১০:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

সাইফুল ইসলাম
  • আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে।

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়েছে। আজ শনিবার র‍্যালি , আলোচনা সভা, মসজিদে দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দিবসটি উপলক্ষে এদিন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. কে এম বাবর বলেন, ৭ই নভেম্বর শুধু একটি দিবস নয়, এটি আমাদের জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের পথ নির্দেশক হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে। সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ ও জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য যা যা করার দরকার ছিল তিনি অত্যন্ত সততার সঙ্গে সবকিছু করেছিলেন। তারই আদর্শ ধারণ করে তার সুযোগ্য পুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একই পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রধান নীতি সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থকে দেখতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এদেশ ও এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে স্থানীয়ভাবে কাজ করতে হবে। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা মডেল বিশ্বিবদ্যালয়ে পরিণত করতে পারব।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, আমরা যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হই, তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওনার দলের প্রধান স্লোগান—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি এই দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসি এবং বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু দেখতে চাই, তাহলে আমাদের সকলের এই বিষয়টি মানা উচিত যে, ব্যক্তি ও বড় নয়, দল ও বড় নয়। বাংলাদেশ সবার আগে। আমরা যদি উন্নত হতে চাই, তাহলে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়েছে ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫। এদিন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। তার বিরল নেতৃত্বেই দেশে সংহতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন সংকটে পড়েছিলো, তখন সিপাহি জনতা ঐক্য গড়ে জাতিকে সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়ে ছিলো। গৌরবের সেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থী তথা তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

এছাড়াও সভায় বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগসঃ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিস্তারিত লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

আপলোডকারীর তথ্য
=

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

আপডেট সময়ঃ ০৭:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

সাইফুল ইসলাম গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করা হয়েছে। আজ শনিবার র‍্যালি , আলোচনা সভা, মসজিদে দোয়া মাহফিল ও মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

দিবসটি উপলক্ষে এদিন সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. কে এম বাবর বলেন, ৭ই নভেম্বর শুধু একটি দিবস নয়, এটি আমাদের জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের পথ নির্দেশক হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে। সিপাহি জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ ও জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য যা যা করার দরকার ছিল তিনি অত্যন্ত সততার সঙ্গে সবকিছু করেছিলেন। তারই আদর্শ ধারণ করে তার সুযোগ্য পুত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক একই পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রধান নীতি সবার আগে বাংলাদেশের স্বার্থকে দেখতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, এদেশ ও এ বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকারের হাতকে শক্তিশালী করতে স্থানীয়ভাবে কাজ করতে হবে। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা মডেল বিশ্বিবদ্যালয়ে পরিণত করতে পারব।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, আমরা যার আদর্শে অনুপ্রাণিত হই, তিনি শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওনার দলের প্রধান স্লোগান—ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি এই দেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসি এবং বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু দেখতে চাই, তাহলে আমাদের সকলের এই বিষয়টি মানা উচিত যে, ব্যক্তি ও বড় নয়, দল ও বড় নয়। বাংলাদেশ সবার আগে। আমরা যদি উন্নত হতে চাই, তাহলে আমাদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। আর আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসতে হবে।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনা হয়েছে ৭ই নভেম্বর ১৯৭৫। এদিন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন। তার বিরল নেতৃত্বেই দেশে সংহতি প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখন সংকটে পড়েছিলো, তখন সিপাহি জনতা ঐক্য গড়ে জাতিকে সংকট উত্তরণের পথ দেখিয়ে ছিলো। গৌরবের সেই সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থী তথা তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।

এছাড়াও সভায় বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।