খুলনায় সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী সাংবাদিক লিপিকা সরকার
- আপডেট সময়ঃ ০৮:৫১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি বিষয় ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে—যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা নেতৃত্বই আগামী দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা নির্ধারণ করবে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সাংবাদিক লিপিকা সরকার-এর নাম এখন বিএনপির অভ্যন্তরে এবং পেশাজীবী মহলে আলোচনায় উঠে এসেছে। দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং তৃণমূল মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে একটি সম্ভাবনাময় মুখ হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।
সাংবাদিকতা থেকে জনমানুষের কণ্ঠস্বর
লিপিকা সরকারের পেশাগত পরিচয় সাংবাদিকতা হলেও, তার কার্যক্রম কেবল সংবাদ সংগ্রহ বা পরিবেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার কাজের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠী, নারী অধিকার, স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে তিনি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বঞ্চনা এবং রাষ্ট্রীয় সেবার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
সহকর্মী সাংবাদিকদের মতে, লিপিকা সরকার সবসময়ই সাহসী, দায়িত্বশীল এবং জনস্বার্থে প্রতিশ্রুতিশীল ভূমিকা পালন করেছেন। তার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে নারী নির্যাতন, সামাজিক বৈষম্য, প্রশাসনিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের বাস্তব চিত্র।
একজন সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “লিপিকা সরকার শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি জনমানুষের কণ্ঠস্বর। তার মতো অভিজ্ঞ এবং জনসম্পৃক্ত ব্যক্তির সংসদে থাকা সময়ের দাবি।” বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি আস্থা
লিপিকা সরকার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনৈতিক দর্শন, গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতি এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী। তার মতে, বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করছে। একজন সচেতন নাগরিক এবং পেশাজীবী হিসেবে আমি সেই প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাই।”
তার এই অবস্থান বিএনপির পেশাজীবী এবং সাংবাদিক অঙ্গনের অনেকের কাছেই ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
নারী নেতৃত্ব বিকাশে একটি সম্ভাবনাময় মুখ
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ব্যবস্থা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে এমন ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া প্রয়োজন, যারা কেবল দলীয় পরিচয়ে নয়, বরং যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
লিপিকা সরকারের ক্ষেত্রে এই তিনটি উপাদানের একটি শক্তিশালী সমন্বয় রয়েছে। সাংবাদিকতা পেশায় তার অভিজ্ঞতা তাকে রাষ্ট্র, সমাজ এবং রাজনীতির বাস্তব চিত্র সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি নারী উন্নয়ন, সামাজিক সচেতনতা এবং মানবাধিকার বিষয়েও সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
নারী অধিকার বিষয়ক একজন গবেষক বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যোগ্য এবং সমাজসচেতন নারীদের সংসদে নিয়ে আসা। লিপিকা সরকারের মতো অভিজ্ঞ সাংবাদিক সংসদে গেলে নারীর বাস্তব সমস্যাগুলো আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন।”
তৃণমূলের সঙ্গে দৃঢ় সংযোগ লিপিকা সরকারের একটি বড় শক্তি হচ্ছে তার তৃণমূল পর্যায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জনসচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন। স্থানীয় জনগণের সমস্যা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সবসময়ই সক্রিয় ছিলেন।
তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, তিনি সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এই কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তার একটি ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
একজন স্থানীয় সমাজকর্মী বলেন, “লিপিকা সরকার শুধু একজন সাংবাদিক নন, তিনি আমাদের এলাকার মানুষের একজন অভিভাবকের মতো। তিনি সংসদে গেলে আমাদের কথা আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন।”
বিএনপির নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে পেশাজীবীদের গুরুত্ব
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পেশাজীবী, বিশেষ করে সাংবাদিক, শিক্ষক এবং গবেষকদের রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তি একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সবসময়ই মেধা, সততা এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার সমন্বয়ে নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
বর্তমানে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে দলকে পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী ও শিক্ষিত নেতৃত্বকে সামনে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে লিপিকা সরকারের মতো একজন পেশাজীবী সাংবাদিকের মনোনয়ন প্রত্যাশা বিএনপির আধুনিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সংসদে গেলে যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন লিপিকা সরকার জানিয়েছেন, তিনি সংসদে যাওয়ার সুযোগ পেলে বিশেষভাবে কয়েকটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য— নারী অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন। তিনি আরো বলেন, “সংসদ জনগণের কথা বলার জায়গা। আমি সেই জায়গায় গিয়ে জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরতে চাই।”
দলের অভ্যন্তরে ইতিবাচক আলোচনা বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় বিভিন্ন পেশার যোগ্য নারীদের নাম বিবেচনা করা হচ্ছে। এই তালিকায় সাংবাদিক লিপিকা সরকারের নামও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। দলীয় একজন সিনিয়র নেতা বলেন, “দল সবসময়ই যোগ্য, ত্যাগী এবং জনসম্পৃক্ত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করে। পেশাজীবী এবং সাংবাদিকদের মধ্যে যারা দলের আদর্শে বিশ্বাসী এবং জনগণের জন্য কাজ করতে আগ্রহী, তাদের অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।” রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বার্তা লিপিকা সরকারের মনোনয়ন প্রত্যাশা কেবল একটি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্যোগ নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তাও বহন করছে। এটি প্রমাণ করে যে, সাংবাদিকতা এবং পেশাজীবী সমাজ থেকে যোগ্য নেতৃত্ব রাজনীতিতে এগিয়ে আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। এটি দলের প্রতি পেশাজীবী সমাজের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত লিপিকা সরকার তার মনোনয়ন প্রত্যাশা সম্পর্কে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দল সবসময় যোগ্যতা, নিষ্ঠা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। আমি সেই বিশ্বাস থেকেই দলের কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। আমি যদি সুযোগ পাই, তাহলে দলের আদর্শ এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। তার এই প্রত্যাশা কেবল ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর দায়িত্ববোধের প্রতিফলন।
সময়ের দাবি যোগ্য নেতৃত্ব বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় যোগ্য, অভিজ্ঞ এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সাংবাদিক লিপিকা সরকারের মনোনয়ন প্রত্যাশা সেই বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন।
তার দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা তাকে একটি শক্তিশালী সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এখন দলীয় উচ্চপর্যায়ের বিচক্ষণ সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, তিনি জাতীয় সংসদে গিয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন কিনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, যোগ্যতা এবং জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে লিপিকা সরকার বিএনপির জন্য একটি কার্যকর, গ্রহণযোগ্য এবং ইতিবাচক সংযোজন হতে পারেন।


















