০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীতে জ্বালানি সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশনে ভিড়, পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি

আতিকুর রহমান
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • / ৯৭ বার পড়া হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি ও আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে, আবার অনেক স্থানে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর একটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেল নেওয়ার আশায় অনেক চালক সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ফিলিং স্টেশনের তেলের মেশিনের ওপর সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল—জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার তেল, মাহিন্দ্রা বা ভুটভুটিকে ২০০ টাকা, প্রাইভেটকারকে ১০০০ টাকা এবং পিকআপকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে।
তবে উপস্থিত অনেক চালক অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও তখন কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছিল না। এতে চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশনে হট্টগোল শুরু হয়। ক্ষুব্ধ চালকেরা চিৎকার করে বলেন, “যদি তেল দেওয়াই না হয়, তাহলে দড়ি বেঁধে পাম্প বন্ধ করে রাখলেই পারত। অযথা আমাদের হয়রানি করার দরকার কী?”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত কেউ একজন এয়ারপোর্ট থানায় ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে তেলের মেশিন চালু করা হয় এবং লাইনে থাকা যানবাহনগুলোকে তেল দেওয়া শুরু হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরে তেল বিক্রি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
এদিকে রাজশাহী বিভাগজুড়ে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ নিয়ে সাময়িক সংকটের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক অভিযোগ করছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। যেসব পাম্পে তেল রয়েছে, সেগুলোতে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তেল দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মেসার্স আফরীন ফিলিং স্টেশন-এর ম্যানেজার সোলায়মান কবির বলেন, “ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে তেল পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ডিপোতেও এখন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গাড়িতে তেল লোড হচ্ছে। দেশে তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। কিন্তু হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, সেই কারণেও দ্রুত সংকট কাটানো সম্ভব হচ্ছে না।”
সোলায়মান কবির জানান, তাদের পাম্পে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই বিক্রি বেড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। এতে করে পাম্পে তেলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীকাল নতুন করে তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহীতে জ্বালানি সংকটের গুজবে ফিলিং স্টেশনে ভিড়, পুলিশ পাহারায় তেল বিক্রি

আপডেট সময়ঃ ০৫:০৮:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি ও আতঙ্কের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে, আবার অনেক স্থানে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর একটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের উপস্থিতিতে তেল বিক্রি করার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার বিমানবন্দরের সামনে অবস্থিত মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। তেল নেওয়ার আশায় অনেক চালক সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। ফিলিং স্টেশনের তেলের মেশিনের ওপর সাদা কাগজে লাল কালি দিয়ে লেখা ছিল—জ্বালানি সংকটের কারণে মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকার তেল, মাহিন্দ্রা বা ভুটভুটিকে ২০০ টাকা, প্রাইভেটকারকে ১০০০ টাকা এবং পিকআপকে ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হবে।
তবে উপস্থিত অনেক চালক অভিযোগ করেন, পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও তখন কোনো যানবাহনকে তেল দেওয়া হচ্ছিল না। এতে চালকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশনে হট্টগোল শুরু হয়। ক্ষুব্ধ চালকেরা চিৎকার করে বলেন, “যদি তেল দেওয়াই না হয়, তাহলে দড়ি বেঁধে পাম্প বন্ধ করে রাখলেই পারত। অযথা আমাদের হয়রানি করার দরকার কী?”
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত কেউ একজন এয়ারপোর্ট থানায় ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বললে তেলের মেশিন চালু করা হয় এবং লাইনে থাকা যানবাহনগুলোকে তেল দেওয়া শুরু হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই পরে তেল বিক্রি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
এদিকে রাজশাহী বিভাগজুড়ে পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ নিয়ে সাময়িক সংকটের কারণে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক অভিযোগ করছেন, চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। যেসব পাম্পে তেল রয়েছে, সেগুলোতে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে তেল দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে মেসার্স আফরীন ফিলিং স্টেশন-এর ম্যানেজার সোলায়মান কবির বলেন, “ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মানুষের মধ্যে তেল পাওয়া নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা দুই থেকে তিন গুণ বেড়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “ডিপোতেও এখন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি গাড়িতে তেল লোড হচ্ছে। দেশে তেলের কোনো প্রকৃত ঘাটতি নেই। কিন্তু হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে রাজশাহীতে তেল পৌঁছাতে যে সময় লাগে, সেই কারণেও দ্রুত সংকট কাটানো সম্ভব হচ্ছে না।”
সোলায়মান কবির জানান, তাদের পাম্পে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই বিক্রি বেড়ে ১১ থেকে ১২ হাজার লিটারে পৌঁছেছে। এতে করে পাম্পে তেলের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার ও শনিবার ডিপো বন্ধ থাকায় অনেক পাম্পে তেল শেষ হয়ে গেছে। তবে আগামীকাল নতুন করে তেল সরবরাহ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।