০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬
সংবাদ শিরোনামঃ
রাজশাহী-১ আসনে ভোটের ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষরে গড়মিল সন্দেহ
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
- আপডেট সময়ঃ ০৯:০১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
- / ৩৮ বার পড়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের অনেক কেন্দ্রের ফলাফল শিটে দেখা মিলেনি এজেন্টদের স্বাক্ষর। আবার কোনটায় প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষর করেছেন। রাজশাহী-১ আসনের গোদাগাড়ী উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে এ রকম অসঙ্গতি দেখা গেছে। এতে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত পরাজিত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবঃ)শরিফ উদ্দিন।
রাজশাহী-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। শরিফ উদ্দিন এই মাত্র ৭৭৪ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এই দুই উপজেলার ফলাফলে দেখা গেছে, মুজিবুর রহমান ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শরীফ উদ্দিন এক লাখ ৬৯ হাজার ১০ ভোট। রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৫৯টি।এরমধ্যে গোদাগাড়ীতে ৯৮টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে এক লাখ ৭ হাজার ৪৬০ ভোট। ধানের শীষ পেয়েছেন এক লাখ ৩ হাজার ৩৩৬ ভোট। তানোরে ৬১টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ৬২ হাজার ৩২৪ ভোট ও ধানের শীষ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৬৭৪ ভোট।
এ আসনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুনরায় ভোট গণনার আবেদন করেন শরীফ উদ্দিন। এতে কোন লাভ হয়নি। এরপর যেতে হয়েছে উচ্চ আদালতে। সেখানে নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনেছেন তিনি। নির্বাচনি অনিয়ম, জাল ভোট, ভোট বাতিল, গণনায় কারচুপি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি।
হাইকোর্ট রাজশাহী-১ আসনের ব্যালট পেপার ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) বিচারপতি জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে ব্যালট ও রেজাল্ট শিট সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনে পুনগণনার সুযোগ থাকে।
তবে রাজশাহী-১ আসনের ফলাফলের ১৬টি শিট পাওয়া গেছে। এতে কোনটায় দেখা গেছে, এজেন্টের স্বাক্ষর নেই আবার কোনটায় কোনো এজেন্টের নাম নেই। কোনটায় এজেন্টের স্বাক্ষর হুবুহু একই হাতের লেখা দেখা গেছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার ৩০ নম্বর কেন্দ্র চয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন এজেন্টের স্বাক্ষর হুবুহু এক দেখা গেছে। এখানে এজেন্টদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার উল্লেখ করা হয়নি। আঁচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, তিন এজেন্টের একই স্বাক্ষর। জাতীয় পরিচয়পত্রের ঘরে প্রতীক উল্লেখ করা হয়েছে। ইটাহারি সরকারি বিদ্যালয়ে নেওয়া হয়নি কোন এজেন্টের স্বাক্ষর। শেখেরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এজেন্টদের ঘর খালি দেখা গেছে। নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের কথা উল্লেখ নেই।ভানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক এজেন্টের স্বাক্ষর নাই। কে কোন প্রার্থীর এজেন্ট ছিল সেটাও উল্লেখ নেই। রাজাবাড়ীহাট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন এজেন্টের স্বাক্ষর একই রকম দেখা গেছে। একই চিত্র বাসুদেবপুর শাহীদুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। মুক্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কে কোন প্রার্থীর এজেন্ট তা উল্লেখ নেই।
কানাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুজন পোলিং এজেন্ট পাওয়া গেছে। স্বাক্ষর একই রকম। বাসুদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে হাতের লেখা একই পাওয়া গেছে। দিয়ার মানিকচক নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কে কোন প্রার্থীর এজেন্ট তা উল্লেখ নেই। স্বাক্ষরও একই রকম। শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এজেন্টদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার নেওয়া হয়নি। কে কোন প্রার্থীর সেটাও উল্লেখ নেই। সোনাদীঘি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এজেন্টদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার নেই। স্বাক্ষরও একই রকম পাওয়া গেছে। ঘনশ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কে কোন প্রার্থীর এজেন্ট উল্লেখ নেই। স্বাক্ষরও একই রকম। কাশিমপুর আবুল কাশেম ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে এজেন্টের শুধু স্বাক্ষর আছে। নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বারও নাই। মহাদেবপুর তিলাহারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পোলিং এজেন্টদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার ও স্বাক্ষরও নেই।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি। এর মধ্যে ভোট বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ৯৮৬টি। ভোট বাতিলের হার ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
নির্বাচনি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আহসান হাবিবকে কেন্দ্রে প্রবেশ না করতে দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। তবে এই অভিযোগের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ভোট গণনার সময় প্রিজাইডিং অফিসার তাকে কেন্দ্রের গণনা কক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেননি। তার পর্যবেক্ষক কার্ড থাকা সত্ত্বেও, তথ্য গ্রহণ ও ছবি তোলায় বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের বাধা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপন্থী এবং ভোটের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। নির্বাচনি এজেন্টরা বলছেন, কিছু কর্মকর্তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে ভোট পরিচালনায় স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার মূল্যায়ন করেনি। ইচ্ছামতো তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন পরিচালিত হয়েছে।
তবে বাতিল ভোট সব ধানের শীষের বলে দাবি করেছেন প্রার্থী শরিফ উদ্দিন। তিনি বলেন, এ আসনে ভোট পুনগণনা করতে হবে। গণনাতেও চরম অনিয়ম হয়েছে। আমার পক্ষের হাজার হাজার ভোট বাতিল দেখানো হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থী বলেন, সাধারণ ভোটে ব্যবধান প্রায় ৭৭৪। পোস্টাল ব্যালট মিলিয়ে ব্যবধানের চিত্র আলাদা হলেও মূল গণনায় পার্থক্য কম। ভোট বাতিল হয়েছে সাত হাজারের বেশি। এসব বাতিল ভোট যথাযথভাবে বাতিল হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা দরকার।
এ ছাড়া কিছু কেন্দ্রের ফলাফলে পোলিং এজেন্টের সই ছাড়া ফল ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই প্রার্থী। যেখানে পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিলেন, সেখানে সই ছাড়া কীভাবে ফল প্রকাশিত হলো, সেটা দেখতে চান তিনি। উপস্থিত না থাকলে সেটি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যালট ও রেজাল্ট শিট হেফাজতে রাখা হচ্ছে।#
ট্যাগসঃ

















