বিএমডিএর সৌরবিদ্যুত চালিত সেচ পাম্প আশার আলো দেখাচ্ছে
- আপডেট সময়ঃ ০৯:৪৬:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ৩৪ বার পড়া হয়েছে।

আলিফ হোসেন, তানোরঃ
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সৌরবিদ্যুত সেচ প্রকল্প কৃষকদের আশার আলো দেখাচ্ছে। সেচ কাজে নতুন সম্ভবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প প্রকল্প বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতে এবং কৃষকদের কম খরচে সেচ সুবিধা দিতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় ডিজেল ও প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানো।পানির সুষ্ঠু ব্যবহার ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বৃদ্ধি করা।কম খরচে সেচ কৃষকদের সেচ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা এবং ফসলের উৎপাদন বাড়ানো।পরিবেশ সুরক্ষা: কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বর্তমান উদ্যোগ ও অগ্রগতি। সরকার দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলার বা সৌরবিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নিয়েছে, যার প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী সৌরচালিত সেচযন্ত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে কৃষিতে সেচ খরচ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প প্রকল্প একটি যুগান্তকারী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম ডিজেল অপসারণ দেশের অদক্ষ ও ব্যয়বহুল ডিজেল চালিত সেচ পাম্পগুলোকে সৌরশক্তি চালিত পাম্পে রূপান্তর করা।নেট মিটারিং ব্যবস্থা: সৌর সেচযন্ত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা, যার মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারেন। ডুয়েল পাম্পিং সিস্টেম: ভূপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির প্রাপ্যতা অনুযায়ী সারফেস ও সাবমার্জড পাম্পের সমন্বয়ে আধুনিক সেচ নিশ্চিত করা।
সুবিধা ও ইতিবাচক প্রভাব খরচ হ্রাস সোলার পাম্প চালুর ফলে কৃষকদের তেল ও নিয়মিত বিদ্যুৎ বা জেনারেটরের খরচ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।পরিবেশ সুরক্ষা: কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ও পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।অব্যাহত সেচ লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সেচ কাজ ব্যাহত হয় না।অতিরিক্ত আয় নিজের জমির চাহিদা মিটিয়ে পার্শ্ববর্তী জমিতে পানি সরবরাহ করে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
বিএমডিএ ইতিমধ্যে প্রায় ২৫৩টি সৌরবিদ্যুত চালিত গভীর নলকুপ স্থাপন চলমান রয়েছে।
জানা গেছে,কৃষি প্রধান বাংলাদেশের খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অবদান অপরিসীম। ফসল উৎপাদনে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা করে ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদার যোগান দেয়ার লক্ষ্যে কৃষিতে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও সংযোজনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) অঞ্চলভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী ভূপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএমডিএ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৌরবিদ্যুত চালিত গভীর নলকুপ স্থাপন শুরু করেছেন। বরেন্দ্র অঞ্চলের তানোর,গোদাগাড়ী ও মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকার ফসলের মাঠে মাঠে সেচ সরবরাহে নবদিগন্তের সূচনা করেছে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের ওপর চাপ কমেছে, অন্যদিকে দিনের বেলা নিরবচ্ছিন্ন সেচের মাধ্যমে স্বল্প খরচে ফল-ফসল উৎপাদন করতে পারছে কৃষক। এতে কৃষকের খরচ যেমন কমেছে, তেমনি বেড়েছে উৎপাদন। ফলে দিন দিন সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকেও সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প সম্প্রসারণে হাতে নিয়েছে নানা পরিকল্পনা
সরেজমিন দেখা গেছে,রাজশাহীর তানোরের সীমান্ত সংলগ্ন মোহনপুর উপজেলার ঘাষিগ্রাম ইউনিয়নের (ইউপি) বড় দেওপুর জেল নম্বর ৩৯, মৌজা বড় দেওপুর ও ১৩৪৬ নম্বর দাগে একটি সৌরবিদ্যুত চালিত গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে।বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিএমডিএর উদ্যোগে সৌরবিদ্যুত চালিত গভীর নলকুপ স্থাপন করা হয়েছে।এটি স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এই গভীর নলকুপের স্কীমে প্রায় দুশ’বিঘা জমিতে নিরবিচ্ছিন্ন সেচ দেয়া হচ্ছে।বাকি সময় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয গ্রীডে যোগ হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল কাদের, নুরনবী ও সহীদুল ইসলাম বলেন,সৌরবিদ্যুত চালিত হওয়ায় এই গভীর নলকুপ থেকে তারা নিরবিচ্ছিন্ন সেচ দিতে পারছেন।তারা সৌরবিদ্যুত চালিত গভীর নলকুপ পেয়ে অনেক খুশি ও বিএমডিএর কাছে কৃতজ্ঞ। এবিষয়ে গভীর নলকুপ অপারেটর ফারুক হোসেন বলেন, ডিজেল চালিত সেচ পাম্প অনেক ব্যয়বহুল। বিদ্যুত চালিত পাম্পেও খরচ অনেক। এছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে বিদ্যুত চালিত পাম্প থেকে সব সময় নিরবচ্ছিন্ন সেচ পাওয়া যায় না। যে কারণে আমরা সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে থাকি। এতে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা নিজের জমিতে সেচ দেয়ার পাশাপাশি অন্যের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।
এদিকে গত সোমবার (২১সেপ্টেম্বর)
বিএমডিএ রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ও নির্বাহী প্রকৌশলী (সেচ) এসএম দেলোয়ার হোসনসহ জাপানের একটি প্রতিনিধি দল বড় দেওপুর সৌরবিদ্যুত চালিত গভীর নলকুপের কার্যক্রম পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, সৌরবিদ্যুিভত্তিক সেচ প্রকল্প একটি ভালো উদ্যোগ। তেলের দাম ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা বিবেচনায় কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি দক্ষ টেকনিশিয়ান তৈরি এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।তিনি আরো বলেন, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প প্রকল্প হলো কৃষকদের জন্য কম খরচে ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে ভূগর্ভস্থ বা উপরিভাগের পানি দিয়ে সেচ কাজ পরিচালনার একটি আধুনিক উদ্যোগ।#




















