চীনের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে পুতিন ও কিমের অংশগ্রহণ, নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ

- আপডেট সময়ঃ ০৬:০২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৪ বার পড়া হয়েছে।

ডিপিডি ডেক্সঃ
চীনের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে পুতিন ও কিমের অংশগ্রহণ, নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ চীনের বেইজিংয়ে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অংশ নিতে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২৬ জন রাষ্ট্রপ্রধান। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর বিবিসি ও এএফপির।
এই কুচকাওয়াজ আয়োজিত হচ্ছে চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উদযাপনের জন্য। অনুষ্ঠানে চীন তাদের সর্বাধুনিক সামরিক শক্তি প্রদর্শন করবে—শত শত যুদ্ধবিমান, ট্যাংক এবং উন্নতমানের অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা। তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে সাজানো হবে ৭০ মিনিটব্যাপী জমকালো কুচকাওয়াজ, যেখানে চীনা সেনা বাহিনীর ৪৫টি ইউনিট এবং যুদ্ধফেরত সেনারা পদযাত্রা করবেন। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করবেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদের ‘ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব’ দীর্ঘকাল ধরে স্থায়ী। দুই দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুতিন ও শির পাশে কিমের অবস্থান কেবল প্রতীকী নয়, বরং কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে। এটি শি জিনপিংয়ের জন্য বৈশ্বিক প্রভাব প্রদর্শনের একটি বড় সুযোগ। উল্লেখযোগ্য, কিমের বেইজিং সফর ছয় বছর পর হতে যাচ্ছে। তিনি সর্বশেষ ২০১৯ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকীতে যোগ দিয়েছিলেন, আর ২০১৮ সালে তিনবার বেইজিং সফর করেছিলেন। এর আগে ২০১৫ সালের ভিক্টরি ডে কুচকাওয়াজে কিমের পরিবর্তে উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সম্প্রতি কিমের সঙ্গে পুনরায় বৈঠক করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানে আলোচনা করতে চান। এ প্রেক্ষাপটে বেইজিংয়ের কুচকাওয়াজ চীনা প্রেসিডেন্টকে কূটনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের সুযোগ দিচ্ছে। পশ্চিমা অধিকাংশ নেতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বিভক্ত হওয়ার কারণে কুচকাওয়াজে অংশ নিচ্ছেন না। বিশেষ নজর রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের ওপর। তিনি আমন্ত্রিত হলেও এখনো সম্মতি জানাননি। যদি লি অংশ নেন, তবে এটি হবে বহু বছর পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের মুখোমুখি সাক্ষাতের প্রথম সুযোগ। তবে কুচকাওয়াজে রাশিয়া, বেলারুশ ও ইরানের নেতাদের উপস্থিতির কারণে তার অংশগ্রহণ কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
চীনের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ শুধুমাত্র সামরিক প্রদর্শনী নয়; এটি একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চ যেখানে শি জিনপিং, পুতিন ও কিমের উপস্থিতি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।