হাসিবুর রহমানঃ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার তিওড়কুড়ি থেকে নারায়নপুর হয়ে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত দীর্ঘদিনের ভাঙা ও সরু আধাপাকা রাস্তায় চলাচলে ভোগান্তি ছিলো নিত্যদিনের।

বৃষ্টির দিনে এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাফেরা হতো অত্যন্ত দুর্বিষহ। গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, মানুষকে বাধ্য হয়ে ধরতে হতো আলোপথ। অবশেষে রাস্তা সংস্কারে সেই দুর্দিন কাটিয়ে এলাকায় বইছে স্বস্তির হাওয়া।

৪, ২৮০ মিটার দীর্ঘ সড়কটির নবনির্মাণ কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ২ কোটি ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৮৯৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক যেন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে এলাকাবাসীর জন্য। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মুখে এখন হাসি।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সনের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৬ সেপ্টেম্বর কাজ সম্পন্ন হয়। চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। সড়কের প্রস্থ রাখা হয়েছে ৩ মিটার এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব ২৫ মিলিমিটার।

স্থানীয় ভ্যানচালক আব্দুর রহমান বলেন, আমি নারায়নপুর থেকে প্রতিদিন এই রাস্তায় ভ্যান চালাই। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক কষ্ট করতে হতো। বর্তমানে আর কষ্ট করতে হচ্ছে না এখন সুদিন ফিরেছে, চলাচল হয়েছে অনেক সহজ।

অটোরিকশাচালক সাইফুল জানান, “আগে রাস্তা খারাপ থাকায় যাতায়াতে সময় ও ব্যাটারির চার্জ খরচ বেড়ে যেত। এখন যাত্রীদেরও আরাম, আমাদেরও স্বস্তি।”

জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, “রাস্তার কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রাস্তাটির সংস্কার কাজের ত্রুটি বিচ্যুতি দেখার জন্য ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিলো।
কাজের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। রাস্তার প্রস্থ, কার্পেটিংসহ সব কিছুই মোটামুটি সঠিক পাওয়া গেছে। শুধু বিটুমিনের একটি পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, এই নতুন সড়ক দুর্গাপুর অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে আসবে নতুন গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *