০২:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রশ্নফাঁসের কারিগর খাদ্য কর্মকর্তা হারুন,বদলি’র আড়ালে আইনি ফাঁকি না নেপথ্যে কোনো অদৃশ্য খেলা ?

আলিফ হোসেন
  • আপডেট সময়ঃ ১১:৪০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ৫৭ বার পড়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিফুড) হারুন অর রশিদ প্রশ্নফাঁসের কারিগর।আলোচিত এই দুর্নীতিবাজকে বাঁচাতে একটি প্রভাবশালী মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। তার অপরাধ আড়াল ও তাকে শাস্তি না দিয়ে তড়িঘড়ি বদলি করা হয়েছে। তার রহস্যময় বদলি নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়,বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন,প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে ?
জানা গেছে,গত ১০ অক্টোবরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের পর যখন প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছিল, তখনই সামনে আসে ৩৬তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং সিরাজগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক(ডিসিফুড) হারুন-অর-রশিদের নাম।সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের গ্রেফতারকৃত ৭ সদস্যের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং মোবাইল কললিস্টে হারুনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলার পর থেকেই শুরু হয় তার এক নজিরবিহীন ‘লুকোচুরি খেলা’।আর তার বিষয়ে খাদ্য বিভাগ থাকে নিরব। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে গ্রেফতার কিংবা সাময়িক বরখাস্তের বদলে তাকে কেবল ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরে ‘সংযুক্ত’ বা বদলি করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের মতো এতো বড় অপরাধ করার পরেও তার যদি কোনো দৃশ্যমান শাস্তি না হয় তাহলে বুঝতে হবে তার খুঁটির জোর কোথায় ? আর এর নেপথ্যে রয়েছে কারা ? হারুন-অর-রশিদের লুকোচুরি খেলা, প্রশ্নফাঁসের নেটওয়ার্ক এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের আলোকে অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-
প্রথমত, হারুনের ‘অদৃশ্য’ হয়ে যাওয়া ও নাটকীয় লুকোচুরি গণমাধ্যমে তার নাম আসার পর থেকেই আইনি নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কৌশল বদল করতে থাকেন হারুন-অর-রশিদ। ডিজিটাল আত্মগোপন: তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির ট্র্যাকিং এড়াতে তিনি নিজের অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত একাধিক মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বন্ধ করে দেন।
অফিস ফাঁকি ও রহস্যময় হাজিরা গত ১৫ অক্টোবরের পর থেকে তিনি সিরাজগঞ্জের কার্যালয়ে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ২৫ অক্টোবর (রোববার) আকস্মিকভাবে তিনি অফিসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান করে স্থানীয় একটি গোডাউন পরিদর্শনের অজুহাতে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন এবং পুনরায় নিখোঁজ হন। এটা গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আইনি পলায়ন এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা সচল রাখতেই এভাবে দফায় দফায় স্থান পরিবর্তন করছেন ও আত্মগোপনে থাকছেন।
দ্বিতীয়ত, ১১ দপ্তরের প্রশ্নফাঁসের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেটওয়ার্ক তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, হারুন অর-রশিদ সাধারণ কোনো সহযোগী নন, বরং তিনি ছিলেন এই বিশাল সিন্ডিকেটের অন্যতম নীতি-নির্ধারক ও লিয়াজোঁ কর্মকর্তা। বিসিএস নেটওয়ার্কের অপব্যবহার: ৩৬তম বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে খাদ্য কর্মকর্তা হওয়া হারুন বিভিন্ন দপ্তরে ছড়িয়ে থাকা তার ব্যাচমেট ও পরিচিত কর্মকর্তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতেন। ১১টি সংস্থায় জাল ছড়ানো: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, খাদ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (NBR) মোট ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে এই চক্রটি যুক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা কর হচ্ছে। হারুন মূলত বিভিন্ন দপ্তরের প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার গোপন তথ্যফাঁসের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৃতীয়ত,‘বদলি’ বনাম ‘দেন-দরবার’: সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও আইনি বিশ্লেষণ একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী ও কোটি যুবকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে গ্রেফাতারের পরিবর্তে কেবল ঢাকায় ‘সংযুক্ত’ করার ঘটনাটি প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে এক গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত কেন নয় ? সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিললে বা তিনি পলাতক থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হারুনকে খাদ্য অধিদপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে, যা কোনো শাস্তি নয়।
দেন-দরবারের সন্দেহ: সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, হারুনকে আইনি প্রক্রিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে বা তদন্তের গতি ধীর করতে কোনো শক্তিশালী মহল পর্দার আড়াল থেকে ‘দেন-দরবার’ করছে। তাকে ঢাকায় সংযুক্ত করার মাধ্যমে মূলত একটি ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়া হলো কিনা, সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। সিন্ডিকেট আড়ালের চেষ্টা হারুন যদি সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে মুখ খোলেন, তবে প্রশাসনের আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসতে পারে এই ভয়েই তাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
চতুর্থত, তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে এই মামলার তদন্ত করছে। মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে।
হারুন-অর-রশিদের এই বদলি যদি কোনো অপরাধীকে বাঁচানোর অপকৌশল হয়ে থাকে, তবে তা দেশের ভেঙে পড়া নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর সাধারণ চাকরি প্রার্থীদের আস্থা পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে। তবে সিআইডি সূত্রের দাবি, হারুনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অধিদপ্তরে যোগদানের পর বা তার আগেই যেকোনো মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
প্রশ্নফাঁসের কারিগর খাদ্য কর্মকর্তা হারুন বদলি’র আড়ালে আইনি ফাঁকি নাকি নেপথ্যের কোনো বড় অদৃশ্য খেলা ? হারুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক রথী-মহারথী বা নেপথ্যের কুশীলবদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে সেই আশঙ্কায় হারুনকে বাঁচাতে তার গ্রেফতার এড়িয়ে তাকে বদলি করা হয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।অনেকে বলছে,এর সঙ্গে রাস্ট্র ও সরকারের ভাবমুর্তি জড়িয়ে রয়েছে,কাজেই হারুনের দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রশ্নফাঁসের কারিগর খাদ্য কর্মকর্তা হারুন,বদলি’র আড়ালে আইনি ফাঁকি না নেপথ্যে কোনো অদৃশ্য খেলা ?

আপডেট সময়ঃ ১১:৪০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ডিসিফুড) হারুন অর রশিদ প্রশ্নফাঁসের কারিগর।আলোচিত এই দুর্নীতিবাজকে বাঁচাতে একটি প্রভাবশালী মহল তৎপর হয়ে উঠেছে। তার অপরাধ আড়াল ও তাকে শাস্তি না দিয়ে তড়িঘড়ি বদলি করা হয়েছে। তার রহস্যময় বদলি নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়,বইছে মুখরোচক নানা গুঞ্জন,প্রতিনিয়ত গুঞ্জনের ডালপালা মেলছে ?
জানা গেছে,গত ১০ অক্টোবরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের পর যখন প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছিল, তখনই সামনে আসে ৩৬তম বিসিএস ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং সিরাজগঞ্জের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক(ডিসিফুড) হারুন-অর-রশিদের নাম।সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের গ্রেফতারকৃত ৭ সদস্যের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং মোবাইল কললিস্টে হারুনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলার পর থেকেই শুরু হয় তার এক নজিরবিহীন ‘লুকোচুরি খেলা’।আর তার বিষয়ে খাদ্য বিভাগ থাকে নিরব। কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে গ্রেফতার কিংবা সাময়িক বরখাস্তের বদলে তাকে কেবল ঢাকায় খাদ্য অধিদপ্তরে ‘সংযুক্ত’ বা বদলি করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশ্নফাঁসের মতো এতো বড় অপরাধ করার পরেও তার যদি কোনো দৃশ্যমান শাস্তি না হয় তাহলে বুঝতে হবে তার খুঁটির জোর কোথায় ? আর এর নেপথ্যে রয়েছে কারা ? হারুন-অর-রশিদের লুকোচুরি খেলা, প্রশ্নফাঁসের নেটওয়ার্ক এবং সামগ্রিক প্রেক্ষাপটের আলোকে অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-
প্রথমত, হারুনের ‘অদৃশ্য’ হয়ে যাওয়া ও নাটকীয় লুকোচুরি গণমাধ্যমে তার নাম আসার পর থেকেই আইনি নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কৌশল বদল করতে থাকেন হারুন-অর-রশিদ। ডিজিটাল আত্মগোপন: তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির ট্র্যাকিং এড়াতে তিনি নিজের অফিসিয়াল ও ব্যক্তিগত একাধিক মোবাইল ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর বন্ধ করে দেন।
অফিস ফাঁকি ও রহস্যময় হাজিরা গত ১৫ অক্টোবরের পর থেকে তিনি সিরাজগঞ্জের কার্যালয়ে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ২৫ অক্টোবর (রোববার) আকস্মিকভাবে তিনি অফিসে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। মাত্র দুই ঘণ্টা অবস্থান করে স্থানীয় একটি গোডাউন পরিদর্শনের অজুহাতে দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন এবং পুনরায় নিখোঁজ হন। এটা গ্রেফতার এড়ানোর কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আইনি পলায়ন এবং উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা সচল রাখতেই এভাবে দফায় দফায় স্থান পরিবর্তন করছেন ও আত্মগোপনে থাকছেন।
দ্বিতীয়ত, ১১ দপ্তরের প্রশ্নফাঁসের ‘মাস্টারমাইন্ড’ নেটওয়ার্ক তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্র অনুযায়ী, হারুন অর-রশিদ সাধারণ কোনো সহযোগী নন, বরং তিনি ছিলেন এই বিশাল সিন্ডিকেটের অন্যতম নীতি-নির্ধারক ও লিয়াজোঁ কর্মকর্তা। বিসিএস নেটওয়ার্কের অপব্যবহার: ৩৬তম বিসিএসের নন-ক্যাডার থেকে খাদ্য কর্মকর্তা হওয়া হারুন বিভিন্ন দপ্তরে ছড়িয়ে থাকা তার ব্যাচমেট ও পরিচিত কর্মকর্তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতেন। ১১টি সংস্থায় জাল ছড়ানো: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, খাদ্য মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (NBR) মোট ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ জালিয়াতির সঙ্গে এই চক্রটি যুক্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা কর হচ্ছে। হারুন মূলত বিভিন্ন দপ্তরের প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি বা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখার গোপন তথ্যফাঁসের মাধ্যম হিসেবে কাজ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তৃতীয়ত,‘বদলি’ বনাম ‘দেন-দরবার’: সামগ্রিক প্রেক্ষাপট ও আইনি বিশ্লেষণ একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী ও কোটি যুবকের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে গ্রেফাতারের পরিবর্তে কেবল ঢাকায় ‘সংযুক্ত’ করার ঘটনাটি প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে এক গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত কেন নয় ? সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের প্রাথমিক প্রমাণ মিললে বা তিনি পলাতক থাকলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspension) করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু হারুনকে খাদ্য অধিদপ্তরে ন্যস্ত করা হয়েছে, যা কোনো শাস্তি নয়।
দেন-দরবারের সন্দেহ: সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, হারুনকে আইনি প্রক্রিয়ার হাত থেকে বাঁচাতে বা তদন্তের গতি ধীর করতে কোনো শক্তিশালী মহল পর্দার আড়াল থেকে ‘দেন-দরবার’ করছে। তাকে ঢাকায় সংযুক্ত করার মাধ্যমে মূলত একটি ‘সেফ প্যাসেজ’ বা নিরাপদ আশ্রয়ের সুযোগ দেওয়া হলো কিনা, সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। সিন্ডিকেট আড়ালের চেষ্টা হারুন যদি সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে মুখ খোলেন, তবে প্রশাসনের আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নাম বেরিয়ে আসতে পারে এই ভয়েই তাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
চতুর্থত, তদন্তের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ বর্তমানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এবং সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিট যৌথভাবে এই মামলার তদন্ত করছে। মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলার সূত্র ধরে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজা হচ্ছে।
হারুন-অর-রশিদের এই বদলি যদি কোনো অপরাধীকে বাঁচানোর অপকৌশল হয়ে থাকে, তবে তা দেশের ভেঙে পড়া নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর সাধারণ চাকরি প্রার্থীদের আস্থা পুরোপুরি ধূলিসাৎ করে দেবে। তবে সিআইডি সূত্রের দাবি, হারুনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং অধিদপ্তরে যোগদানের পর বা তার আগেই যেকোনো মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
প্রশ্নফাঁসের কারিগর খাদ্য কর্মকর্তা হারুন বদলি’র আড়ালে আইনি ফাঁকি নাকি নেপথ্যের কোনো বড় অদৃশ্য খেলা ? হারুনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক রথী-মহারথী বা নেপথ্যের কুশীলবদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে সেই আশঙ্কায় হারুনকে বাঁচাতে তার গ্রেফতার এড়িয়ে তাকে বদলি করা হয়েছে বলে মনে করছে সচেতন মহল।অনেকে বলছে,এর সঙ্গে রাস্ট্র ও সরকারের ভাবমুর্তি জড়িয়ে রয়েছে,কাজেই হারুনের দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।