০২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

মান্দায় রাতে হিন্দু পল্লীতে পুলিশের তাণ্ডব, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আরিফুজ্জামান রঞ্জু মান্দা প্রতিনিধি 
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • / ৬৭ বার পড়া হয়েছে।

মান্দা প্রতিনিধি:

মান্দায় রাতে হিন্দু পল্লীতে পুলিশের তাণ্ডব, আতঙ্কে বাসিন্দারা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈনম হিন্দু পল্লীতে গভীর রাতে অভিযানের নামে ভয়াবহ তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। রোববার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকের এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি তেল মজুতের তথ্যের অজুহাতে ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ হঠাৎ করেই গ্রামের অন্তত সাতটি পরিবারে অভিযান চালায়। এ সময় তারা দরজায় লাথি, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। গভীর রাতে এমন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী মুদিখানা ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডল জানান, হঠাৎ চিৎকার ও দরজায় আঘাতের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ডাকাত আতঙ্কে তিনি পরিবারসহ উপরের তলায় আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পর রাত প্রায় ২টার দিকে দরজা খুলে দেন। এ সময় পুলিশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ধাক্কাতে ধাক্কাতে গুদামে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো তেল মজুতের প্রমাণ না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় পুলিশ এই অভিযান চালিয়েছে। এ ঘটনায় একই পল্লীর আরও কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে নারী-শিশুসহ সবাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ডেকোরেটর ব্যবসায়ী বাবলু কুমার প্রামাণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে পুলিশের এমন তাণ্ডবে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি করেন তিনি। তবে ওসি কেএম মাসুদ রানা দাবি করেন, সংকট সৃষ্টির আশঙ্কায় তেল মজুতের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। এ বিষয়ে মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে অবগত করানো হয়নি এবং আমি জানি না।’

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মান্দায় রাতে হিন্দু পল্লীতে পুলিশের তাণ্ডব, আতঙ্কে বাসিন্দারা

আপডেট সময়ঃ ০৭:৩৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মান্দা প্রতিনিধি:

মান্দায় রাতে হিন্দু পল্লীতে পুলিশের তাণ্ডব, আতঙ্কে বাসিন্দারা
নওগাঁর মান্দা উপজেলার দক্ষিণ মৈনম হিন্দু পল্লীতে গভীর রাতে অভিযানের নামে ভয়াবহ তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম মাসুদ রানার বিরুদ্ধে। রোববার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকের এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জ্বালানি তেল মজুতের তথ্যের অজুহাতে ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ হঠাৎ করেই গ্রামের অন্তত সাতটি পরিবারে অভিযান চালায়। এ সময় তারা দরজায় লাথি, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। গভীর রাতে এমন পরিস্থিতিতে গ্রামবাসী ডাকাত সন্দেহে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ভুক্তভোগী মুদিখানা ব্যবসায়ী নির্মল চন্দ্র মণ্ডল জানান, হঠাৎ চিৎকার ও দরজায় আঘাতের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ডাকাত আতঙ্কে তিনি পরিবারসহ উপরের তলায় আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার পর রাত প্রায় ২টার দিকে দরজা খুলে দেন। এ সময় পুলিশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ধাক্কাতে ধাক্কাতে গুদামে নিয়ে যায়। সেখানে কোনো তেল মজুতের প্রমাণ না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বৈধ লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় পুলিশ এই অভিযান চালিয়েছে। এ ঘটনায় একই পল্লীর আরও কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের বাড়িতেও অভিযান চালিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এতে নারী-শিশুসহ সবাই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ডেকোরেটর ব্যবসায়ী বাবলু কুমার প্রামাণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গভীর রাতে পুলিশের এমন তাণ্ডবে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি করেন তিনি। তবে ওসি কেএম মাসুদ রানা দাবি করেন, সংকট সৃষ্টির আশঙ্কায় তেল মজুতের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। এ বিষয়ে মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাওন বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে অবগত করানো হয়নি এবং আমি জানি না।’