০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের আগমনে খেজুর রস সংগ্রহে গাছিরা তৎপর

আব্দুস ছালাম
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে।

আব্দুস ছালাম , আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি :

নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের আগমনে শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের তৎপরতা। সুস্বাদু এ রস সংগ্রহে গাছিরা এখন বিচরণ করছেন খেজুর গাছে গাছে। সেই দুপুর থেকে শুরু হয় খেজুর গাছে হাড়ি টানানো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা হাড়ি টানানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এটি শীতকালীন রস হলেও এবার আগাম রস সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন গাছিরা। ​উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায়, বাড়ির উঠানে ও জমির আইলে হাজার হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছিরা এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও দৃষ্টি কেড়েছে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে রেললাইনের খেজুর গাছগুলো। আত্রাই রেলওয়ে (পুরাতন) স্টেশন থেকে উত্তর দিকে মহাদীঘি পর্যন্ত রেল লাইনের দুই ধারে প্রায় ৩ শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। এক সময় এলাকার গাছিরা এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও বর্তমানে এলাকার গাছিদের আর দেখা মেলে না। তাই প্রতি বছর রাজশাহীর বাঘা, আড়ানী ও নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকেন। আর এ রস দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালী ও গুড়। এলাকার চাহিদা মিটিয়েও এ গুড় বাজারজাত করা হয় অন্যান্য জেলায়। বিগত বছরের ন্যায় এবারও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ তিনজন এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলামসহ দুজন গাছি রস সংগ্রহ শুরু করেছেন। ​রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। আত্রাই রেল লাইনসহ এলাকার প্রায় ২ শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি এবং সেই কাক ডাকা ভোর থেকে এগুলো রস জ্বাল করে লালী ও গুড় তৈরি করি। বছরের ৪ মাস আমরা এ পেশায় নিয়োজিত থাকি। এর আয় দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসারের ব্যয়ভার বহন করে থাকি। নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলাম বলেন, খেজুর রস সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। বিশেষ অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কেউ এ রস সংগ্রহ করতে পারবে না। বিশেষ করে এ রস জ্বাল করে লালী বা গুড় তৈরি করা খুবই কষ্টের একটি কাজ। সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে সব কিছুকে উপেক্ষা করে আমরা এ পেশা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, খেজুর গাছ একটি লাভজনক গাছ। পতিত জমি, রাস্তার ধার এবং যে কোন জায়গায় এ গাছ হয়। খেজুর গাছ থেকে একদিকে যেমন সুস্বাদু রস, লালী ও গুড় তৈরি করা হয় তেমনি অনেক জ্বালানিও সংগ্রহ করা যায়। অধিক হারে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে কৃষক লাভবান হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের আগমনে খেজুর রস সংগ্রহে গাছিরা তৎপর

আপডেট সময়ঃ ০৭:৩২:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আব্দুস ছালাম , আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি :

নওগাঁর আত্রাইয়ে শীতের আগমনে শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের তৎপরতা। সুস্বাদু এ রস সংগ্রহে গাছিরা এখন বিচরণ করছেন খেজুর গাছে গাছে। সেই দুপুর থেকে শুরু হয় খেজুর গাছে হাড়ি টানানো এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা হাড়ি টানানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এটি শীতকালীন রস হলেও এবার আগাম রস সংগ্রহে তৎপর হয়ে উঠেছেন গাছিরা। ​উপজেলার ৮ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায়, বাড়ির উঠানে ও জমির আইলে হাজার হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। গাছিরা এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও দৃষ্টি কেড়েছে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষে রেললাইনের খেজুর গাছগুলো। আত্রাই রেলওয়ে (পুরাতন) স্টেশন থেকে উত্তর দিকে মহাদীঘি পর্যন্ত রেল লাইনের দুই ধারে প্রায় ৩ শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ শুরু করেছেন গাছিরা। এক সময় এলাকার গাছিরা এসব খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করলেও বর্তমানে এলাকার গাছিদের আর দেখা মেলে না। তাই প্রতি বছর রাজশাহীর বাঘা, আড়ানী ও নাটোরের লালপুর এলাকা থেকে গাছিরা এসে এসব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে থাকেন। আর এ রস দিয়ে তৈরি করা হয় সুস্বাদু লালী ও গুড়। এলাকার চাহিদা মিটিয়েও এ গুড় বাজারজাত করা হয় অন্যান্য জেলায়। বিগত বছরের ন্যায় এবারও রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ তিনজন এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলামসহ দুজন গাছি রস সংগ্রহ শুরু করেছেন। ​রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খায়েরহাট গ্রামের গাছি মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। আত্রাই রেল লাইনসহ এলাকার প্রায় ২ শতাধিক খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করি এবং সেই কাক ডাকা ভোর থেকে এগুলো রস জ্বাল করে লালী ও গুড় তৈরি করি। বছরের ৪ মাস আমরা এ পেশায় নিয়োজিত থাকি। এর আয় দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসারের ব্যয়ভার বহন করে থাকি। নাটোরের লালপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের আব্দুল ইসলাম বলেন, খেজুর রস সংগ্রহ করা ঝুঁকিপূর্ণ একটি কাজ। বিশেষ অভিজ্ঞতা ছাড়া যে কেউ এ রস সংগ্রহ করতে পারবে না। বিশেষ করে এ রস জ্বাল করে লালী বা গুড় তৈরি করা খুবই কষ্টের একটি কাজ। সংসারের ব্যয়ভার মেটাতে সব কিছুকে উপেক্ষা করে আমরা এ পেশা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, খেজুর গাছ একটি লাভজনক গাছ। পতিত জমি, রাস্তার ধার এবং যে কোন জায়গায় এ গাছ হয়। খেজুর গাছ থেকে একদিকে যেমন সুস্বাদু রস, লালী ও গুড় তৈরি করা হয় তেমনি অনেক জ্বালানিও সংগ্রহ করা যায়। অধিক হারে খেজুর গাছ রোপণ ও পরিচর্যা করলে কৃষক লাভবান হবে।