০৯:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনে ভাসমান ভোটারেই নির্ধারিত হতে পারে বিজয়

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময়ঃ ১১:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২৪১ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ভোটের মাঠে জমে উঠেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন সমীকরণ। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে কৌতূহল ও আলোচনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ভাসমান ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের আয়তন ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার। ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

বিপুলসংখ্যক ভোটার ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে এ আসনকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মোট ভোটারের একটি বড় অংশ—প্রায় চারভাগের এক ভাগ ভোটারকে ভাসমান ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাসমান ভোটারদের অবস্থানই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

এ আসনে এবারে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আব্দুল বারী, নাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকে তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাগমারার ভাসমান ভোটাররা সাধারণত এলাকার মাতব্বর, আত্মীয়-স্বজন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও ভাবমূর্তিও ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।

এলাকায় আলোচনায় রয়েছে, ভাসমান ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন। তারা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও এলাকার সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দিতে আগ্রহী—এমন মানসিকতার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে বড় একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে এসেছে ভিন্ন মাত্রা। ফলে ভাসমান ভোটাররা যে প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবেন, সেই দিকেই বিজয়ের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক ভাসমান ভোটার, একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের নির্বাচন এবারে হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী-৪ বাগমারা আসনে ভাসমান ভোটারেই নির্ধারিত হতে পারে বিজয়

আপডেট সময়ঃ ১১:০৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ভোটের মাঠে জমে উঠেছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। দীর্ঘদিনের চেনা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন সমীকরণ। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে কৌতূহল ও আলোচনা। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে বিজয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে ভাসমান ভোটাররা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের আয়তন ৩৬৬ বর্গ কিলোমিটার। ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭২০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

বিপুলসংখ্যক ভোটার ও ভৌগোলিক বিস্তৃতির কারণে এ আসনকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মোট ভোটারের একটি বড় অংশ—প্রায় চারভাগের এক ভাগ ভোটারকে ভাসমান ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাসমান ভোটারদের অবস্থানই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

এ আসনে এবারে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—ধানের শীষ প্রতীকে ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. আব্দুল বারী, নাঙ্গল প্রতীকে ফজলুল হক এবং হাতপাখা প্রতীকে তাজুল ইসলাম।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাগমারার ভাসমান ভোটাররা সাধারণত এলাকার মাতব্বর, আত্মীয়-স্বজন ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের প্রতি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সততা ও ভাবমূর্তিও ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে।

এলাকায় আলোচনায় রয়েছে, ভাসমান ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অর্থের বিনিময়ে ভোট দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছেন। তারা উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও এলাকার সামগ্রিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ভোট দিতে আগ্রহী—এমন মানসিকতার প্রতিফলনও দেখা যাচ্ছে।

এবারের নির্বাচনে বড় একটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ভোটের হিসাব-নিকাশে এসেছে ভিন্ন মাত্রা। ফলে ভাসমান ভোটাররা যে প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেবেন, সেই দিকেই বিজয়ের পাল্লা ভারী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে বিপুলসংখ্যক ভাসমান ভোটার, একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের নির্বাচন এবারে হয়ে উঠেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত।