০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সৌদির কারখানায় আগুনে প্রাণ গেল বাগমারার শ্যামলের

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৩ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬) নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত শ্যামল উদ্দিন বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় আট বছর আগে ঋণ ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে শ্যামলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। তবে এবার এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জমানো কিছু টাকা নিয়ে পরিবারের কাছে ফেরার কথা ছিল তাঁর।
শ্যামলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। সোমবার সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্বামীকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শ্যামলের স্ত্রী রশিদা খাতুন (৪২)।
রশিদা খাতুন বলেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কালকেই কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’ তিনি জানান, রোববার সকালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন শ্যামল জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফিরবেন।
শ্যামলের স্ত্রীর বড় ভাই জহির উদ্দিন জানান, রোববার রাতে শ্যামলের এক সহকর্মী মুঠোফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্যামলসহ অন্য শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করছিলেন। দুই শ্রমিক সিগারেট খেতে বাইরে যাওয়ায় তাঁরা আগুন থেকে বেঁচে যান বলে তাঁদের কাছ থেকে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে এখনো পড়াশোনা করছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে।
ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ শ্যামলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে শ্যামলের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। যে মানুষটি আট বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন এখন স্বজনদের কাছে হয়ে উঠেছে এক বেদনাবিধুর অপেক্ষা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদির কারখানায় আগুনে প্রাণ গেল বাগমারার শ্যামলের

আপডেট সময়ঃ ০৫:১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে রাজশাহীর বাগমারার শ্যামল উদ্দিন মাঝি (৪৬) নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে ওই অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত শ্যামল উদ্দিন বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় আট বছর আগে ঋণ ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার করে শ্যামলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। তবে এবার এক সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জমানো কিছু টাকা নিয়ে পরিবারের কাছে ফেরার কথা ছিল তাঁর।
শ্যামলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের মাতম। সোমবার সকালে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা আহাজারি করছেন। প্রতিবেশীরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্বামীকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন শ্যামলের স্ত্রী রশিদা খাতুন (৪২)।
রশিদা খাতুন বলেন, ‘তুমার সঙ্গে হামার কালকেই কথা হলো। তুমি বাড়িত আসবে বললে, আর রাতে তুমার মরার খবর পানু।’ তিনি জানান, রোববার সকালে স্বামীর সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। তখন শ্যামল জানিয়েছিলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফিরবেন।
শ্যামলের স্ত্রীর বড় ভাই জহির উদ্দিন জানান, রোববার রাতে শ্যামলের এক সহকর্মী মুঠোফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর দেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় শ্যামলসহ অন্য শ্রমিকেরা কারখানায় কাজ করছিলেন। দুই শ্রমিক সিগারেট খেতে বাইরে যাওয়ায় তাঁরা আগুন থেকে বেঁচে যান বলে তাঁদের কাছ থেকে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছোট দুই মেয়ে এখনো পড়াশোনা করছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারটি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে।
ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্যামলের মৃত্যুতে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ শ্যামলের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে শ্যামলের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। যে মানুষটি আট বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাঁর সেই প্রত্যাবর্তন এখন স্বজনদের কাছে হয়ে উঠেছে এক বেদনাবিধুর অপেক্ষা।