০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দোকান ভাঙা হয়েছিল উন্নয়নের আশ্বাসে, সাত বছরেও ফেরেনি দোকান

শাহিনুর সুজন
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে।

শাহিনুর সুজন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

একটি দোকানই ছিল তাঁদের জীবিকার ঠিকানা। আধুনিক মার্কেট নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে সেই দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল,এক বছরের মধ্যেই নতুন দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই এক বছর পেরিয়ে গেছে সাত বছরে। দোকান ফেরেনি, অনেকের ব্যবসাও থেমে গেছে। এরই মধ্যে দোকান পাওয়ার আশায় কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে আরও বড় প্রশ্ন,৮২ ব্যবসায়ীর জন্য নির্মিত মার্কেটে দোকানঘরই যদি থাকে মাত্র ২৬টি, তাহলে বাকি ৫৬ ব্যবসায়ীর কী হবে?

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী হাটের দুইতলা আধুনিক কিচেন মার্কেট ঘিরে এমনই প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের পুরোনো দোকান উচ্ছেদ করে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময়েও তাঁদের পুনর্বাসন হয়নি। বরং দোকান বরাদ্দের নামে দফায় দফায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এখন পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নন্দনগাছী হাটে দুইতলা আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর। শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২১ সালের ১০ মার্চ। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪২ শতক জায়গা ফাঁকা করতে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মিম ডেভেলপার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

কিন্তু অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো,উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ী ৮২ জন হলেও মার্কেটের দোকানঘর রয়েছে মাত্র ২৬টি। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী ২৬টি দোকান বরাদ্দ করা হলে অন্তত ৫৬ জন ব্যবসায়ী দোকান পাওয়ার সুযোগ থেকে বাদ পড়বেন। তাঁদের পুরোনো ব্যবসার জায়গা নেই, নতুন মার্কেটেও পর্যাপ্ত দোকান নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে,শুরুতে ৮২ ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করার আগে তাঁদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা কী ছিল?
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ। অনুসন্ধানে একাধিক ব্যবসায়ীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দোকান বা ‘পজিশন’ দেওয়ার কথা বলে মোট প্রায় দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কার কাছে, কোন সময় এবং কীভাবে এসব টাকা দেওয়া হয়েছে,তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি। অনেকের দাবি, টাকা দেওয়ার পরও তাঁদের হাতে নিশ্চিত বরাদ্দপত্র নেই।

বর্তমান বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধেও নতুন করে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি,দোকান বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।কেউ ধার করে, কেউ সঞ্চয় ভেঙে আবার কেউ ঋণ করে এসব টাকা দিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও অনেকের দোকান বরাদ্দ হয়নি।

নন্দনগাছী হাটে প্রায় তিন দশক ধরে লবণের ব্যবসা করা জামিরুল ইসলাম বলেন, মার্কেট নির্মাণের ঘোষণা আসার পর এক বছরের মধ্যে দোকান দেওয়ার আশ্বাসে তৎকালীন বাজার কমিটির সভাপতির হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সাত বছরেও দোকান না পেয়ে প্রায় দুই মাস আগে বর্তমান সভাপতি আব্দুল খালেককে আরও তিন লাখ টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর ভাষায়, দোকান পাওয়ার আশায় বারবার টাকা দিতে হয়েছে, অথচ এখনো ব্যবসার জায়গা নিশ্চিত হয়নি।

আখি বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলামও দাবি করেন, আগেও দোকানের জন্য টাকা দিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত পাননি। নতুন করে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পরও দোকান বরাদ্দ হয়নি। লক্ষী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক বৈদ্যনাথ কুমার সরকারও নিচতলায় দোকান নেওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের কমিটির সময়ও ‘পজিশন’ নিশ্চিত করার নামে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। ৮ থেকে ১০ জন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,তাঁরা আগের সময়ে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এসব অর্থের কোনো সরকারি রসিদ বা স্বচ্ছ হিসাব তাঁদের কাছে নেই বলে দাবি তাঁদের।

অন্যদিকে বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,আগের কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আন্দোলনের পর তাঁদের অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান কমিটি সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে না।৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। দ্রুত নিয়ম অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সরওয়ারুল ইসলাম বলেন,প্রায় এক বছর আগেই মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ফারুক হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু ত্রুটি পাওয়া গেলেও সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,মার্কেট এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেনি। হস্তান্তরের পর কাজের মান যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এখন মূল প্রশ্ন,৮২ জন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করে যদি শেষ পর্যন্ত ২৬টি দোকানই বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে বাকি ৫৬ ব্যবসায়ীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব কে নেবে? আর কয়েক দফায় ৪০–৪৫ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং নতুন করে ৩–সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সেই অর্থের হিসাবই বা কোথায়?

নন্দনগাছী হাটের ব্যবসায়ীদের দাবি,শুধু দোকান বুঝিয়ে দিলেই হবে না,কে কত টাকা নিয়েছে,কোন নিয়মে নিয়েছে,কার নামে বরাদ্দ হবে এবং ৮২ ব্যবসায়ীর মধ্যে কারা বাদ পড়বেন,এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য জবাব দিতে হবে।
কারণ সাত বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা এসব ব্যবসায়ীর কাছে এখন নতুন মার্কেট শুধু একটি ভবন নয়,এটি তাঁদের হারিয়ে যাওয়া জীবিকার শেষ আশ্রয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দোকান ভাঙা হয়েছিল উন্নয়নের আশ্বাসে, সাত বছরেও ফেরেনি দোকান

আপডেট সময়ঃ ১০:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাহিনুর সুজন,স্টাফ রিপোর্টারঃ

একটি দোকানই ছিল তাঁদের জীবিকার ঠিকানা। আধুনিক মার্কেট নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে সেই দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল,এক বছরের মধ্যেই নতুন দোকান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সেই এক বছর পেরিয়ে গেছে সাত বছরে। দোকান ফেরেনি, অনেকের ব্যবসাও থেমে গেছে। এরই মধ্যে দোকান পাওয়ার আশায় কয়েক দফায় লাখ লাখ টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এখন নতুন করে দেখা দিয়েছে আরও বড় প্রশ্ন,৮২ ব্যবসায়ীর জন্য নির্মিত মার্কেটে দোকানঘরই যদি থাকে মাত্র ২৬টি, তাহলে বাকি ৫৬ ব্যবসায়ীর কী হবে?

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নন্দনগাছী হাটের দুইতলা আধুনিক কিচেন মার্কেট ঘিরে এমনই প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের পুরোনো দোকান উচ্ছেদ করে আধুনিক মার্কেট নির্মাণের কথা বলা হলেও দীর্ঘ সময়েও তাঁদের পুনর্বাসন হয়নি। বরং দোকান বরাদ্দের নামে দফায় দফায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এখন পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নন্দনগাছী হাটে দুইতলা আধুনিক মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর। শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২১ সালের ১০ মার্চ। প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪২ শতক জায়গা ফাঁকা করতে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীদের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় মিম ডেভেলপার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড।

কিন্তু অনুসন্ধানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সামনে এসেছে তা হলো,উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ী ৮২ জন হলেও মার্কেটের দোকানঘর রয়েছে মাত্র ২৬টি। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী ২৬টি দোকান বরাদ্দ করা হলে অন্তত ৫৬ জন ব্যবসায়ী দোকান পাওয়ার সুযোগ থেকে বাদ পড়বেন। তাঁদের পুরোনো ব্যবসার জায়গা নেই, নতুন মার্কেটেও পর্যাপ্ত দোকান নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে,শুরুতে ৮২ ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করার আগে তাঁদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা কী ছিল?
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ। অনুসন্ধানে একাধিক ব্যবসায়ীর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দোকান বা ‘পজিশন’ দেওয়ার কথা বলে মোট প্রায় দেড় কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কার কাছে, কোন সময় এবং কীভাবে এসব টাকা দেওয়া হয়েছে,তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি। অনেকের দাবি, টাকা দেওয়ার পরও তাঁদের হাতে নিশ্চিত বরাদ্দপত্র নেই।

বর্তমান বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধেও নতুন করে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাঁদের দাবি,দোকান বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩ লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।কেউ ধার করে, কেউ সঞ্চয় ভেঙে আবার কেউ ঋণ করে এসব টাকা দিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও অনেকের দোকান বরাদ্দ হয়নি।

নন্দনগাছী হাটে প্রায় তিন দশক ধরে লবণের ব্যবসা করা জামিরুল ইসলাম বলেন, মার্কেট নির্মাণের ঘোষণা আসার পর এক বছরের মধ্যে দোকান দেওয়ার আশ্বাসে তৎকালীন বাজার কমিটির সভাপতির হাতে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সাত বছরেও দোকান না পেয়ে প্রায় দুই মাস আগে বর্তমান সভাপতি আব্দুল খালেককে আরও তিন লাখ টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর ভাষায়, দোকান পাওয়ার আশায় বারবার টাকা দিতে হয়েছে, অথচ এখনো ব্যবসার জায়গা নিশ্চিত হয়নি।

আখি বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলামও দাবি করেন, আগেও দোকানের জন্য টাকা দিয়েছিলেন। পরে সেই টাকা ফেরত পাননি। নতুন করে তিন লাখ টাকা দেওয়ার পরও দোকান বরাদ্দ হয়নি। লক্ষী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক বৈদ্যনাথ কুমার সরকারও নিচতলায় দোকান নেওয়ার জন্য তিন লাখ টাকা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগের কমিটির সময়ও ‘পজিশন’ নিশ্চিত করার নামে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। ৮ থেকে ১০ জন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,তাঁরা আগের সময়ে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এসব অর্থের কোনো সরকারি রসিদ বা স্বচ্ছ হিসাব তাঁদের কাছে নেই বলে দাবি তাঁদের।

অন্যদিকে বর্তমান বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,আগের কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আন্দোলনের পর তাঁদের অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান কমিটি সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়া কোনো ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে না।৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। দ্রুত নিয়ম অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সরওয়ারুল ইসলাম বলেন,প্রায় এক বছর আগেই মার্কেটের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী ফারুক হোসেন জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু ত্রুটি পাওয়া গেলেও সেগুলো সংশোধন করা হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন,মার্কেট এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেনি। হস্তান্তরের পর কাজের মান যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে। টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি বলে জানান তিনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

এখন মূল প্রশ্ন,৮২ জন ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করে যদি শেষ পর্যন্ত ২৬টি দোকানই বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাহলে বাকি ৫৬ ব্যবসায়ীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব কে নেবে? আর কয়েক দফায় ৪০–৪৫ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং নতুন করে ৩–সাড়ে ৩ লাখ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ সত্য হলে সেই অর্থের হিসাবই বা কোথায়?

নন্দনগাছী হাটের ব্যবসায়ীদের দাবি,শুধু দোকান বুঝিয়ে দিলেই হবে না,কে কত টাকা নিয়েছে,কোন নিয়মে নিয়েছে,কার নামে বরাদ্দ হবে এবং ৮২ ব্যবসায়ীর মধ্যে কারা বাদ পড়বেন,এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য জবাব দিতে হবে।
কারণ সাত বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা এসব ব্যবসায়ীর কাছে এখন নতুন মার্কেট শুধু একটি ভবন নয়,এটি তাঁদের হারিয়ে যাওয়া জীবিকার শেষ আশ্রয়।