০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বাগমারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশকে মারধরের অভিযোগে মানববন্ধন

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাগমারা থানার মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য মেছের আলী জানান, তিনি ১০ নম্বর মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তাকে মুঠোফোনে কল করেন। তবে মোবাইল ফোনের সমস্যা ও নেটওয়ার্কজনিত কারণে তিনি কলটি ধরতে পারেননি। পরে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান তাকে ডেকে ফোন বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। এ সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা জানালেও তার বক্তব্য না শুনে তাকে থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেন মেছের আলী।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি সুবিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগমারা গ্রাম পুলিশের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, গ্রাম পুলিশ সদস্য আসলাম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, মোতালেব, আব্দুস সালাম, জালাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, ফরিদ উদ্দিন ও আলা বক্স।

বক্তারা বলেন, একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অব্যাহতির দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিষদ থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ কিছু চাল হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে মেছের আলীর কাছে জানতে চাইলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বাগমারায় ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশকে মারধরের অভিযোগে মানববন্ধন

আপডেট সময়ঃ ০২:৪৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাগমারা থানার মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য মেছের আলী জানান, তিনি ১০ নম্বর মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তাকে মুঠোফোনে কল করেন। তবে মোবাইল ফোনের সমস্যা ও নেটওয়ার্কজনিত কারণে তিনি কলটি ধরতে পারেননি। পরে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান তাকে ডেকে ফোন বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। এ সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা জানালেও তার বক্তব্য না শুনে তাকে থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেন মেছের আলী।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি সুবিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগমারা গ্রাম পুলিশের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, গ্রাম পুলিশ সদস্য আসলাম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, মোতালেব, আব্দুস সালাম, জালাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, ফরিদ উদ্দিন ও আলা বক্স।

বক্তারা বলেন, একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অব্যাহতির দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিষদ থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ কিছু চাল হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে মেছের আলীর কাছে জানতে চাইলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।