১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

বাগমারায় প্রেমিকার অনশনে বাড়ি ছেড়ে উধাও পরিবারের সদস্য, সেই লেটিশিয়ার বিরুদ্ধে প্রেমিকের মায়ের মামলা

রিপোর্টার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে।

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় বিয়ের দাবিতে সৌদি আরব প্রবাসী প্রেমিকা লেটিশিয়া বিশ্বাসের অনশনের এক মাস হতে চলছে। তবে এখনো প্রেমিক নীরব হোসেন ও তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে ফেরেননি বলে দাবি করেছেন অনশনরত লেটিশিয়া। উল্টো এক মাসের মধ্যেই এবার তাঁর বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করেছেন প্রেমিকের মা বুলবুলি। ওই মামলায় স্থানীয় গোলাপ হোসেনের নামও যুক্ত করা হয়েছে। তার সহযোগিতায় নাকি নিরব হোসেনের প্রেমিকা লেটিশিয়া ওই বাড়িতে অবস্থান করছে। এতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

ঘটনাটি উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রাড়োপাড়া মহল্লার। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ১১ অক্টোবর প্রেমিক নীরব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন নাটোরের লালপুর উপজেলার বাসিন্দা লেটিশিয়া বিশ্বাস (২৯)। তিনি দাবি করেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নীরবের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের আশ্বাসে নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে নীরব ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি।

লেটিশিয়ার অভিযোগ, অনশন শুরু করার দিন তাঁকে বাড়িতে দেখেই নীরবের মা বাড়ির প্রধান দরজায় তালা দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে এক মাস পেরিয়ে গেলেও নীরব কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিসহ পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ের দেখভাল তাঁকেই করতে হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে অবস্থান করা লেটিশিয়ার বিরুদ্ধে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নীরবের মা। রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ৬৯০পি/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে লেটিশিয়ার বিরুদ্ধে বাড়ির প্রধান দরজা ও শয়নকক্ষের তালা ভেঙে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িতে থাকা গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাদী। পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষের যোগসাজশে বাদীর বাড়িতে দুটি লাল রঙের গরু, একটি বকনা ও একটি এঁড়ে বাছুর রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা। এ ছাড়া ঘরে থাকা বাক্সে নগদ ২,৫০,০০০/- (দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং শুকেচে ১.৫০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ ভরি রৌপ্য অলংকার রয়েছে। বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরিচর্যার অভাবে গবাদি পশু মারা যেতে পারে এবং কষ্টার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার প্রতিপক্ষরা চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করতে পারে।

মামলার বিষয়টি সামনে আসার পর লেটিশিয়া বলেন, বিয়ের দাবি নিয়ে আমি যেদিন থেকে অনশন শুরু করি, আমাকে দেখেই নীরবের মা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যান। এক মাস হয়ে গেল, তাঁরা কেউ বাড়িতে আসেননি। এই এক মাস ধরে তাঁদের পরিবারের দেখভাল আমিই করছি। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বাড়ির সবকিছুর দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে। অথচ এখনো আমার বিয়ে হয়নি, আমি তাঁদের পরিবারের কেউ নই। তারপরও এত দিন ধরে এই বাড়িতে পড়ে আছি।

তিনি আরও বলেন, এই এক মাসে আমার খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। কীভাবে দিন কাটাচ্ছি, কী খাচ্ছি, কোথায় থাকছি, এসব জানারও কেউ নেই। অথচ এখন আমার নামেই আদালতে মামলা করেছেন নীরবের মা। আমি তো কারও ক্ষতি করতে আসিনি। আমি শুধু আমার সঙ্গে করা বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং টাকা-পয়সার বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। আমি এর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়সংগত ফয়সালা চাই।

লেটিশিয়ার দাবি, নীরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখেই অর্থ দিয়েছিলেন তিনি। নীরবের পড়াশোনা, পরিবারের জন্য জমি কেনা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন কেনা এবং জমি বন্ধক থেকে ছাড়ানোসহ বিভিন্ন কাজে ওই অর্থ ব্যয় হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ফেরতের দাবি, অন্যদিকে প্রেমিকের পরিবারের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধেই সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে লেটিশিয়ার। দীর্ঘ এক মাস ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তিনি এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি চান।

এ বিষয়ে নীরব হোসেনের মা বুলবুলি বেগম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার গরু-ছাগল হাঁস মুরগী, বাসা বাড়ির সব থুয়ে আমি বাইরে আছি। তারা ভোগ দখল করছে তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি আমার ওগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন জগতের কোথাও আছে কারো বাড়ি ঘরের তালা ভাঙ্গে দখল দেওয়া। যেটাই হোক আমি ওই মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দেব না। তাতে আমার যাই হয় হোক।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য
=

বাগমারায় প্রেমিকার অনশনে বাড়ি ছেড়ে উধাও পরিবারের সদস্য, সেই লেটিশিয়ার বিরুদ্ধে প্রেমিকের মায়ের মামলা

আপডেট সময়ঃ ০৮:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় বিয়ের দাবিতে সৌদি আরব প্রবাসী প্রেমিকা লেটিশিয়া বিশ্বাসের অনশনের এক মাস হতে চলছে। তবে এখনো প্রেমিক নীরব হোসেন ও তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে ফেরেননি বলে দাবি করেছেন অনশনরত লেটিশিয়া। উল্টো এক মাসের মধ্যেই এবার তাঁর বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করেছেন প্রেমিকের মা বুলবুলি। ওই মামলায় স্থানীয় গোলাপ হোসেনের নামও যুক্ত করা হয়েছে। তার সহযোগিতায় নাকি নিরব হোসেনের প্রেমিকা লেটিশিয়া ওই বাড়িতে অবস্থান করছে। এতে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

ঘটনাটি উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার রাড়োপাড়া মহল্লার। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলে গত ১১ অক্টোবর প্রেমিক নীরব হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন নাটোরের লালপুর উপজেলার বাসিন্দা লেটিশিয়া বিশ্বাস (২৯)। তিনি দাবি করেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নীরবের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ের আশ্বাসে নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে নীরব ও তাঁর পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রায় ১২ লাখ টাকা দিয়েছেন তিনি।

লেটিশিয়ার অভিযোগ, অনশন শুরু করার দিন তাঁকে বাড়িতে দেখেই নীরবের মা বাড়ির প্রধান দরজায় তালা দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে এক মাস পেরিয়ে গেলেও নীরব কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য বাড়িতে ফিরে আসেননি। এ দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগিসহ পরিবারের বিভিন্ন বিষয়ের দেখভাল তাঁকেই করতে হচ্ছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে অবস্থান করা লেটিশিয়ার বিরুদ্ধে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নীরবের মা। রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা নং ৬৯০পি/২০২৬ দায়ের করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে লেটিশিয়ার বিরুদ্ধে বাড়ির প্রধান দরজা ও শয়নকক্ষের তালা ভেঙে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়িতে থাকা গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাদী। পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষের যোগসাজশে বাদীর বাড়িতে দুটি লাল রঙের গরু, একটি বকনা ও একটি এঁড়ে বাছুর রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৩,০০,০০০/- (তিন লাখ) টাকা। এ ছাড়া ঘরে থাকা বাক্সে নগদ ২,৫০,০০০/- (দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার) টাকা এবং শুকেচে ১.৫০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৩ ভরি রৌপ্য অলংকার রয়েছে। বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পরিচর্যার অভাবে গবাদি পশু মারা যেতে পারে এবং কষ্টার্জিত টাকা ও স্বর্ণালংকার প্রতিপক্ষরা চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করতে পারে।

মামলার বিষয়টি সামনে আসার পর লেটিশিয়া বলেন, বিয়ের দাবি নিয়ে আমি যেদিন থেকে অনশন শুরু করি, আমাকে দেখেই নীরবের মা বাড়িতে তালা দিয়ে চলে যান। এক মাস হয়ে গেল, তাঁরা কেউ বাড়িতে আসেননি। এই এক মাস ধরে তাঁদের পরিবারের দেখভাল আমিই করছি। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিসহ বাড়ির সবকিছুর দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে। অথচ এখনো আমার বিয়ে হয়নি, আমি তাঁদের পরিবারের কেউ নই। তারপরও এত দিন ধরে এই বাড়িতে পড়ে আছি।

তিনি আরও বলেন, এই এক মাসে আমার খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। কীভাবে দিন কাটাচ্ছি, কী খাচ্ছি, কোথায় থাকছি, এসব জানারও কেউ নেই। অথচ এখন আমার নামেই আদালতে মামলা করেছেন নীরবের মা। আমি তো কারও ক্ষতি করতে আসিনি। আমি শুধু আমার সঙ্গে করা বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং টাকা-পয়সার বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটিও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। আমি এর সঠিক তদন্ত ও ন্যায়সংগত ফয়সালা চাই।

লেটিশিয়ার দাবি, নীরবের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে তাঁর ওপর বিশ্বাস রেখেই অর্থ দিয়েছিলেন তিনি। নীরবের পড়াশোনা, পরিবারের জন্য জমি কেনা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন কেনা এবং জমি বন্ধক থেকে ছাড়ানোসহ বিভিন্ন কাজে ওই অর্থ ব্যয় হয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রমাণও তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একদিকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও অর্থ ফেরতের দাবি, অন্যদিকে প্রেমিকের পরিবারের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সর্বশেষ তাঁর বিরুদ্ধেই সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে লেটিশিয়ার। দীর্ঘ এক মাস ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তিনি এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি চান।

এ বিষয়ে নীরব হোসেনের মা বুলবুলি বেগম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার গরু-ছাগল হাঁস মুরগী, বাসা বাড়ির সব থুয়ে আমি বাইরে আছি। তারা ভোগ দখল করছে তাই আমি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি আমার ওগুলো ফিরে পাওয়ার জন্য। তিনি আরো বলেন জগতের কোথাও আছে কারো বাড়ি ঘরের তালা ভাঙ্গে দখল দেওয়া। যেটাই হোক আমি ওই মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দেব না। তাতে আমার যাই হয় হোক।