০২:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সংবর্ধনার খাবার নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রতিবাদ

শামীম রেজা
  • আপডেট সময়ঃ ০৯:১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • / ১২ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত “সংবর্ধনায় দেওয়া খাবার খেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অসুস্থ” শিরোনামের সংবাদের কিছু তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন বাগমারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শামসুল হক। এ ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের নিজস্ব প্যাডে একটি লিখিত প্রতিবাদ লিপি প্রদান করেছেন।
প্রতিবাদ লিপিতে কমান্ডার শামসুল হক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমারের নামে যে বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। তাঁর জানা মতে, প্রদীপ কুমার এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে এভাবে অসত্য বক্তব্য প্রচার করা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমারও বলেন, “একজন ফোন করে কিছু জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটিকে এভাবে সংবাদে রূপ দেওয়া হবে, তা আমি জানতাম না।”
কমান্ডার আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন, তবে সেটিকে কেন্দ্র করে পুরো আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা এবং তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
জানা যায়, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সংবর্ধনা ও দুপুরের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে উপজেলা প্রশাসন। খাবারের মান ও পরিবেশন নিয়ে যেভাবে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধিও।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমি নিজে ওই খাবার খেয়েছি, আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে আরও অনেকে খেয়েছেন, তাদেরও কোনো সমস্যা হয়নি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “ওই খাবার আমি নিজে এবং আমার দপ্তরের কর্মকর্তারাও খেয়েছি। কারও কোনো সমস্যা হয়নি। অন্য কোনো কারণেও কেউ অসুস্থ হতে পারেন।”
সার্বিকভাবে, সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে দায়িত্বশীল ও সত্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সংবর্ধনার খাবার নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ: অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের প্রতিবাদ

আপডেট সময়ঃ ০৯:১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত “সংবর্ধনায় দেওয়া খাবার খেয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অসুস্থ” শিরোনামের সংবাদের কিছু তথ্য সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছেন বাগমারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ শামসুল হক। এ ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের নিজস্ব প্যাডে একটি লিখিত প্রতিবাদ লিপি প্রদান করেছেন।
প্রতিবাদ লিপিতে কমান্ডার শামসুল হক বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমারের নামে যে বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন। তাঁর জানা মতে, প্রদীপ কুমার এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে এভাবে অসত্য বক্তব্য প্রচার করা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ কুমারও বলেন, “একজন ফোন করে কিছু জানতে চেয়েছিল। কিন্তু সেটিকে এভাবে সংবাদে রূপ দেওয়া হবে, তা আমি জানতাম না।”
কমান্ডার আরও বলেন, কিছু ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন, তবে সেটিকে কেন্দ্র করে পুরো আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতা, নিরপেক্ষতা এবং তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান।
জানা যায়, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে সংবর্ধনা ও দুপুরের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে উপজেলা প্রশাসন। খাবারের মান ও পরিবেশন নিয়ে যেভাবে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন সুশীল সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধিও।
ভবানীগঞ্জ পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমি নিজে ওই খাবার খেয়েছি, আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আমার সঙ্গে আরও অনেকে খেয়েছেন, তাদেরও কোনো সমস্যা হয়নি।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, “ওই খাবার আমি নিজে এবং আমার দপ্তরের কর্মকর্তারাও খেয়েছি। কারও কোনো সমস্যা হয়নি। অন্য কোনো কারণেও কেউ অসুস্থ হতে পারেন।”
সার্বিকভাবে, সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি—ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে দায়িত্বশীল ও সত্যনির্ভর সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।