রাজশাহীর চারঘাটে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ভাঙা বেঞ্চে ২১৮ শিক্ষার্থীর জীবনবাজি রেখে চলছে পাঠদান
- আপডেট সময়ঃ ০৮:১৩:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ৯৯ বার পড়া হয়েছে।

শাহিনুর সুজন, চারঘাট (রাজশাহী):
সাত বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার হাবিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। সামান্য বৃষ্টিতেই চুইয়ে পড়ে পানি। এর মধ্যেই ২১৮ জন শিক্ষার্থীকে বসতে হচ্ছে মাত্র ১৭ সেট বেঞ্চে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী ২১৮ জন। তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি নির্মিত হয় ১৯৯৩ সালে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৮ সালে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। ভবন নির্মাণের সময় দেওয়া হয়েছিল ৩৯ সেট বেঞ্চ, কিন্তু দীর্ঘদিনে ২২ সেট নষ্ট হয়ে যায়। এখন মাত্র ১৭ সেট বেঞ্চ দিয়ে গাদাগাদি করে চলছে পাঠদান।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, তিনটি ক্লাসরুমের একটি কেটে ছোট্ট অফিসকক্ষ বানানো হয়েছে। এতে প্রধান শিক্ষক ও চার সহকারী শিক্ষক গাদাগাদি করে বসেন। শিক্ষার্থীরা এক বেঞ্চে ৫–৬ জন বসে ক্লাস করছে। ভাঙা বেঞ্চেও কেউ কেউ বসতে বাধ্য হচ্ছে।
সহকারী শিক্ষিকা শরিফা খাতুন বলেন,কিছুদিন আগে প্রথম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলাম। হঠাৎ ছাদের রডসহ ফ্যান খুলে আমার ঘাড়ের ওপর পড়ে। চিকিৎসা নিয়েও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। শুকরিয়া, শিক্ষার্থীরা বেঁচে গেছে। কিন্তু প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস নিতে হয়।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান জানায়,টিভি ও বইয়ে সুন্দর ক্লাসরুম দেখি। অথচ আমাদের ক্লাসে ছাদ থেকে সিমেন্ট খসে পড়ে, বৃষ্টিতে বই-খাতা ভিজে যায়। গাদাগাদি করে বসতে হয়।
বিদ্যালয়ের গেটে অপেক্ষমাণ অভিভাবক রাবেয়া খাতুন বলেন,স্কুল হওয়া উচিত সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। অথচ এখন আমাদের কাছে আতঙ্কের নাম। এজন্য মেয়েকে একা ভেতরে পাঠাতে পারি না, বাইরে দাঁড়িয়ে থাকি।
নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন,বিদ্যালয়টির অবস্থা ভয়াবহ। আল্লাহ না করুক বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত ক্লাসরুম, নেই বেঞ্চ। অথচ অন্য অনেক বিদ্যালয়ে বড় ভবন ফাঁকা পড়ে আছে। বিষয়টি শিক্ষা কমিটিকে জানিয়েছি।
প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান জানান,২০১৮ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নানা দপ্তরে ঘুরছি। কোনো সমাধান মেলেনি। ১৯৯৪ সালের পর আর নতুন বেঞ্চ পাইনি। এখন মাত্র ১৭ বেঞ্চ দিয়ে চলছে ক্লাস। অভিভাবকরা আতঙ্কে সন্তান পাঠাতে চাইছেন না।
চারঘাট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে। প্রতিবারই নতুন ভবনের চাহিদার তালিকার শীর্ষে নাম পাঠাই। কিন্তু এ বছরও ইউনিয়নের অন্য ছয়টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের বরাদ্দ হলেও এ বিদ্যালয় বাদ গেছে। নতুন ভবন না থাকায় বেঞ্চ বরাদ্দও আসছে না।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বলছেন, অবিলম্বে নতুন ভবন ও পর্যাপ্ত বেঞ্চ না পেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।




















