০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার চুরি, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১ বার পড়া হয়েছে।

 

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অভিনব কৌশলে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যাওয়া একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের তিন দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল আলিম (২৮) এবং বাবা খলিলুর রহমান (৪৮)।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় ইয়াসমিন খাতুন ও তাঁর স্বামী আবদুল আলিম তাঁদের এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে বাগমারা গ্রামের সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বাড়িতে যান। তারা নিজেদের সাংবাদিক মামুনুর রশিদের প্রয়াত বড় ভাই, যিনি পুলিশের সদস্য ছিলেন, তাঁর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আশ্রয় নেন। পরিবারের গৃহিণী রাহামা বিবি সরল বিশ্বাসে তাঁদের ঘরে থাকতে দেন।
পরদিন সকালে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাহামা বিবি দেখতে পান, ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা খুলে সেখানে রাখা তাঁর ও তাঁর কলেজপড়ুয়া মেয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেছে চক্রটি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
এ ঘটনায় বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করা হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন ও এসআই রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে নাটোর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন।

ভুক্তভোগী রাহামা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর পেনশনের টাকা দিয়ে কলেজে পড়ুয়া মেয়ের জন্য গহনা বানিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার নিজের গহনাও ছিল। আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্রটি সব শেষ করে দিল।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে একই কৌশলে চুরি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে একই উপায়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে স্বর্ণালঙ্কার চুরি, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময়ঃ ০২:২৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

 

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় আত্মীয় পরিচয়ে এক সাংবাদিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে অভিনব কৌশলে সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে পালিয়ে যাওয়া একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের তিন দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ভাঙ্গা জাঙ্গাল গ্রামের ইয়াসমিন খাতুন (২৮), তাঁর স্বামী আবদুল আলিম (২৮) এবং বাবা খলিলুর রহমান (৪৮)।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই সন্ধ্যায় ইয়াসমিন খাতুন ও তাঁর স্বামী আবদুল আলিম তাঁদের এক বছরের শিশুসন্তানকে নিয়ে বাগমারা গ্রামের সাংবাদিক মামুনুর রশিদের বাড়িতে যান। তারা নিজেদের সাংবাদিক মামুনুর রশিদের প্রয়াত বড় ভাই, যিনি পুলিশের সদস্য ছিলেন, তাঁর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আশ্রয় নেন। পরিবারের গৃহিণী রাহামা বিবি সরল বিশ্বাসে তাঁদের ঘরে থাকতে দেন।
পরদিন সকালে অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রাহামা বিবি দেখতে পান, ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারের তালা খুলে সেখানে রাখা তাঁর ও তাঁর কলেজপড়ুয়া মেয়ের প্রায় সাড়ে পাঁচ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি করে নিয়ে গেছে চক্রটি। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়।
এ ঘটনায় বাগমারা থানায় মামলা দায়ের করা হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দীন ও এসআই রফিকুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে নাটোর থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন।

ভুক্তভোগী রাহামা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর পেনশনের টাকা দিয়ে কলেজে পড়ুয়া মেয়ের জন্য গহনা বানিয়েছিলাম। সঙ্গে আমার নিজের গহনাও ছিল। আত্মীয়ের পরিচয় দিয়ে প্রতারক চক্রটি সব শেষ করে দিল।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে একই কৌশলে চুরি ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী থানায় এসে একই উপায়ে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে চুরি হওয়া স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।