মান্দায় পুলিশের সহায়তায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৫৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
- / ৮৪ বার পড়া হয়েছে।

মান্দা প্রতিনিধি :
নওগাঁর মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে একটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় প্রতিপক্ষের লোকজন মধ্যযুগীয় কায়দায় তাদের ওপর এ তাণ্ডব চালায়।
আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সতিহাট বাসস্ট্যান্ডের অদুরে শ্রীরামপুর পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আমছের আলী নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। আটক আমছের আলী প্রামাণিক রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার খামারগাঁ গ্রামের মৃত ইসমাইল প্রামাণিকের ছেলে।
হামলাকারীরা রামদা ও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘরের ছাউনির ঢেউটিন নষ্ট করে দেয়। ঘরের টিভি, ফ্রিজ, সু-কেস, ফিটিংস পাইপসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিল ও একটি মোটরসাইকেল।
ভুক্তভোগী আল মাহমুদ হক জুয়েল বলেন, ‘আমার ভোগদলীয় জমিতে গতকাল রোববার (৮ মার্চ) সকালে আমছের আলী ভাড়াটিয়া লোকজন দিয়ে হঠাৎ করেই ইট-বালু ফেলে ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এ বিষয়ে আমি মান্দা থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে আমছের আলী অর্ধশতাধিক ভাড়াটিয়া কিশোর গ্যাং দিয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া ১০ লাখ টাকা, একটি মোটরসাইকেল, জমির কাগজপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় পরিবারের একমাত্র শিশু মেয়ে জেমি ও তার মাকেও মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্য পলি খাতুন বলেন, ‘ভাঙচুরের সময় সাদা পোশাকে তিনজন পুলিশ সদস্য আশপাশে ঘোরাঘুরি করলেও সহায়তায় এগিয়ে আসেনি। এ সময় থানার ওসির নাম্বারে দফায় দফায় ফোন দিয়ে ঘটনার বিষয়ে অবহিত করা হলেও তিনি সহযোগিতা করেননি।
পলি খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আটক আমছের আলীর ছেলে পুলিশে চাকরি করেন। এজন্য থানা পুলিশ আমাদের কোনো সহযোগিতা করেনি বরং তাদের পক্ষ নিয়ে কাজ করেছেন। ঘটনার ৪ ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেন। সময়মতো পুলিশের সহায়তা পেলে আমার এত ক্ষয়ক্ষতি হতো না।’
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন দেওয়া হলেও আর রিসিভ করেননি।#



















