বেতাগীতে জমি বিরোধে শিশুকে মারধরের অভিযোগ, মামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি
- আপডেট সময়ঃ ০৮:২২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৯ বার পড়া হয়েছে।

সোহেল রানা ( বরগুনা ):
বরগুনার বেতাগীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক শিশুকে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলা ঘিরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। মামলার আসামি মোকলেছুর রহমানের দাবি, জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে তাঁকে হয়রানি করতে এ মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। এ ছাড়া ঘটনার দিন শিশুটির বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষকের দেওয়া তথ্যও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি বরগুনার বেতাগী উপজেলার বিবিচিনি ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি শিশুকে মারধরের অভিযোগ এবং ঘটনার সময়সংক্রান্ত ভিন্ন তথ্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে গরিয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি জমিতে ঘর নির্মাণ করেন উত্তর রানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। স্থানীয়দের দাবি, এ সময় তাঁর সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ জন লোক ছিলেন। অন্যদিকে, জমিটি প্রায় ৫০ বছর ধরে মোকলেছুর রহমানের পরিবারের ভোগদখলে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওই জমিতে মোকলেছুর রহমানের মা মরহুমা জয়নব বিবির কবর রয়েছে বলেও তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে এ বিরোধের জেরে এর আগে সংবাদ সম্মেলন এবং সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
গত ১৮ অক্টোবর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মিত ঘরটির পাশে ফারুক হোসেন ও মরহুমা জয়নব বিবির নামসংবলিত দুটি সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে।
জমিতে ঘর নির্মাণের বিষয়ে জানতে মোকলেছুর রহমান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে গেলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় সোবহান মোল্লাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের স্ত্রী তাজনিপা আক্তার ও মোকলেছুর রহমানের স্ত্রী ময়না বেগমের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এরপর আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তাঁর স্ত্রী তাজনিপা আক্তার অভিযোগ করেন, ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাঁদের ছেলে এমএম আনকে মারধর করেন মোকলেছুর রহমান। এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৫৪ ধারায় ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মামলা করা হয়। মামলায় মোকলেছুর রহমানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর অপূর্ব কান্তি মন্ডল।
তবে শিশুটিকে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণিশিক্ষক। তাঁদের ভাষ্য, ঘটনার দিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এমএম আন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল। পরে তার মা তাজনিপা আক্তার অসুস্থতার কথা জানিয়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে যান। তাজনিপা আক্তারও গরিয়াবুনিয়া ফুলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
মামলার আসামি মোকলেছুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমি নিয়ে তাঁদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। তবে তিনি শিশুটিকে মারধর করেননি। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাঁকে হয়রানি করতে এ মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অন্যদিকে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বক্তব্য জানতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীরা কয়েকজনের বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বুলবুল বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। নিজের সম্পত্তির দখল বুঝে নিতে চান বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি এজমালি সম্পত্তি এবং এর দুটি অংশ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল নির্দিষ্ট দাগের জমির দখল নিজের বলে দাবি করছেন।
এদিকে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তাঁর স্ত্রী তাজনিপা আক্তারের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মোকলেছুর রহমান। অভিযোগে তাঁদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেন।
জমির প্রকৃত মালিকানা, দখলসংক্রান্ত বিরোধ এবং শিশুকে মারধরের অভিযোগ—সব বিষয়েই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



















