০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাগমারার আনোয়ারের

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৮ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন নিয়ে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন (৩০)। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাঁর। নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এই যুবক। স্বামীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ফাতেমা বিবি। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তাঁর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। অন্যদিকে, বাড়ির পাশে পারিবারিক গোরস্থানে চলছে আনোয়ারের দাফনের প্রস্তুতি। স্বজনদের অপেক্ষা এখন প্রিয়জনের মরদেহের জন্য।
নিহত আনোয়ার হোসেন বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাইপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সম্প্রতি একটি প্রকল্পে নতুন চাকরিতে যোগ দেন। সেই চাকরিতে যোগদান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে আসা আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে নাটোর সদর হাসপাতালে এক শিশুসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

আনোয়ারের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার সকালে পৌঁছায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিক একটি সকাল দেখার কথা ছিল পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু তাঁদের দিন শুরু হয় স্বজন হারানোর সংবাদে। একই উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকা আনোয়ারের পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছায় মৃত্যুর খবর। মুহূর্তেই বাড়ির পরিবেশ বদলে যায় কান্না আর আহাজারিতে।

সকালে আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা ভিড় করছেন। বাড়ির পাশের পারিবারিক গোরস্থানে কবর খননের কাজ চলছে। তবে তখনও মরদেহ এসে পৌঁছায়নি। সকালেই মরদেহ আনতে নাটোরে যান তাঁর চাচা আকতার হোসেন।

সকাল ১০টার দিকে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি। স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়া ফাতেমা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে সামনের দিনগুলো পার করবেন, সেই দুশ্চিন্তার ভার যেন তাঁর শোককে আরও গভীর করে তুলেছে।

মুঠোফোনে আনোয়ারের চাচা আকতার হোসেন বলেন, “লাশ লিবার আলছি, এখনো পাইনি।”
নিহতের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে একটি প্রকল্পে নতুন চাকরি পান তিনি। সেখানে যোগদান করে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, বেতার বার্তায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মরদেহের বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাগমারা থানা।
নতুন কর্মজীবনের শুরুতেই আনোয়ারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও এলাকায়। যে বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা, সেই বাড়িতেই এখন চলছে তাঁকে শেষবারের মতো বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নাটোরের দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাগমারার আনোয়ারের

আপডেট সময়ঃ ০২:২৮:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন নিয়ে রওনা হয়েছিলেন আনোয়ার হোসেন (৩০)। কিন্তু বাড়ি ফেরা আর হলো না তাঁর। নাটোরের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার এই যুবক। স্বামীর মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী ফাতেমা বিবি। দুই সন্তানকে নিয়ে এখন তাঁর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। অন্যদিকে, বাড়ির পাশে পারিবারিক গোরস্থানে চলছে আনোয়ারের দাফনের প্রস্তুতি। স্বজনদের অপেক্ষা এখন প্রিয়জনের মরদেহের জন্য।
নিহত আনোয়ার হোসেন বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাইপাড়া গ্রামের বাবর আলীর ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সম্প্রতি একটি প্রকল্পে নতুন চাকরিতে যোগ দেন। সেই চাকরিতে যোগদান শেষে বাড়ি ফেরার পথেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাটোর ফায়ার সার্ভিস ও বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে আসা আরপি পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে নাটোর ও রাজশাহীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে নাটোর সদর হাসপাতালে এক শিশুসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

আনোয়ারের মৃত্যুর খবর মঙ্গলবার সকালে পৌঁছায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। প্রতিদিনের মতো ঘুম থেকে উঠে স্বাভাবিক একটি সকাল দেখার কথা ছিল পরিবারের সদস্যদের। কিন্তু তাঁদের দিন শুরু হয় স্বজন হারানোর সংবাদে। একই উপজেলার কনোপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে থাকা আনোয়ারের পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছায় মৃত্যুর খবর। মুহূর্তেই বাড়ির পরিবেশ বদলে যায় কান্না আর আহাজারিতে।

সকালে আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা ভিড় করছেন। বাড়ির পাশের পারিবারিক গোরস্থানে কবর খননের কাজ চলছে। তবে তখনও মরদেহ এসে পৌঁছায়নি। সকালেই মরদেহ আনতে নাটোরে যান তাঁর চাচা আকতার হোসেন।

সকাল ১০টার দিকে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়িতে আসেন আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি। স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়া ফাতেমা ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। স্বামীকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে সামনের দিনগুলো পার করবেন, সেই দুশ্চিন্তার ভার যেন তাঁর শোককে আরও গভীর করে তুলেছে।

মুঠোফোনে আনোয়ারের চাচা আকতার হোসেন বলেন, “লাশ লিবার আলছি, এখনো পাইনি।”
নিহতের ভাতিজা মিজানুর রহমান জানান, আনোয়ার হোসেন ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। কিছুদিন আগে একটি প্রকল্পে নতুন চাকরি পান তিনি। সেখানে যোগদান করে বাড়ি ফেরার পথেই দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, বেতার বার্তায় দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পরিবারের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মরদেহের বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বাগমারা থানা।
নতুন কর্মজীবনের শুরুতেই আনোয়ারের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও এলাকায়। যে বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনেরা, সেই বাড়িতেই এখন চলছে তাঁকে শেষবারের মতো বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি।