শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম বয়কট ঘোষণা করায় আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি নিয়ে তৃণমূলে ক্ষোভ
- আপডেট সময়ঃ ০৫:৪৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে।

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের আমরুল ইউনিয়নের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি বয়কটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
গতকাল রোববার আমরুল ইউনিয়নের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপি মোরশেদ মিল্টনের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচি বিএনপির ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তবে কর্মসূচিতে ইউনিয়ন বিএনপির কিছু নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে সোমবার (৫ অক্টোবর) ‘বগুড়া প্রতিদিন’ নামের একটি অনিবন্ধিত অনলাইন মাধ্যমের একটি অডিও সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। সেখানে আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিককে বিভিন্ন বিএনপির কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার অভিযোগ করতে শোনা যায়। একইসঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাদের আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগও করেন তিনি।
এ নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ্ব তমেজ উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি বাদশা সরকার, উপজেলা বিএনপির সহ-স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক এম আর মানিক, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মশিউর রহমান বাবুসহ আমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাদের অভিযোগ, আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক ও যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান রাজা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নেতাকর্মীরা জানান, ২০২৫ সালের ৯ মার্চ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত দলীয় প্যাডে ওই দুই নেতাকে ১৫ দিনের মধ্যে ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এ অবস্থায় বর্তমান কমিটির কার্যক্রম নিয়ে ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শাহিন সানি বলেন, “মেয়াদোত্তীর্ণ, জনবিচ্ছিন্ন, কর্মীবিচ্ছিন্ন ও দলবিচ্ছিন্ন দুই নেতার কথায় বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না। গতকালের কর্মসূচি ছিল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনুষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, তারাই সেখানে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। জেলা বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে আমরুল ইউনিয়নবাসীকে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই একটি স্বচ্ছ ও গণমুখী কমিটি উপহার দেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।”
অন্যদিকে আমরুল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক আকসার আলী, ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আমজাদ হোসেন মুহুরী, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক, ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক ইসলামসহ তৃণমূল নেতাকর্মীরা বর্তমান কমিটির বিষয়ে দলীয়ভাবে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তারা আরো জানিয়েছেন, ইউনিয়ন বিএনপির আব্বার কমিটির তাদের ব্যর্থতা ঘোচাতে তো প্রচারণায় অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন গুপ্ত পেজে তারা মাননীয় এমপি মহোদয়কে নিয়ে আজেবাজে মন্তব্য করে বসছেন। যা দলের জন্য এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর।
শাজাহানপুর উপজেলা যুবদলের সভাপতি বেলাল হোসেন বাবু ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা যুক্ত বিবৃতিতে জানান, আমরুল ইউনিয়নের তৃণমূল বিএনপির ঐক্যবদ্ধ আছে। শুধুমাত্র দুই সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি তাদেরকে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আমরা আশা করছি উপজেলা বিএনপি খুব শীঘ্রই ব্যর্থ কমিটি ভেঙে একটি নতুন কমিটি উপহার দেবে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান বিদ্যুৎ জানান, “রফিক ও রাজাকে আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক কমিটির গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল দেড় বছর পূর্বে কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে যাথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে আমরা খুব দ্রুতই তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া জেলা বিএনপির সাথে কথা বলে খুব দ্রুতই এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটির দেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “গতকাল শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমার পূর্বনির্ধারিত দাওয়াত ছিল। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় নেতাকর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই। তবে ইউনিয়ন বিএনপি ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে দেখেছি। কিছু নেতাকর্মী কর্মসূচি বয়কট করেছেন—বিষয়টি আজ শুনলাম।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে ইউনিয়ন বিএনপির দুই সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির দুজন নেতাকে এ বিষয়ে কথা বলতে শুনেছি। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে যতটুকু জানতে পেরেছি, এলাকার নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক নেই। ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে তারা জড়িত—এমন অভিযোগও জানতে পেরেছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই দল তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
এদিকে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আমরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক স্থবিরতা দূর করে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও সক্রিয় কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।




















