১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ঘিরে বিস্তর অভিযোগ 

ডিপিডি প্রতিবেদক
  • আপডেট সময়ঃ ১০:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩১ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

 

ডিপিডি প্রতিবেদকঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ঘিরে চাঁদা আদায়, নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, শব্দ দুষণ ও বিদ্যুৎ অপচয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের চত্বরে আয়োজিত এ মেলায় প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা এমন অভিযোগও করেছেন অনেকে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, জেলাজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দিনভর উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স ও ডিজে বাজানোর কারণে আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ শব্দ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মেলায় ৪৩টির বেশি স্টলসহ আরও কয়েকটি স্টল রয়েছে। তবে এত বড় আয়োজনেও স্থানীয় কোনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
মেলার প্রথম সপ্তাহে দর্শনার্থীদের জন্য কোনো টিকিটের ব্যবস্থা না থাকলেও পরবর্তীতে ১০ টাকা করে টিকিট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর কাছ থেকে টিকিটের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ অর্থের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এদিকে মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে ও কালেক্টরেট চত্বরে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ফুচকা, চটপটি, বাদামসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকেও দৈনিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা একটি গ্যারেজ থেকেও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব কর্মকাণ্ড চলে আসছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এবং আদালতের সন্নিকটে এমন মেলার আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
অন্যদিকে, মেলায় বিক্রি করা বিভিন্ন পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর মান নিয়েও অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, আকর্ষণীয় প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের মেলায় নেওয়া হলেও অনেক স্টলে নিম্নমানের পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এতে টাকা খরচ করে কাঙ্ক্ষিত মানের পণ্য না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে মেলায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন যেখানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না, সেখানে একটি মেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা কতটা যৌক্তিক ?
এ বিষয়ে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মেহেদী হাসান মুঠোফোনে বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তিনি চাঁদাবাজি ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগও অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, মেলার অনুমতি দেওয়ার আগেই আয়োজকদের নিয়ম-নীতির বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত মেনেই মেলা পরিচালনা করতে হবে। তবে চাঁদা আদায় ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে, মেলা ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত মেলা কোনোভাবেই যেন অনিয়ম, চাঁদা আদায় কিংবা ভোক্তাদের হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত না হয় এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।#

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ঘিরে বিস্তর অভিযোগ 

আপডেট সময়ঃ ১০:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

ডিপিডি প্রতিবেদকঃ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলা ঘিরে চাঁদা আদায়, নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, শব্দ দুষণ ও বিদ্যুৎ অপচয়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের চত্বরে আয়োজিত এ মেলায় প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা এমন অভিযোগও করেছেন অনেকে। একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলার ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা।

অভিযোগ রয়েছে, জেলাজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যেও প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গণে ব্যাপক আলোকসজ্জা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দিনভর উচ্চ শব্দে সাউন্ডবক্স ও ডিজে বাজানোর কারণে আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ শব্দ দূষণের সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মাসব্যাপী ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মেলায় ৪৩টির বেশি স্টলসহ আরও কয়েকটি স্টল রয়েছে। তবে এত বড় আয়োজনেও স্থানীয় কোনো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা।
মেলার প্রথম সপ্তাহে দর্শনার্থীদের জন্য কোনো টিকিটের ব্যবস্থা না থাকলেও পরবর্তীতে ১০ টাকা করে টিকিট চালু করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর কাছ থেকে টিকিটের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ অর্থের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
এদিকে মেলা প্রাঙ্গণের আশপাশে ও কালেক্টরেট চত্বরে রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা ফুচকা, চটপটি, বাদামসহ বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকেও দৈনিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি জেলা প্রশাসনের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা একটি গ্যারেজ থেকেও দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব কর্মকাণ্ড চলে আসছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মেলার বিভিন্ন স্টল থেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এবং আদালতের সন্নিকটে এমন মেলার আয়োজন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
অন্যদিকে, মেলায় বিক্রি করা বিভিন্ন পণ্য ও খাদ্যসামগ্রীর মান নিয়েও অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, আকর্ষণীয় প্রচারণার মাধ্যমে ক্রেতাদের মেলায় নেওয়া হলেও অনেক স্টলে নিম্নমানের পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছে। এতে টাকা খরচ করে কাঙ্ক্ষিত মানের পণ্য না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন অনেক ক্রেতা। তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে মেলায় অতিরিক্ত আলোকসজ্জা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন যেখানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না, সেখানে একটি মেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিরিক্ত আলোকসজ্জা কতটা যৌক্তিক ?
এ বিষয়ে মেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মেহেদী হাসান মুঠোফোনে বলেন, জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। তিনি চাঁদাবাজি ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগও অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেন, মেলার অনুমতি দেওয়ার আগেই আয়োজকদের নিয়ম-নীতির বিষয়ে শর্ত দেওয়া হয়েছে। এসব শর্ত মেনেই মেলা পরিচালনা করতে হবে। তবে চাঁদা আদায় ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এদিকে, মেলা ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা, ক্রেতা ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের প্রসার ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত মেলা কোনোভাবেই যেন অনিয়ম, চাঁদা আদায় কিংবা ভোক্তাদের হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত না হয় এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।#