বাগমারায় বীরকয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৪:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বীরকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক প্রাইভেট পড়ানো, অর্থ আদায়, সনদপত্র দেওয়ার নামে টাকা নেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সোমবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের তার কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করেন। প্রাইভেটে না পড়লে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক ৪০০ টাকা আদায়, পঞ্চম শ্রেণির পাঠ শেষে সনদপত্র দেওয়ার নামে ৪০০ টাকা নেওয়া, পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের পুরাতন বই সংগ্রহ করে বিক্রি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে অন্য শিক্ষক দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বীরকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা রোজিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি আগে থেকেই বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দুই ব্যাচে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াই। এরপর বিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়। তিন বছর ধরে এ বিদ্যালয়ে কর্মরত আছি। এর আগে অন্য বিদ্যালয়েও ছিলাম। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরুর আগে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে আসছি। এক সপ্তাহ আগে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়ানো নিয়ে আপত্তি জানানোর পর বর্তমানে নিজ বাসায় পড়াচ্ছি।
তবে অভিভাবকদের দাবি, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক এভাবে প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। তারা অভিযোগ করেন, প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ৪০০ টাকা নেওয়া হয়। যারা প্রাইভেট পড়ে না, তাদের পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হয় এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বাড়িতে খাবার না থাকলেও শিক্ষকের প্রাইভেটের বেতন দিতে হয়। বিদ্যালয়ে ঠিকমতো পাঠদান হলে আলাদা করে প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হতো না। শুধু তাই না বিদ্যালয় থেকে ওই শিক্ষিকার বাড়ি প্রায় দেড় কিলোমিটার। জনমানব শূন্য রাস্তায় ভোরে শিক্ষার্থীদের যেতে হয় তার বাসার প্রাইভেট পড়তে। এই কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুনসুর রহমান বলেন, কিছুদিন হলো আমি সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। এরপর থেকেই জানতে পারি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের জোর করে প্রাইভেট পড়ান। অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারের মাসে ৪০০ টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমি শুনেছি তিনি ক্লাস শুরুর আগে তিন ব্যাচ প্রাইভেট পড়াতেন। নিষেধ করার পর বর্তমানে নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়াচ্ছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিদ্যালয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন বলে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ বলেন, বীরকয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















