০১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী-১ আসনের এমপির নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:২৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • / ১১৩ বার পড়া হয়েছে।
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে-২০২৬ গীতা পাঠ করা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের দেয়া নির্দেশনার ভুলব্যাক্ষা নিয়েও জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের কালচার অনুসরণ না করে রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় নিয়মনীতি অনুসরণ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশনা দিয়েছিলেন  রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তবে সেটিও বেশ কিছুদিন পুর্বে। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে মোবাইল ফোনে তিনি এ নির্দেশনা দেন। কিন্ত্ত সাংসদের নির্দেশনার প্রকৃত অর্থ না বুঝে তার দেয়া সেই নির্দেশনার ভুল ব্যাক্ষা দিয়ে ভিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও। তবে ইউএনও  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় রীতি অনুযায়ী পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠও করান।
ইউএনও সাংবাদিকদের জানান, মোবাইল ফোনে এমপি স্যার আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিগত আওয়ামী সরকারের কালচার অনুসরণ না করে রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় রীতিনীতি অনুসরণ করতে বলেছিলেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়মে পালন করতে হবে। তাই কোরআন ও গীতা উভয় পাঠ করানো হয়েছে।
এর আগে ২৫ মার্চ উপজেলা সম্মেলন কক্ষে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলমগীর হোসেনসহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দগণ।
সভায় ইউএনও নাঈমা খান উপজেলা জামায়াতের আমিরকে বলেন, ‘এমপি স্যার তো স্বাধীনতা দিবসে বিগত সরকারের কালচার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আমরা কী করব ?’ এই প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাস্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী পালন করুন। সেখানে গীতা পাঠের নিয়ম থাকলে গীতা পাঠ করাতে সমস্যা নাই করাবেন। এরপর বৃহস্পতিবার তানোরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠও করা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন,এমপি মহোদয় ইউএনও সাহেবকে বলেছিলেন জাতীয় সংসদে অধিবেশন শুরু হয় কোরআন তেলোওয়াতের মধ্যদিয়ে,সেখানে গীতা পাঠ করা হয় না,তাই আপনিও চাইলে এটা অনুসরণ করতে পারেন, অথবা রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় রীতিনীতি অনুসরণ করবেন। তিনি স্বাধীনতা দিবসের  অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করা যাবে না এমন কথা বলেননি। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের কালচার অনুসরণ না করার কথা বলেছিলেন। এই কথা ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করতে নিষেধ করেছিলেন এটি সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত,এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি একজন দায়িত্বশীল এমপি এমন কথা বলতে পারেন না, তিনি বলেনওনি। এছাড়াও তিনি তানোর-গোদাগাড়ীর এমপি,যেখানে তানোরের থেকে গোদাগাড়ীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বেশী মানুষের বসবাস।তিনি যদি এমন নির্দেশনার কথা বলে থাকেন, তাহলে তো গোদাগাড়ীর ইউএনও সাহেবকেও এমন নির্দেশনা বলার কথা।কিন্ত্ত সেটা কি তিনি বলেছেন ?
সব থেকে বড় কথা যে গীতা পাঠ নিয়ে এতো আলোচনা অনুষ্ঠানে তো সেই গীতা পাঠ করানো হয়েছে।এছাড়াও এবিষয়ে ইউএনও সাহেবের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য ব্যতিত এমন প্রচারণা কতটা যৌক্তিক সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এমনকি রাস্ট্রীয় নিয়মে একটি জাতীয় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবার পর এমন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আবার অনেকে বলছে, সাংসদের পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ ক্ষুন্ন ও নিছক বিতর্ক বা সমালোচনা সৃস্টির জন্যই একটি মহল এমন অপপ্রচার শুরু করেছে।#
ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজশাহী-১ আসনের এমপির নির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

আপডেট সময়ঃ ০৭:২৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে-২০২৬ গীতা পাঠ করা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে স্থানীয় সাংসদের দেয়া নির্দেশনার ভুলব্যাক্ষা নিয়েও জনমনেও মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের কালচার অনুসরণ না করে রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় নিয়মনীতি অনুসরণ করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশনা দিয়েছিলেন  রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তবে সেটিও বেশ কিছুদিন পুর্বে। তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে মোবাইল ফোনে তিনি এ নির্দেশনা দেন। কিন্ত্ত সাংসদের নির্দেশনার প্রকৃত অর্থ না বুঝে তার দেয়া সেই নির্দেশনার ভুল ব্যাক্ষা দিয়ে ভিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও। তবে ইউএনও  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় রীতি অনুযায়ী পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠও করান।
ইউএনও সাংবাদিকদের জানান, মোবাইল ফোনে এমপি স্যার আমাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিগত আওয়ামী সরকারের কালচার অনুসরণ না করে রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় রীতিনীতি অনুসরণ করতে বলেছিলেন। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়মে পালন করতে হবে। তাই কোরআন ও গীতা উভয় পাঠ করানো হয়েছে।
এর আগে ২৫ মার্চ উপজেলা সম্মেলন কক্ষে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলমগীর হোসেনসহ বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দগণ।
সভায় ইউএনও নাঈমা খান উপজেলা জামায়াতের আমিরকে বলেন, ‘এমপি স্যার তো স্বাধীনতা দিবসে বিগত সরকারের কালচার অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন। আমরা কী করব ?’ এই প্রশ্নের জবাবে মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান রাস্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী পালন করুন। সেখানে গীতা পাঠের নিয়ম থাকলে গীতা পাঠ করাতে সমস্যা নাই করাবেন। এরপর বৃহস্পতিবার তানোরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি গীতা পাঠও করা হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলমগীর হোসেন বলেন,এমপি মহোদয় ইউএনও সাহেবকে বলেছিলেন জাতীয় সংসদে অধিবেশন শুরু হয় কোরআন তেলোওয়াতের মধ্যদিয়ে,সেখানে গীতা পাঠ করা হয় না,তাই আপনিও চাইলে এটা অনুসরণ করতে পারেন, অথবা রাস্ট্রীয় অনুষ্ঠানে রাস্ট্রীয় রীতিনীতি অনুসরণ করবেন। তিনি স্বাধীনতা দিবসের  অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করা যাবে না এমন কথা বলেননি। তিনি বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের কালচার অনুসরণ না করার কথা বলেছিলেন। এই কথা ভুলভাবে প্রচার করা হচ্ছে।মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠ করতে নিষেধ করেছিলেন এটি সঠিক নয়।’
এ বিষয়ে এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত,এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি একজন দায়িত্বশীল এমপি এমন কথা বলতে পারেন না, তিনি বলেনওনি। এছাড়াও তিনি তানোর-গোদাগাড়ীর এমপি,যেখানে তানোরের থেকে গোদাগাড়ীতে সনাতন ধর্মাবলম্বী বেশী মানুষের বসবাস।তিনি যদি এমন নির্দেশনার কথা বলে থাকেন, তাহলে তো গোদাগাড়ীর ইউএনও সাহেবকেও এমন নির্দেশনা বলার কথা।কিন্ত্ত সেটা কি তিনি বলেছেন ?
সব থেকে বড় কথা যে গীতা পাঠ নিয়ে এতো আলোচনা অনুষ্ঠানে তো সেই গীতা পাঠ করানো হয়েছে।এছাড়াও এবিষয়ে ইউএনও সাহেবের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য ব্যতিত এমন প্রচারণা কতটা যৌক্তিক সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।এমনকি রাস্ট্রীয় নিয়মে একটি জাতীয় অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবার পর এমন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। আবার অনেকে বলছে, সাংসদের পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ ক্ষুন্ন ও নিছক বিতর্ক বা সমালোচনা সৃস্টির জন্যই একটি মহল এমন অপপ্রচার শুরু করেছে।#