকার নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

কেউ অপরাধ করলে তার পরিচয় অপরাধী—তিনি ব্যাংকার বলে পুরো ব্যাংকার সমাজ অপরাধী হয়ে যান না।

অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হোক, কিন্তু সৎ ব্যাংকারদের সম্মান ও মর্যাদাও রক্ষা করা হোক।

কারণ ব্যাংক শুধু ভবন, টাকা-পয়সা বা হিসাবের খাতা নয়—
ব্যাংক হলো মানুষের বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের অন্যতম প্রহরী একজন সৎ ব্যাংকার।

একজন ব্যাংকার হিসেবে আমারও কষ্ট হয়, যখন কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো পেশাটিকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

আমরা চাই—
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা, সৎ ব্যাংকারের প্রতি সম্মান এবং গ্রাহকের প্রতি সর্বোচ্চ জবাবদিহি।

কয়েকজনের অপকর্মের দায় যেন হাজারো সৎ ব্যাংকারের কাঁধে না চাপানো হয়।

ব্যাংকারের হাত হোক আমানতের নিরাপদ হাত,
ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা হোক অটুট।
সততার জয় হোক—ব্যাংকিং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক।

মনে রাখবেন –
একজন ব্যাংকার প্রতিদিন শুধু টাকা গোনেন না—তিনি গুনে রাখেন মানুষের জীবনের সঞ্চয়, পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং একজন মানুষের সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ।

কাউন্টারের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন গ্রাহক যখন তাঁর আমানত ব্যাংকারের হাতে তুলে দেন, তখন তিনি আসলে শুধু টাকা দেন না—তাঁর বিশ্বাসটুকুও তুলে দেন।

সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা একজন সৎ ব্যাংকারের কাছে শুধু দায়িত্ব নয়—এটি এক ধরনের নৈতিক অঙ্গীকার।

কয়েকজনের অপকর্মে যেন হাজারো সৎ ব্যাংকারের মাথা নত না হয়।
ব্যাংক হোক মানুষের সঞ্চয় ও স্বপ্নের নিরাপদ আশ্রয়, আর ব্যাংকার হোক সেই বিশ্বাসের বিশ্বস্ত প্রহরী।

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কয়েকজনের অপরাধে পুরো ব্যাংকার সমাজকে বিচার নয়

আপডেট সময়ঃ ০৭:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

মাসুদ রানাঃ

সোনালী ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও ঋণ জালিয়াতির অভিযোগের খবরটি সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটি আমাদেরও প্রত্যাশা।

কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—কয়েকজনের অনিয়ম দিয়ে হাজারো সৎ, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ব্যাংকারকে বিচার করা কোনোভাবেই ন্যায়সংগত নয়।

একজন ব্যাংকার শুধু একটি চাকরি করেন না। প্রতিদিন তিনি মানুষের কষ্টার্জিত টাকা, সঞ্চয়, স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার দায়িত্ব বহন করেন। দিনের পর দিন চাপ, ঝুঁকি, জবাবদিহি ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও অধিকাংশ ব্যাংকার নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

কেউ অপরাধ করলে তার পরিচয় অপরাধী—তিনি ব্যাংকার বলে পুরো ব্যাংকার সমাজ অপরাধী হয়ে যান না।

অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হোক, কিন্তু সৎ ব্যাংকারদের সম্মান ও মর্যাদাও রক্ষা করা হোক।

কারণ ব্যাংক শুধু ভবন, টাকা-পয়সা বা হিসাবের খাতা নয়—
ব্যাংক হলো মানুষের বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাসের অন্যতম প্রহরী একজন সৎ ব্যাংকার।

একজন ব্যাংকার হিসেবে আমারও কষ্ট হয়, যখন কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো পেশাটিকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

আমরা চাই—
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা, সৎ ব্যাংকারের প্রতি সম্মান এবং গ্রাহকের প্রতি সর্বোচ্চ জবাবদিহি।

কয়েকজনের অপকর্মের দায় যেন হাজারো সৎ ব্যাংকারের কাঁধে না চাপানো হয়।

ব্যাংকারের হাত হোক আমানতের নিরাপদ হাত,
ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা হোক অটুট।
সততার জয় হোক—ব্যাংকিং পেশার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক।

মনে রাখবেন –
একজন ব্যাংকার প্রতিদিন শুধু টাকা গোনেন না—তিনি গুনে রাখেন মানুষের জীবনের সঞ্চয়, পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং একজন মানুষের সারাজীবনের কষ্টার্জিত অর্থ।

কাউন্টারের ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন গ্রাহক যখন তাঁর আমানত ব্যাংকারের হাতে তুলে দেন, তখন তিনি আসলে শুধু টাকা দেন না—তাঁর বিশ্বাসটুকুও তুলে দেন।

সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করা একজন সৎ ব্যাংকারের কাছে শুধু দায়িত্ব নয়—এটি এক ধরনের নৈতিক অঙ্গীকার।

কয়েকজনের অপকর্মে যেন হাজারো সৎ ব্যাংকারের মাথা নত না হয়।
ব্যাংক হোক মানুষের সঞ্চয় ও স্বপ্নের নিরাপদ আশ্রয়, আর ব্যাংকার হোক সেই বিশ্বাসের বিশ্বস্ত প্রহরী।