০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

তানোরে ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়

আলিফ হোসেন,তানোরঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৫:২২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে।
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে রোজার শেষ সপ্তাহ থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দর্জির দোকানগুলোর কারিগররা সবাই ব্যস্ত। কেউ সেলাই, কেউ বোতাম লাগানোয়, কেউ কাপড় কাটায়, আবার কেউবা লন্ড্রি করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা-কাপড় সাজিয়ে রাখছেন। কারোই দম ফেলানোর সময় নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত দর্জিপাড়ায় চলছে কাজ। দর্জিপাড়ার এমন চিত্র দেখলে মনে হবে এ যেন সুই-সুতার বিরামহীন যুদ্ধ। তানোর ও মুন্ডুমালা পৌর শহরসহ উপজেলার সকল হাট-বাজারেই এখন দর্জি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের ভীষণ ব্যস্ততা। তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত।তবে আলু ও পেঁয়াজের তেমন দাম না থাকায় কৃষকের হাতে পয়সা নাই। যার প্রভাব পড়েছে এবার ঈদ বাজারে।
সরেজমিন তানোর পৌর সদরের কয়েকটি দর্জির দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক কিনে তৈরির জন্য দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ। তাদের পোশাক তৈরি করতে বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দর্জিরা। তাদের এখন লক্ষ্য কেবল অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে হস্তান্তর করা। তাইতো ক্লান্তি উপক্ষা করে নিজেদের কাজে মনযোগী তারা। দর্জিদের কাছে পুরুষদের চেয়ে নারীদের পোশাক তৈরির অর্ডার সবচেয়ে বেশি।
এদিকে বর্তমানে দর্জির দোকান গুলোতে প্রতি পিস প্যান্ট ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পায়জামা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, লেহেঙ্গা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, থ্রি-পিস প্রকারভেদে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রকারভেদে সেলোয়ার-কামিজের মজুরি নেওয়া হয় ৬০০ থেকে ৮০০  টাকা, ব্লাউজ ও পেটিকোট ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বাচ্চাদের পোশাক সেট অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরিতে সেলাই করা হয়।
কর্মব্যস্ততা নিয়ে কথা হয়  তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স রাজশাহী টেইলার্স কারখানার কয়েকজন কারিগরের সঙ্গে। ওই কারখানায় একজন মাস্টারসহ মোট ৪ জন কারিগর কাজ করেন। যাদের মধ্যে একজন রতন। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। গোল্লাপাড়া বাজারের সিটি টেইলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছরের ঈদের চেয়ে এ বছরের ঈদে কাজের চাপ অনেক কম।তিনি বলেন,গত বছর রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল,কিন্ত্ত এবার ১৫ রোজা পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ ছিলো না ১৫ রোজার পর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। মুন্ডুমালা বাজারের একটি টেইলার্সের এক কারীগর বলেন, ইদের সময় দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মত আয় হয়। এই আয় দিয়েই চলে তার সংসার। তবে বছরের অন্যান্য সময় কাজ কিছুটা কম থাকে। তখন দৈনিক গড়ে পাঁচশত টাকার মতো আয় হয়।
এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমাদের থানা পুলিশের কয়েকটি টিম নিয়মিত কাজ করছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এরপরও যদি কোথায়ও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদেরকে জানানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে।#
ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

তানোরে ঈদ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়

আপডেট সময়ঃ ০৫:২২:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে মুসলমান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে রোজার শেষ সপ্তাহ থেকে ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দর্জির দোকানগুলোর কারিগররা সবাই ব্যস্ত। কেউ সেলাই, কেউ বোতাম লাগানোয়, কেউ কাপড় কাটায়, আবার কেউবা লন্ড্রি করে অর্ডার বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তৈরি জামা-কাপড় সাজিয়ে রাখছেন। কারোই দম ফেলানোর সময় নেই। প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে ভোর রাত পর্যন্ত দর্জিপাড়ায় চলছে কাজ। দর্জিপাড়ার এমন চিত্র দেখলে মনে হবে এ যেন সুই-সুতার বিরামহীন যুদ্ধ। তানোর ও মুন্ডুমালা পৌর শহরসহ উপজেলার সকল হাট-বাজারেই এখন দর্জি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের ভীষণ ব্যস্ততা। তাদের এ ব্যস্ততা থাকবে ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত।তবে আলু ও পেঁয়াজের তেমন দাম না থাকায় কৃষকের হাতে পয়সা নাই। যার প্রভাব পড়েছে এবার ঈদ বাজারে।
সরেজমিন তানোর পৌর সদরের কয়েকটি দর্জির দোকান ঘুরে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে নতুন পোশাক কিনে তৈরির জন্য দর্জির দোকানগুলোতে ভিড় করছেন মানুষ। তাদের পোশাক তৈরি করতে বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন দর্জিরা। তাদের এখন লক্ষ্য কেবল অর্ডার অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে হস্তান্তর করা। তাইতো ক্লান্তি উপক্ষা করে নিজেদের কাজে মনযোগী তারা। দর্জিদের কাছে পুরুষদের চেয়ে নারীদের পোশাক তৈরির অর্ডার সবচেয়ে বেশি।
এদিকে বর্তমানে দর্জির দোকান গুলোতে প্রতি পিস প্যান্ট ৪৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঞ্জাবি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পায়জামা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, লেহেঙ্গা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, থ্রি-পিস প্রকারভেদে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা, প্রকারভেদে সেলোয়ার-কামিজের মজুরি নেওয়া হয় ৬০০ থেকে ৮০০  টাকা, ব্লাউজ ও পেটিকোট ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, বাচ্চাদের পোশাক সেট অনুযায়ী ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরিতে সেলাই করা হয়।
কর্মব্যস্ততা নিয়ে কথা হয়  তানোর পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজারের মেসার্স রাজশাহী টেইলার্স কারখানার কয়েকজন কারিগরের সঙ্গে। ওই কারখানায় একজন মাস্টারসহ মোট ৪ জন কারিগর কাজ করেন। যাদের মধ্যে একজন রতন। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে এ পেশার সঙ্গে জড়িত। গোল্লাপাড়া বাজারের সিটি টেইলার্সের স্বত্ত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান বলেন, গত বছরের ঈদের চেয়ে এ বছরের ঈদে কাজের চাপ অনেক কম।তিনি বলেন,গত বছর রোজার প্রথম সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল,কিন্ত্ত এবার ১৫ রোজা পর্যন্ত তেমন কোনো কাজ ছিলো না ১৫ রোজার পর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। মুন্ডুমালা বাজারের একটি টেইলার্সের এক কারীগর বলেন, ইদের সময় দৈনিক ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মত আয় হয়। এই আয় দিয়েই চলে তার সংসার। তবে বছরের অন্যান্য সময় কাজ কিছুটা কম থাকে। তখন দৈনিক গড়ে পাঁচশত টাকার মতো আয় হয়।
এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়ে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য আমাদের থানা পুলিশের কয়েকটি টিম নিয়মিত কাজ করছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এরপরও যদি কোথায়ও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে তাৎক্ষণিক আমাদেরকে জানানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ থাকবে।#