নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আবারও চালু হলো সাজেক পর্যটনকেন্দ্র; ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ভ্রমণে বাধা নেই
- আপডেট সময়ঃ ০৭:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২৩ বার পড়া হয়েছে।

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
প্রশাসনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অবরোধ শিথিলের পর প্রথম দিনেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর সাত শতাধিক পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করেছেন। এতে দীর্ঘদিন স্থবির হয়ে থাকা পর্যটন খাতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করেছে।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে জেলা প্রশাসন। প্রায় চার দিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থেকে আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে সাজেকের সব পর্যটনকেন্দ্র। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা আশরাফীর স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আগের নির্দেশনা পরিবর্তন করে সাজেক ভ্যালির সব পর্যটনকেন্দ্র পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। ওই নির্দেশনায় সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধের আগে ১১ অক্টোবর সকাল থেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি শুরু করে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। এতে সাজেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পর্যটকবাহী যানবাহনসহ বিভিন্ন গাড়ি আটকে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা এবং শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দুই সংগঠন ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সংগঠন দুটির নেতারা জানান, সাজেক মাচলং বাজারের দুর্গাপূজা উদযাপন কমিটির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এবং ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাজেকের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা, জানমালের সুরক্ষা এবং তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপূজার পর দাবিগুলো পূরণ না হলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে তারা জানিয়েছে।
সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র পুনরায় খুলে দেওয়ায় রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহন ও অন্যান্য পর্যটননির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গাপূজার ছুটিতে সাজেক ভ্রমণের পরিকল্পনা করা পর্যটকদের জন্য এ সিদ্ধান্ত স্বস্তিদায়ক।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুক্রবার থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। এদিকে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার রাতে সাজেক ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সুপর্ণ দেব বর্মন বলেন, দীর্ঘদিন পর্যটক না আসায় পাহাড়ের পর্যটন খাত ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিল। দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যাপ্ত পর্যটক এলে গত কয়েক দিনের ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। ইতিমধ্যে পূজার ছুটি ঘিরে সাজেকের অধিকাংশ রিসোর্ট ও কটেজের কক্ষ বুকিং শুরু হয়েছে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, খাগড়াছড়ি থেকে আসা পর্যটকেরা নিরাপদে সাজেকে পৌঁছেছেন।




















