০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

গোপালগঞ্জে সহপাঠীরা মেধাবী শিক্ষার্থীর পিঠে চালাল চাইনিজ কুড়াল

সাইফুল ইসলাম
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

মেধাবী শিক্ষার্থী ইমন কাজী (১৮)। গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের এ শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৭৫ পেয়েছে। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার মাঝগাতি ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছেন । ওই শিক্ষার্থীর বাবার নাম ছিদ্দিক কাজী।

সোমবার (২ নভেম্বর) গোপালগঞ্জ শহরের অপটিমাম কোচিং সেন্টার এ কোচিং করতে আসেন । কোচিং শেষ করে বাড়ি যাবার পথে শহরের ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বাবার পাঠানো ১৯ হাজার ও মামা ইকরাম কাজীর পাঠানো ৭০ হাজার টাকা সহ মোট ৮৯ হাজার টাকা উত্তোলন করে। পরে বন্ধু হামীম মীরের মোটর সাইকেলে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেন তারা । তাদের মোটর সাইকেল বেদগ্রাম হাজী নাদের আলী সাদেক আলী স্কুলের সামনে পৌঁছালে বাপ্পী কাজী, শামীম কাজী, তামিম কাজী মোটরসাইকেল ব্যারিকেট দিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয় । পরে শামীম কাজী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ইমনের পিঠে ৭টি কোপ দেয়। এছাড়া হাত-পা, মুখ ও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পেটায় । রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে গোপীনাথপুর গ্রামের নওশের কাজী ছেলে তুহিন কাজী, আমিনুর কাজী, আমিনুর কাজীর ছেলে বাপ্পী কাজী, জাকির কাজীর ছেলে শামীম কাজী, তামিম কাজীকে আসামী করে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আহত শিক্ষার্থী ইমন কাজী বলেন, চাচাতো ভাই ইসলাম কাজীর ছেলে সালমান কাজী আমার সাথে চলাফেরা করে। ১৫ দিন আগে গ্রামের একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাপ্পী, শামীমের সাথে সালমানের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমি ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলাম। পরে স্থানীয়রা এটি মিটিয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়ে হাতুড়ি পেটা ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। এ সময় তারা নগদ ৮৯ হাজার টাকা, আই ফোন ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভয়ে হামীম মীর নিরাপদে আশ্রয় নেয়। বেদগ্রামের অনেকে এটি দেখেছে। তারা আমাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে, কিন্তু চাইনিজ কুড়াল দেখে আতংকে কাছে কেউ আসেনি।

মাঝিগাতী দশপল্লী নেছার উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী আল মামুন বলেন, ইমন কাজী ২০২৪ সালে আমাদের স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছিল। মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে সে ভালো রেজাল্ট করেছিল। শুনেছি সহপাঠীদের সাথে বিরোধের জের ধরে তাকে রক্তাক্ত আহত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত বাপ্পী কাজী বলেন, নারী ঘটিত ব্যাপার নিয়ে ইমন কাজী আমাদের এক ছোট ভাইকে মারপিট করতে চায়। আমি এটির প্রতিবাদ জানাই।৭দিন আগে এ বিরোধ নিয়ে ইমন আমাকে মারপিট করে । পরে আমি হাসপাতালে ভর্তি হই ও থানায় অভিযোগ করি ।স্থানীয়রা এটি মিমাংসা করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি ইমনকে মেরেছি। স্থানীয়রা এটি মিমাংসা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এস আই মুকুল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হয়েছে । আমি মামলার তদন্ত শুরু করেছি । তদন্ত শেষে পারবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য
=

গোপালগঞ্জে সহপাঠীরা মেধাবী শিক্ষার্থীর পিঠে চালাল চাইনিজ কুড়াল

আপডেট সময়ঃ ০৫:২৬:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

মেধাবী শিক্ষার্থী ইমন কাজী (১৮)। গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের এ শিক্ষার্থী এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.৭৫ পেয়েছে। ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার মাঝগাতি ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে অবস্থান করে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং করছেন । ওই শিক্ষার্থীর বাবার নাম ছিদ্দিক কাজী।

সোমবার (২ নভেম্বর) গোপালগঞ্জ শহরের অপটিমাম কোচিং সেন্টার এ কোচিং করতে আসেন । কোচিং শেষ করে বাড়ি যাবার পথে শহরের ট্রাস্ট ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে বাবার পাঠানো ১৯ হাজার ও মামা ইকরাম কাজীর পাঠানো ৭০ হাজার টাকা সহ মোট ৮৯ হাজার টাকা উত্তোলন করে। পরে বন্ধু হামীম মীরের মোটর সাইকেলে করে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দেন তারা । তাদের মোটর সাইকেল বেদগ্রাম হাজী নাদের আলী সাদেক আলী স্কুলের সামনে পৌঁছালে বাপ্পী কাজী, শামীম কাজী, তামিম কাজী মোটরসাইকেল ব্যারিকেট দিয়ে রাস্তার ওপর ফেলে দেয় । পরে শামীম কাজী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ইমনের পিঠে ৭টি কোপ দেয়। এছাড়া হাত-পা, মুখ ও মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পেটায় । রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে গোপীনাথপুর গ্রামের নওশের কাজী ছেলে তুহিন কাজী, আমিনুর কাজী, আমিনুর কাজীর ছেলে বাপ্পী কাজী, জাকির কাজীর ছেলে শামীম কাজী, তামিম কাজীকে আসামী করে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আহত শিক্ষার্থী ইমন কাজী বলেন, চাচাতো ভাই ইসলাম কাজীর ছেলে সালমান কাজী আমার সাথে চলাফেরা করে। ১৫ দিন আগে গ্রামের একটি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাপ্পী, শামীমের সাথে সালমানের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় আমি ঐ স্থানে উপস্থিত ছিলাম। পরে স্থানীয়রা এটি মিটিয়ে দেয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়ে হাতুড়ি পেটা ও চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। এ সময় তারা নগদ ৮৯ হাজার টাকা, আই ফোন ও একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভয়ে হামীম মীর নিরাপদে আশ্রয় নেয়। বেদগ্রামের অনেকে এটি দেখেছে। তারা আমাকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসে, কিন্তু চাইনিজ কুড়াল দেখে আতংকে কাছে কেউ আসেনি।

মাঝিগাতী দশপল্লী নেছার উদ্দিন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কাজী আল মামুন বলেন, ইমন কাজী ২০২৪ সালে আমাদের স্কুল থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৪.৬৭ পেয়েছিল। মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নিয়ে সে ভালো রেজাল্ট করেছিল। শুনেছি সহপাঠীদের সাথে বিরোধের জের ধরে তাকে রক্তাক্ত আহত করা হয়েছে।

অভিযুক্ত বাপ্পী কাজী বলেন, নারী ঘটিত ব্যাপার নিয়ে ইমন কাজী আমাদের এক ছোট ভাইকে মারপিট করতে চায়। আমি এটির প্রতিবাদ জানাই।৭দিন আগে এ বিরোধ নিয়ে ইমন আমাকে মারপিট করে । পরে আমি হাসপাতালে ভর্তি হই ও থানায় অভিযোগ করি ।স্থানীয়রা এটি মিমাংসা করে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি ইমনকে মেরেছি। স্থানীয়রা এটি মিমাংসা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এস আই মুকুল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে মামলা দায়ের হয়েছে । আমি মামলার তদন্ত শুরু করেছি । তদন্ত শেষে পারবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।