বাগমারায় পিতার অনুপ্রেরণায় শিক্ষকতায় আতাউর রহমান শিবলী
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ৫ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
পিতার অনুপ্রেরণা আর শিক্ষা বিস্তারের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে শিক্ষকতার মহান পেশায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী। দীর্ঘ ৩৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনে তিনি শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, গড়ে তুলেছেন একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং আলোকিত করেছেন হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।
১৯৯৯ সালে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজ। প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে টানা ২৮ বছর ধরে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।
তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে কলেজটি আজ বাগমারা উপজেলার অন্যতম সেরা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরুতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় তিনি প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করান, যা বর্তমানে শিক্ষার মান ও সাফল্যের দিক থেকে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে আতাউর রহমান শিবলী গোপালপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন। তাঁর নেতৃত্বে ভবানীগঞ্জ কারিগরি ও ব্যবস্থাপনা কলেজে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করা হয়, যা তাদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
২০০১ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। নবম শ্রেণির ফাইনাল, এসএসসি (ভোকেশনাল) এবং এইচএসসি (বিএম) পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে কলেজটির সুনাম ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী, যা তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তাঁর হাত ধরেই প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও তিনি শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষের সম্মানে ভূষিত হন। তাঁর শিক্ষাদর্শন ও নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।
শুধু প্রতিষ্ঠান পরিচালনাই নয়, শিক্ষক সমাজের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত তিনি। চাকরি জীবনে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক সমিতির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা তাঁর পেশাগত নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার পরিচয় বহন করে।
ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সফল একজন মানুষ। তিন সন্তানের জনক আতাউর রহমান শিবলীর বড় ছেলে ডাক্তার সাব্বির আহমেদ শিবলী (এমবিবিএস), ছোট ছেলে সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শাবাব আহমেদ শিবলী এবং তাঁর জামাতা সেনা কর্মকর্তা মেজর সাজ্জাদ হোসেন। তাঁর সহধর্মিণী জেসমিন আরা ইতি ‘স্বর্ণগর্ভা মা’ হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের সম্মাননা লাভ করেছেন।
আতাউর রহমান শিবলীর পারিবারিক শিক্ষার ভিত্তিও ছিল দৃঢ়। তাঁর পিতা মরহুম মাওলানা ওমর ফারুক বালানগর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন শেষে সেখান থেকেই অবসর গ্রহণ করেন। পিতার সেই আদর্শই তাঁকে শিক্ষকতা পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।
অধ্যক্ষ আতাউর রহমান শিবলী বলেন, শিক্ষকতা এমন একটি পেশা, যা মানুষের জীবনে আলোর দিশা দেখায়। একজন শিক্ষক হাজারো শিক্ষার্থীর জীবন গড়ে দিতে পারেন। একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম।
স্থানীয়দের মতে, তাঁর মতো নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকের হাত ধরেই বাগমারায় কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটেছে এবং নতুন প্রজন্ম পাচ্ছে বাস্তবমুখী শিক্ষার সুযোগ। শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।









