০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

গোপালগঞ্জ ব্রিজের মুখ ভরাট করে সরকারি জমি দখল

সাইফুল ইসলাম
  • আপডেট সময়ঃ ১০:১৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৭ বার পড়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ বিলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া কয়েক হাজার কৃষকের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের নড়াইল-ফুকরা সড়কের ছোটবাহিরবাগ মিয়াবাড়ি সংলগ্ন এলজিইডির ব্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে রোববার (১৭ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা গেছে, ছোটবাহিরবাগ গ্রামের প্রভাবশালী বিকু মিয়া, রইজ মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও আকবর মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সঙ্গে ৬৭৬ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমি বালু দিয়ে ভরাট করছেন। ইতোমধ্যে বাঁশ ও নেট দিয়ে এলজিইডি ব্রিজের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বিস্তীর্ণ বিলের পানি নিষ্কাশিত হতে পারবে না। ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে। চরম দুর্ভোগে পড়বেন কৃষকরা।

সুমন মিয়া, নাজমুল মল্লিক, মশিউর মল্লিক, টুন্নু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, ওই এলাকার বিলাঞ্চলে তাঁদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। ব্রিজের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকেরা। কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় ব্রিজের মুখের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অভিযুক্তদের একজন রইজ মিয়া। তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুধু একা নয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থানে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে ওখানে কিছুটা সরকারি জমি আছে।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি দখল এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।’

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

গোপালগঞ্জ ব্রিজের মুখ ভরাট করে সরকারি জমি দখল

আপডেট সময়ঃ ১০:১৯:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি ব্রিজের মুখ বন্ধ করে সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে।

ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ বিলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এছাড়া কয়েক হাজার কৃষকের ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও কৃষিপণ্য পরিবহনের পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের নড়াইল-ফুকরা সড়কের ছোটবাহিরবাগ মিয়াবাড়ি সংলগ্ন এলজিইডির ব্রিজে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে রোববার (১৭ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

অভিযোগে জানা গেছে, ছোটবাহিরবাগ গ্রামের প্রভাবশালী বিকু মিয়া, রইজ মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও আকবর মোল্লাসহ কয়েকজন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সঙ্গে ৬৭৬ নম্বর দাগের সরকারি খাস জমি বালু দিয়ে ভরাট করছেন। ইতোমধ্যে বাঁশ ও নেট দিয়ে এলজিইডি ব্রিজের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিজের নিচ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বিস্তীর্ণ বিলের পানি নিষ্কাশিত হতে পারবে না। ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সঙ্গে বর্ষাকালে নৌকায় ধান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে। চরম দুর্ভোগে পড়বেন কৃষকরা।

সুমন মিয়া, নাজমুল মল্লিক, মশিউর মল্লিক, টুন্নু মিয়াসহ একাধিক কৃষক জানান, ওই এলাকার বিলাঞ্চলে তাঁদের কয়েক শ’ বিঘা আবাদি জমি রয়েছে। ব্রিজের মুখ বালু দিয়ে ভরাট করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করা হলে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। এতে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন কৃষকেরা। কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষায় ব্রিজের মুখের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

অভিযুক্তদের একজন রইজ মিয়া। তার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি শুধু একা নয়। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থানে চলাচলের জন্য রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। তবে ওখানে কিছুটা সরকারি জমি আছে।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহীন মিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ক্ষতি বা সরকারি সম্পত্তি দখল এমন কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।’