০৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজিতপুর মন্দির প্রাঙ্গণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

আবুজার গিফারী
  • আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

আবুজার গিফারী, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজিতপুর মন্দির প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে যশোর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মিলনায়তন এবং কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কো-অর্ডিনেটর মৌসুমি বিনতে মানিক, যশোর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মাজেদুর রহমান, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান এবং কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তালেব।

কর্মসূচিতে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ, সংক্রমণের ঝুঁকি, এডিস মশার প্রজননস্থল এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, পানির ট্যাংক ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদের সচেতন করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সচেতনতামূলক আলোচনা শেষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয়ের আঙিনা ও মাঠে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজিতপুর মন্দির প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় মশার প্রজননস্থল হতে পারে এমন স্থান পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

সুস্থ, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য
=

কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজিতপুর মন্দির প্রাঙ্গণে সচেতনতামূলক কর্মসূচি

আপডেট সময়ঃ ০৬:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আবুজার গিফারী, কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি:

যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতামূলক ওরিয়েন্টেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজিতপুর মন্দির প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে যশোর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় ‘শিশু, কিশোর-কিশোরী ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ প্রকল্পের আওতায় এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মিলনায়তন এবং কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা তথ্য অফিসের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. রেজাউল করিম।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কো-অর্ডিনেটর মৌসুমি বিনতে মানিক, যশোর জেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিদর্শক মো. মাজেদুর রহমান, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হান্নান এবং কেশবপুর পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তালেব।

কর্মসূচিতে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এ সময় ডেঙ্গু জ্বরের কারণ, লক্ষণ, সংক্রমণের ঝুঁকি, এডিস মশার প্রজননস্থল এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। বিশেষ করে ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, পানির ট্যাংক ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগ। বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অন্যদের সচেতন করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সচেতনতামূলক আলোচনা শেষে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বিদ্যালয়ের আঙিনা ও মাঠে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেশবপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজিতপুর মন্দির প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ সময় মশার প্রজননস্থল হতে পারে এমন স্থান পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য।

সুস্থ, নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান বক্তারা।