০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফরিদপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২৭ বার পড়া হয়েছে।

মধুখালী উপজেলা সংবাদদাতা:

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। উপজেলার রইসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও ২০২২ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহকারী নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে এক জীবিত বৃদ্ধ নারীকে মৃত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভার পূর্ব গাড়াখোলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত অজিত কুমার সরকারের স্ত্রী মায়া রানীকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়।ভুক্তভোগী মায়া রানী জানান, সম্প্রতি কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন ভোটার আইডি কার্ডে তার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মধুখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আদিল জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মায়া রানীর অভিযোগ, শিক্ষিকা নাসিমা বেগম তার সৎ ছেলে রজনীকান্ত ও অমিতাভের যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মৃত দেখিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন।

তিনি জানান, সৎ ছেলেদের পরামর্শে তিনি যখন চোখের চিকিৎসার জন্য সৎ মেয়ের বাড়িতে দুই মাস অবস্থান করছিলেন, সেই সুযোগেই এই জালিয়াতি করা হয়। লোকমুখে তিনি আরও জানতে পেরেছেন, তার শেষ সম্বল বসতভিটাও সুকৌশলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি নিজে তথ্য সংগ্রহ না করে তার স্বামীকে দিয়ে বেশিরভাগ কাজ করিয়েছেন। এ বিষয়ে শিক্ষিকা নাসিমা বেগম দাবি করেন, তার স্বামী সামান্য কিছু তথ্য সংগ্রহ করলেও বাকি কাজ তারা দুজনে মিলেই করেছেন এবং কোনো ভুল করেননি।

এদিকে সৎ ছেলে রজনীকান্তের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই চক্রান্তের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন, তবে তার নিজের অংশটুকু বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। অপর ছেলে অমিতাভের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন সহায়হীন বৃদ্ধ মহিলার সাথে এমন জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ফরিদপুরে জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে মৃত দেখিয়ে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা, অভিযুক্ত স্কুল শিক্ষিকা

আপডেট সময়ঃ ১০:৩৮:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধুখালী উপজেলা সংবাদদাতা:

ফরিদপুরের মধুখালীতে এক অদ্ভুত ও মর্মান্তিক প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে। উপজেলার রইসুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও ২০২২ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহকারী নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে এক জীবিত বৃদ্ধ নারীকে মৃত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

পৌরসভার পূর্ব গাড়াখোলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত অজিত কুমার সরকারের স্ত্রী মায়া রানীকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়।ভুক্তভোগী মায়া রানী জানান, সম্প্রতি কম্পিউটারের দোকানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন ভোটার আইডি কার্ডে তার নামের আগে ‘মৃত’ শব্দ যুক্ত করা হয়েছে।

তাৎক্ষণিকভাবে তিনি মধুখালী উপজেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আদিল জানান, তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত তথ্য সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মায়া রানীর অভিযোগ, শিক্ষিকা নাসিমা বেগম তার সৎ ছেলে রজনীকান্ত ও অমিতাভের যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে মৃত দেখিয়ে সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছেন।

তিনি জানান, সৎ ছেলেদের পরামর্শে তিনি যখন চোখের চিকিৎসার জন্য সৎ মেয়ের বাড়িতে দুই মাস অবস্থান করছিলেন, সেই সুযোগেই এই জালিয়াতি করা হয়। লোকমুখে তিনি আরও জানতে পেরেছেন, তার শেষ সম্বল বসতভিটাও সুকৌশলে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষিকা নাসিমা বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি নিজে তথ্য সংগ্রহ না করে তার স্বামীকে দিয়ে বেশিরভাগ কাজ করিয়েছেন। এ বিষয়ে শিক্ষিকা নাসিমা বেগম দাবি করেন, তার স্বামী সামান্য কিছু তথ্য সংগ্রহ করলেও বাকি কাজ তারা দুজনে মিলেই করেছেন এবং কোনো ভুল করেননি।

এদিকে সৎ ছেলে রজনীকান্তের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই চক্রান্তের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন, তবে তার নিজের অংশটুকু বিক্রি করার কথা স্বীকার করেন। অপর ছেলে অমিতাভের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একজন সহায়হীন বৃদ্ধ মহিলার সাথে এমন জালিয়াতির ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।