১০:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

গরমে স্বস্তি, বাগমারায় তালের রসে মাতোয়ারা সবাই

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • / ৫ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালগাছের মিষ্টি রসে জমে উঠেছে মৌসুমি বেচাকেনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে তালের রস পান। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের কাছে এই রস হয়ে উঠেছে তৃষ্ণা মেটানোর জনপ্রিয় পানীয়।

উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হলেও বাগমারার মিনি ঘুঘুডাঙ্গা ও দেউলিয়া চৌরাস্তা এলাকায় সবচেয়ে বেশি রস সংগ্রহ ও বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতিগ্লাস রস ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের কাছেই তালের রস এখন সমান জনপ্রিয়।

স্থানীয় গাছিরা জানান, আগে তালের রস দিয়ে লালি (গুড়জাতীয় খাবার) তৈরি করা হলেও বর্তমানে মিষ্টি রসের ব্যাপক চাহিদার কারণে তারা সরাসরি রস বিক্রিতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রস মিষ্টি রাখতে পাতিলে চুন ব্যবহার করা হয়। দিনে তিনবার সকাল, দুপুর ও বিকেলে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়। জমির ধরন ও গাছের বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো কোনো গাছের রস বেশি মিষ্টি, আবার কোনোটি তুলনামূলক কম মিষ্টি হয়ে থাকে।

দেউলিয়া চৌরাস্তার পাশে তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন স্থানীয় সেলিম রেজা। তিনি জানান, তারা দু’জন মিলে এই কাজ করেন। একজন গাছে উঠে রস সংগ্রহ করেন, অন্যজন তা বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ থেকে ২০০ গ্লাস রস বিক্রি হয়। শুরু থেকেই খাঁটি ও মিষ্টি রস বিক্রি করায় প্রতিনিয়ত ক্রেতা বাড়ছে। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে দেউলিয়া চৌরাস্তায় এসে এই রস পান করছেন।

স্থানীয়দের মতে, তালের রস শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে এবং গরমে শরীরে প্রশান্তি এনে দেয়। অনেকের বিশ্বাস, এটি শরীরের ব্যথা উপশমেও উপকারী।

তালগাছ শুধু রসের জন্যই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তালগাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, ঝড়-তুফানে প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং এর পাতা, কাঠ ও ফল নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকা এই তালগাছ এখন বাগমারার মানুষের কাছে বাড়তি আয়েরও উৎস হয়ে উঠেছে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গরমে স্বস্তি, বাগমারায় তালের রসে মাতোয়ারা সবাই

আপডেট সময়ঃ ০৯:০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালগাছের মিষ্টি রসে জমে উঠেছে মৌসুমি বেচাকেনা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে তালের রস পান। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষদের কাছে এই রস হয়ে উঠেছে তৃষ্ণা মেটানোর জনপ্রিয় পানীয়।

উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হলেও বাগমারার মিনি ঘুঘুডাঙ্গা ও দেউলিয়া চৌরাস্তা এলাকায় সবচেয়ে বেশি রস সংগ্রহ ও বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতিগ্লাস রস ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের কাছেই তালের রস এখন সমান জনপ্রিয়।

স্থানীয় গাছিরা জানান, আগে তালের রস দিয়ে লালি (গুড়জাতীয় খাবার) তৈরি করা হলেও বর্তমানে মিষ্টি রসের ব্যাপক চাহিদার কারণে তারা সরাসরি রস বিক্রিতেই বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। রস মিষ্টি রাখতে পাতিলে চুন ব্যবহার করা হয়। দিনে তিনবার সকাল, দুপুর ও বিকেলে গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে হয়। জমির ধরন ও গাছের বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো কোনো গাছের রস বেশি মিষ্টি, আবার কোনোটি তুলনামূলক কম মিষ্টি হয়ে থাকে।

দেউলিয়া চৌরাস্তার পাশে তালগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন স্থানীয় সেলিম রেজা। তিনি জানান, তারা দু’জন মিলে এই কাজ করেন। একজন গাছে উঠে রস সংগ্রহ করেন, অন্যজন তা বিক্রি করেন। প্রতিদিন প্রায় দেড়শ থেকে ২০০ গ্লাস রস বিক্রি হয়। শুরু থেকেই খাঁটি ও মিষ্টি রস বিক্রি করায় প্রতিনিয়ত ক্রেতা বাড়ছে। দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে দেউলিয়া চৌরাস্তায় এসে এই রস পান করছেন।

স্থানীয়দের মতে, তালের রস শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে এবং গরমে শরীরে প্রশান্তি এনে দেয়। অনেকের বিশ্বাস, এটি শরীরের ব্যথা উপশমেও উপকারী।

তালগাছ শুধু রসের জন্যই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তালগাছ মাটির ক্ষয় রোধ করে, ঝড়-তুফানে প্রাকৃতিক প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে এবং এর পাতা, কাঠ ও ফল নানা কাজে ব্যবহৃত হয়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ হয়ে থাকা এই তালগাছ এখন বাগমারার মানুষের কাছে বাড়তি আয়েরও উৎস হয়ে উঠেছে।