০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাগমারায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে অপবাদের শিকার হচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ১২:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় মাদকবিরোধী অভিযান, পুকুর খনন ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও প্রশাসনের চলমান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি পক্ষ কৌশলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ও বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগমারাকে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান, মাদকসেবীদের আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগে অপরাধপ্রবণ চক্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাগমারাকে নেতিবাচক পরিচিতি থেকে বের করে উন্নয়ন, সুশাসন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় তুলে আনার চেষ্টা চলছে। এমন সময়ে একটি পক্ষের অপপ্রচার প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের এ ধরনের অপবাদের মুখে পড়ার ঘটনায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভাসহ গোয়ালকান্দি, বড়বিহানালী ও গণিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইয়াবাসহ কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমনে এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতার মধ্যেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি পুকুর খননকারীদের নিকট থেকে অর্থ নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয় ওই পেজে। অর্থের বিনিময়ে একটি পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছেন বলেও অনেক মন্তব্য করা হয়। অথচ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। যে সকল পুকুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোতে এরই মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সাজা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে হাত মিলিয়ে মোটা অংকের টাকা প্রশাসন গ্রহণ করেছে বলেও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে তা জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইডি শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা। আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কাম্য নয়। সবার সহযোগিতা পেলে বাগমারায় অপরাধ দমন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থ রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানানো যেতে পারে। তবে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে প্রশাসনের কাজ সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়। বাগমারার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।

সচেতন মহলের মতে, অপরাধ দমন ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ থাকা জরুরি। তবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কোনো কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য যাচাই করে মতামত দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বাগমারাকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ জনপদ গড়ে তোলাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য
=

বাগমারায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে অপবাদের শিকার হচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা

আপডেট সময়ঃ ১২:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় মাদকবিরোধী অভিযান, পুকুর খনন ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের মধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। নিজেদের স্বার্থ হাসিল ও প্রশাসনের চলমান কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও আইডি ব্যবহার করে কর্মকর্তাদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ ও অপরাধবিরোধী কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি পক্ষ কৌশলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান ও বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগমারাকে অপরাধমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নমুখী জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিশেষ করে মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান, মাদকসেবীদের আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগে অপরাধপ্রবণ চক্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাগমারাকে নেতিবাচক পরিচিতি থেকে বের করে উন্নয়ন, সুশাসন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় তুলে আনার চেষ্টা চলছে। এমন সময়ে একটি পক্ষের অপপ্রচার প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। অপরাধ দমনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের এ ধরনের অপবাদের মুখে পড়ার ঘটনায় প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে এ নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি তাহেরপুর ও ভবানীগঞ্জ পৌরসভাসহ গোয়ালকান্দি, বড়বিহানালী ও গণিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েকজন মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া ইয়াবাসহ কয়েকজন মাদক কারবারিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরাধ দমনে এসব পদক্ষেপের ধারাবাহিকতার মধ্যেই প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পাশাপাশি পুকুর খননকারীদের নিকট থেকে অর্থ নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয় ওই পেজে। অর্থের বিনিময়ে একটি পক্ষকে সুবিধা দিচ্ছেন বলেও অনেক মন্তব্য করা হয়। অথচ প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। যে সকল পুকুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলোতে এরই মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সাজা দেয়া হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সাথে হাত মিলিয়ে মোটা অংকের টাকা প্রশাসন গ্রহণ করেছে বলেও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়।

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো কর্মকর্তা সম্পর্কে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে তা জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। কর্মকর্তাদের ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচারের অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইডি শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য জনস্বার্থ রক্ষা করা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখা। আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে কেউ ক্ষুব্ধ হতে পারেন। তবে ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কাম্য নয়। সবার সহযোগিতা পেলে বাগমারায় অপরাধ দমন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থ রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়; বরং অপরাধ প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। প্রশাসনের কোনো কার্যক্রম সম্পর্কে প্রশ্ন বা অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় জানানো যেতে পারে। তবে যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলে প্রশাসনের কাজ সম্পর্কে ভুল ধারণা সৃষ্টি হয়। বাগমারার উন্নয়ন ও জনস্বার্থে আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।

সচেতন মহলের মতে, অপরাধ দমন ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যক্রমের গঠনমূলক সমালোচনা করার সুযোগ থাকা জরুরি। তবে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কোনো কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য যাচাই করে মতামত দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

বাগমারাকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ জনপদ গড়ে তোলাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।