০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলে বিএমডিএ’র টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পনা 

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৫ বার পড়া হয়েছে।

Oplus_131072

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের স্বার্থে পানির সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি বলেছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবন-জীবিকা পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রতিটি ফোটার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সেচের পরিমাণ বাড়ালেই চলবে না, পানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির উৎস সংরক্ষণ করতে হবে। রোববার রাজশাহী নগরীর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শের ফলাফল যাচাইকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএমডিএ ও এডিবির যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (এসএএফ) বাংলাদেশ ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)। বিএমডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উন্নয়ন টেকসই করা সম্ভব নয়। কোথায় কী পরিমাণ পানি ব্যবহার হচ্ছে, পানির উৎস এবং ভবিষ্যতে এর প্রাপ্যতা বিবেচনা করেই সেচ পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য কম পানি ব্যবহার করে বেশি ফলন নিশ্চিত করা। এ জন্য আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতি এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো প্রকল্প কাগজে-কলমে সফল হলে চলবে না, এর সুফল সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছাতে হবে। কৃষক যেন কম খরচে পর্যাপ্ত পানি পান, উৎপাদন ও আয় বাড়াতে পারেন-সেখানেই প্রকল্পের আসল সাফল্য। এডিবির পরামর্শ ও গবেষণালব্ধ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে বরেন্দ্র প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাস্তবভিত্তিক করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিএমডিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী ও বরেন্দ্র প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট হারুন-অর-রশিদ। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য শফিকুল আলম, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, এসএএফ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ জামিল, গেইনের হেড অব পলিসি ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান, এডিবির সিনিয়র কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. নূর খন্দকার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ই. জি. নিয়ামুল বারি, ব্রি’র বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ হোসেন, বিএমডিএ সচিব মেহেদি হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম ও আবদুল লতিফ প্রমুখ।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বরেন্দ্র অঞ্চলে বিএমডিএ’র টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পনা 

আপডেট সময়ঃ ০৫:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকের স্বার্থে পানির সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি বলেছেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবন-জীবিকা পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রতিটি ফোটার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সেচের পরিমাণ বাড়ালেই চলবে না, পানি ব্যবহারে দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির উৎস সংরক্ষণ করতে হবে। রোববার রাজশাহী নগরীর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর সম্মেলন কক্ষে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শের ফলাফল যাচাইকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএমডিএ ও এডিবির যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন (এসএএফ) বাংলাদেশ ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)। বিএমডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উন্নয়ন টেকসই করা সম্ভব নয়। কোথায় কী পরিমাণ পানি ব্যবহার হচ্ছে, পানির উৎস এবং ভবিষ্যতে এর প্রাপ্যতা বিবেচনা করেই সেচ পরিকল্পনা করতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য কম পানি ব্যবহার করে বেশি ফলন নিশ্চিত করা। এ জন্য আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতি এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো প্রকল্প কাগজে-কলমে সফল হলে চলবে না, এর সুফল সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছাতে হবে। কৃষক যেন কম খরচে পর্যাপ্ত পানি পান, উৎপাদন ও আয় বাড়াতে পারেন-সেখানেই প্রকল্পের আসল সাফল্য। এডিবির পরামর্শ ও গবেষণালব্ধ তথ্যকে কাজে লাগিয়ে বরেন্দ্র প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাস্তবভিত্তিক করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিএমডিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী ও বরেন্দ্র প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট হারুন-অর-রশিদ। কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য শফিকুল আলম, রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান, এসএএফ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ জামিল, গেইনের হেড অব পলিসি ড. মোহাম্মদ মনিরুল হাসান, এডিবির সিনিয়র কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. নূর খন্দকার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ই. জি. নিয়ামুল বারি, ব্রি’র বিভাগীয় প্রধান ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ হোসেন, বিএমডিএ সচিব মেহেদি হাসান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাজিরুল ইসলাম ও আবদুল লতিফ প্রমুখ।