বাগমারায় হত্যা চেষ্টা মামলায় জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে স্কুল শিক্ষক; বিয়ের প্রলোভনে ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- আপডেট সময়ঃ ০৬:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ৭ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বাগমারায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, বাড়ি নির্মাণের নামে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা গ্রহণ এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষক মুনসুর রহমানের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে এক প্রবাসী নারীর অভিযোগ, তাকে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে। এসব অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার মধ্যে হত্যা চেষ্টা মামলায় গত ২৯ জুলাই আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত মুনসুর রহমান বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের পোড়াকয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
ভুক্তভোগী প্রবাসী নারী সাংবাদিকদের জানান, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর আত্মীয়তার সূত্রে মুনসুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সংসারের স্বপ্ন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাড়ি নির্মাণসহ নানা অজুহাতে তার কাছ থেকে ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন।
তার ভাষ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে তিনি মুনসুর রহমানের বাড়িতে ওঠেন। আনুষ্ঠানিক বিয়ে না হলেও বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করেন। এ সময় জীবনসঙ্গী হিসেবে বিশ্বাস করে নিজের সঞ্চিত অর্থ তার হাতে তুলে দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে মুনসুর রহমান বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। পরে তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিতে শুরু করেন।
ভুক্তভোগী নারীর দাবি, বর্তমানে তিনি যে বাড়িতে অবস্থান করছেন সেটিও তার অর্থায়নে নির্মিত। অথচ সেখান থেকে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া মুনসুর রহমান ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যাংকের চেকবই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ অর্থ জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবাদ করলে তাকে ও তার স্বজনদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার ওপর হত্যার চেষ্টাও চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী জানান, তিনি ২০১৮ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে জর্ডানে যান এবং পরে দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত ছিলেন। কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত অর্থ ভবিষ্যৎ সংসারের আশায় মুনসুর রহমানকে দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করেন।
এ ঘটনায় তিনি মুনসুর রহমান ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মোট ছয়টি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। এর মধ্যে হত্যা চেষ্টা মামলায় গত ২৯ জুলাই আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে মুনসুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বিয়ের প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী নারী সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে মুনসুর রহমান নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।









