০৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আছে ১ জন

সাইফুল ইসলাম
  • আপডেট সময়ঃ ০২:২৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ বার পড়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণ বাড়ৈ (৩৫) ও মনোতোষ হালদার (৩৮) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনিল বাড়ৈ নামে আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) ও রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার দিঘলীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষ্ণ বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে। অপরজন নিহত মনোতোষ হালদার একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার দিন রাতে দিঘলীয়া গ্রামের মনোতোষ হালদার, কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ ও অনিল বাড়ৈ মিলে মদ্যপান করে। মদ্য পান করার পরে রাতে ওই তিন যুবক অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকার লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই তিন যুবকের শারীরিক অবস্থার অনবতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন।পরবর্তীতে ঢাকার পপু লার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) মনোতোষ হালদার ও রোববার (২৫ অক্টোবর) সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ মারা যায়।

কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, দূর্গাপূজা উপলক্ষে আমার ভাই কৃষ্ণান্তসহ তিনজন ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের গ্রাম খাগবাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজনে মিলে মদ্যপান করে। মদ্যপানে কয়েক ঘন্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে আমরা থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করিনি।

মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, আমার ভাই মনোতোষ হালদার পূজায় ডেকোরেটরের কাজে গিয়ে পানি জাতীয় কিছু খেয়েছিল। যার কারনে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।এরপরে এখানে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পপুলার হাসপাতালে সে মারা যায়।

রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিম চরণ বাগচী বলেন, দুর্গাপূজার সময় সমবয়সী চার-পাঁচজন তরুণ তরল জাতীয় কিছু একটা পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি। আমরাও এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোপালগঞ্জে বিষাক্ত মদপানে দুজনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আছে ১ জন

আপডেট সময়ঃ ০২:২৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় বিষাক্ত মদপানে অসুস্থ হয়ে কৃষ্ণ বাড়ৈ (৩৫) ও মনোতোষ হালদার (৩৮) নামে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অনিল বাড়ৈ নামে আরও এক যুবক ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) ও রোববার (২৫ অক্টোবর) উপজেলার দিঘলীয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষ্ণ বাড়ৈ কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলীয়া গ্রামের গেদু বাড়ৈর ছেলে। অপরজন নিহত মনোতোষ হালদার একই গ্রামের মহেন্দ্র হালদারের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠী পূজার দিন রাতে দিঘলীয়া গ্রামের মনোতোষ হালদার, কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ ও অনিল বাড়ৈ মিলে মদ্যপান করে। মদ্য পান করার পরে রাতে ওই তিন যুবক অসুস্থ হয়ে পড়লে এলাকার লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই তিন যুবকের শারীরিক অবস্থার অনবতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করেন।পরবর্তীতে ঢাকার পপু লার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ( ২৪ অক্টোবর) মনোতোষ হালদার ও রোববার (২৫ অক্টোবর) সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈ মারা যায়।

কৃষ্ণকান্ত বাড়ৈর ভাই বিষ্ণু বাড়ৈ বলেন, দূর্গাপূজা উপলক্ষে আমার ভাই কৃষ্ণান্তসহ তিনজন ডেকোরেটরের কাজ করতে পাশের গ্রাম খাগবাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে কয়েকজনে মিলে মদ্যপান করে। মদ্যপানে কয়েক ঘন্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। এ ব্যাপারে আমরা থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করিনি।

মনোতোষ হালদারের ভাই উত্তম হালদার বলেন, আমার ভাই মনোতোষ হালদার পূজায় ডেকোরেটরের কাজে গিয়ে পানি জাতীয় কিছু খেয়েছিল। যার কারনে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।এরপরে এখানে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করি। গত শনিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পপুলার হাসপাতালে সে মারা যায়।

রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিম চরণ বাগচী বলেন, দুর্গাপূজার সময় সমবয়সী চার-পাঁচজন তরুণ তরল জাতীয় কিছু একটা পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রিয়াদ মাহামুদ বলেন, ঘটনাটি আমাদের কেউ জানায়নি। আমরাও এ বিষয়ে অবগত নই। কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।